আমরা সকলে ভল্লূকের ন্যায় গর্জ্জন করি, ঘুঘুর ন্যায় দারুণ আর্ত্তরব করি; আমরা বিচারের অপেক্ষা করি, কিন্তু তাহা নাই; ত্রাণের অপেক্ষা করি, কিন্তু তাহা আমাদের হইতে দূরবর্ত্তী।
Cross references
বিনা রৌদ্রে আমি ম্লান হইয়া বেড়াইতেছি, আমি সমাজে উঠিয়া দাঁড়াই, আর্ত্তনাদ করি।
আমি যখন চুপ করিয়াছিলাম, আমার অস্থি সকল ক্ষয় পাইতেছিল, কারণ আমি সমস্ত দিন আর্ত্তনাদ করিতেছিলাম।
আমি অবসন্ন ও অতিশয় ক্ষুণ্ণ হইয়াছি, চিত্তের ব্যাকুলতায় আর্ত্তনাদ করিতেছি।
সত্যই তাঁহার পরিত্রাণ তাহাদেরই নিকটবর্ত্তী, যাহারা তাঁহাকে ভয় করে, যেন আমাদের দেশে গৌরব বাস করিতে পায়।
কুকর্ম্মের অনুগামীরা নিকটবর্ত্তী; তাহারা তোমার ব্যবস্থা হইতে দূরবর্ত্তী।
পরিত্রাণ দুষ্টগণ হইতে দূরবর্ত্তী, কারণ তাহারা তোমার বিধি সকলের অন্বেষণ করে না।
তালচোঁচের ন্যায়, সারসের ন্যায় আমি চিঁচিঁ শব্দ করিতেছিলাম, ঘুঘুর ন্যায় কাতরোক্তি করিতেছিলাম; ঊর্দ্ধদিকে দৃষ্টি করিতে করিতে আমার চক্ষু ক্ষীণ হইল; হে সদাপ্রভু, আমি উপদ্রুত, তুমি আমার প্রতিভূ হও।
জালে বদ্ধ হরিণের ন্যায় তোমার পুত্রগণ মূর্চ্ছিত হইয়াছে, প্রতি সড়কের মাথায় পড়িয়া আছে; তাহারা সদাপ্রভুর ক্রোধে তোমার ঈশ্বরের ধমকে পরিপূর্ণ।
এই জন্য বিচার আমাদের হইতে দূরে থাকে, ধার্ম্মিকতা আমাদের সঙ্গ ধরিতে পারে না; আমরা দীপ্তির অপেক্ষা করি, কিন্তু দেখ, অন্ধকার; আলোকের অপেক্ষা করি, কিন্তু তিমিরে ভ্রমণ করি।
আমরা শান্তির অপেক্ষা করিলাম, কিন্তু কিছুই মঙ্গল হইল না; আরোগ্যকালের অপেক্ষা করিলাম, কিন্তু দেখ, উদ্বেগ উপস্থিত।
হায় হায়, আমার মস্তক কেন জলময় হইল না! আমার চক্ষু কেন অশ্রুর উনুই হইল না! তাহা হইলে আমি আমার জাতির কন্যার নিহতদের বিষয়ে দিবারাত্র রোদন করিতে পারিতাম।
কিন্তু তাহাদের মধ্যে যাহারা উত্তীর্ণ হয়, তাহারা রক্ষা পাইবে, তাহারা পর্ব্বতগণের উপরে থাকিয়া উপত্যকাস্থ ঘুঘুর ন্যায় হইবে, সকলে আপন আপন অপরাধের নিমিত্ত বিলাপ করিবে।
তাহারা অন্তঃকরণের সহিত আমার কাছে ক্রন্দন করে নাই, কিন্তু আপন আপন শয্যাতে হাহাকার করে; তাহারা শস্য ও দ্রাক্ষারসের জন্য একত্র হয়, ও আমাকে ছাড়িয়া বিপথগমন করে।
কিন্তু সকলে পলায়ন করিতেছে; দাঁড়াও, দাঁড়াও, [বলিলেও] কেহ মুখ ফিরায় না।