আর আপন প্রাণকে বলিব, প্রাণ, বহুবৎসরের নিমিত্ত তোমার জন্য অনেক দ্রব্য সঞ্চিত আছে; বিশ্রাম কর, ভোজন পান কর, আমোদ প্রমোদ কর।
Cross references
এবং যাহাতে কিছুই সঞ্চয় কর নাই, উত্তম উত্তম দ্রব্যে পরিপূর্ণ এমন সকল গৃহ, ও যাহা খুদ নাই, এমন সকল খনিত কূপ, এবং যাহা প্রস্তুত কর নাই, এমন সকল দ্রাক্ষাক্ষেত্র ও জিতক্ষেত্র পাইয়া যখন তুমি ভোজন করিয়া তৃপ্ত হইবে,
তুমি ভোজন করিয়া তৃপ্ত হইলে, উত্তম গৃহ নির্ম্মাণ করিয়া বাস করিলে,
মনুষ্য, অবলাজাত সকলে, অল্পায়ু ও উদ্বেগে পরিপূর্ণ।
তাহারা আপন আপন শিশুদিগকে মেষপালের ন্যায় বাহিরে চালায়, তাহাদের সন্তানগণ নৃত্য করে।
আমি যদি স্বর্ণকে আশাভূমি করিয়া থাকি, সুবর্ণকে বলিয়া থাকি, তুমি মম আশ্রয়,
সেই বিপৎকালে আমি কেন ভয় করিব, যখন তাহাদের অপরাধ আমাকে বেষ্টন করে, যাহারা আমাকে বঞ্চনা করে,
সে জীবদ্দশায় আপন প্রাণকে আশীর্ব্বাদ করিত; আর তুমি আপনার মঙ্গল করিলে লোকে তোমার স্তব করে।
ঈশ্বরও তোমাকে চিরতরে বিনষ্ট করিবেন, তোমাকে ধরিয়া তাম্বু হইতে টানিয়া লইবেন, জীবিতদের দেশ হইতে তোমাকে উন্মুলন করিবেন। সেলা।
তোমরা উপদ্রবে নির্ভর করিও না, অপহরণের শ্লাঘা করিও না; ঐশ্বর্য্যের বাহুল্য হইলে তাহাতে মন দিও না।
জ্ঞানবানদের ধনই তাহাদের মুকুট; কিন্তু হীনবুদ্ধিদের অজ্ঞানতা অজ্ঞানতামাত্র।
ধনবানের ধনই তাহার দৃঢ় নগর, তাহার বোধে তাহা উচ্চ প্রাচীর।
তুমি কি ধনের দিকে চাহিতেছ? তাহা আর নাই; কারণ ঈগল যেমন আকাশে উড়িয়া যায়, তেমনি ধন আপনার জন্য নিশ্চয়ই পক্ষ প্রস্তুত করে।
কল্যের বিষয়ে গর্ব্বকথা কহিও না; কেননা এক দিন কি উপস্থিত করিবে, তাহা তুমি জান না।
হে যুবক, তুমি তোমার তরুণ বয়সে আনন্দ কর, যৌবনকালে তোমার হৃদয় তোমাকে আহ্লাদিত করুক, তুমি তোমার মনোগত পথসমূহে ও তোমার চক্ষুর দৃষ্টিতে চল; কিন্তু জানিও, ঈশ্বর এই সকল ধরিয়া তোমাকে বিচারে আনিবেন।
ধিক্ তাহাদিগকে, যাহারা গৃহের সঙ্গে গৃহ যোগ করে, ক্ষেত্রের সঙ্গে ক্ষেত্র সংযোগ করে, অবশেষে আর স্থান থাকে না, তোমাদিগকে দেশমধ্যে একাকী বাস করান হয়!
ধিক্ তাহাদিগকে, যাহারা খুব সকালে উঠে, যেন সুরার অনুধাবন করিতে পারে; যাহারা অনেক রাত্রি বসিয়া থাকে, যাবৎ না দ্রাক্ষারস তাহাদিগকে উত্তপ্ত করে!
কিন্তু দেখ, আমোদ প্রমোদ, বলদ ঘাতন ও মেষ হনন, মাংস ভক্ষণ ও দ্রাক্ষারস পান। ‘আইস, আমরা ভোজন-পান করি, কেননা কল্য মরিব।’
আর ইফ্রয়িম বলিয়াছে, আমি ত ঐশ্বর্য্যবান্ হইলাম, আপনার নিমিত্ত সংস্থান করিলাম; আমার সমস্ত শ্রমে এমন কোন অপরাধ পাওয়া যাইবে না, যাহাতে পাপ হয়।
উহারা অমঙ্গলের দিনকে আপনাদের হইতে দূরে রাখিতেছে ও দৌরাত্ম্যের আসন নিকটবর্ত্তী করিতেছে;
এই জন্য সে আপন জালের উদ্দেশে বলিদান করে, ও আপন খালুইয়ের উদ্দেশে ধূপ জ্বালায়; কেননা তদ্দ্বারা তাহার অংশ পুষ্ট ও তাহার খাদ্য মেদোযুক্ত হয়।
তোমরা পৃথিবীতে আপনাদের জন্য ধন সঞ্চয় করিও না; এখানে ত কীটে ও মর্চ্চ্যায় ক্ষয় করে, এবং এখানে চোরে সিঁধ কাটিয়া চুরি করে।
এক জন ধনবান্ লোক ছিল, সে বেগুনে কাপড় ও সূক্ষ্ম বস্ত্র পরিধান করিত, এবং প্রতিদিন জাঁকজমকের সহিত আমোদ প্রমোদ করিত।
কিন্তু আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে;
ইফিষে পশুদের সহিত যে যুদ্ধ করিয়াছি, তাহা যদি মানুষের মত করিয়া থাকি, তবে তাহাতে আমার কি ফল দর্শে? মৃতেরা যদি উত্থাপিত না হয়, তবে “আইস, আমরা ভোজন পান করি, কেননা কল্য মরিব”।
তাহাদের পরিণাম বিনাশ; উদর তাহাদের ঈশ্বর, এবং নিজ লজ্জাতেই তাহাদের গৌরব; তাহারা পার্থিব বিষয় ভাবে।
কিন্তু যে বিলাসিনী, সে জীবদ্দশায় মৃতা।
যাহারা এই যুগে ধনবান্, তাহাদিগকে এই আজ্ঞা দেও, যেন তাহারা গর্ব্বিতমনা না হয়, এবং ধনের অস্থিরতার উপরে নয়, কিন্তু যিনি ধনবানের ন্যায় সকলই আমাদের ভোগার্থে যোগাইয়া দেন, সেই ঈশ্বরেরই উপরে প্রত্যাশা রাখে;
প্রচণ্ড, সদ্বিদ্বেষী, বিশ্বাসঘাতক, দুঃসাহসী, গর্ব্বান্ধ, ঈশ্বরপ্রিয় নয়, বরং বিলাসপ্রিয় হইবে;
এখন দেখ, তোমাদের কেহ কেহ বলে, অদ্য কিম্বা কল্য আমরা অমুক নগরে যাইব, এবং সেখানে এক বৎসর যাপন করিব, বাণিজ্য করিব ও লাভ করিব।
এখন দেখ, হে ধনবানেরা, তোমাদের উপরে যে সকল দুর্দ্দশা আসিতেছে, সে সকলের জন্য রোদন ও হাহাকার কর।
তোমরা পৃথিবীতে সুখভোগ ও বিলাস করিয়াছ, তোমরা হত্যার দিনে আপন আপন হৃদয় তৃপ্ত করিয়াছ।
কেননা পরজাতীয়দের বাসনা সাধন করিয়া, লম্পটতা, সুখাভিলাষ, মদ্যপান, রঙ্গরস পানার্থক সভা ও ঘৃণার্হ প্রতিমাপূজারূপ পথে চলিয়া যে কাল অতীত হইয়াছে, তাহাই যথেষ্ট।
সে যত আত্মগৌরব ও বিলাস করিত, তাহাকে তত যন্ত্রণা ও শোক দেও। কেননা সে মনে মনে বলিতেছে, আমি রাণীর মত সিংহাসনে বসিয়া আছি, বিধবা নহি, কোন মতে শোক দেখিব না।