হায় হায়, আমার মস্তক কেন জলময় হইল না! আমার চক্ষু কেন অশ্রুর উনুই হইল না! তাহা হইলে আমি আমার জাতির কন্যার নিহতদের বিষয়ে দিবারাত্র রোদন করিতে পারিতাম।
Cross references
আমার নেত্রজল দিবারাত্র আমার ভক্ষ্য হইল, কেননা লোকে সমস্ত দিন আমাকে বলে, ‘তোমার ঈশ্বর কোথায়?’
দেখ, আমি ভ্রমণ করিয়া দূরে যাইতাম, প্রান্তরে প্রবাস করিতাম; সেলা।
আমার চক্ষু হইতে জলধারা বহিতেছে, কারণ লোকে তোমার ব্যবস্থা পালন করে না।
এইজন্য সিব্মার দ্রাক্ষালতার নিমিত্ত যাসেরের রোদনকালে আমি রোদন করিব; হে হিশ্বোন, হে ইলিয়ালী, আমি নেত্রজলে তোমাকে সিক্ত করিব; কেননা তোমার গ্রীষ্মের ফল ও তোমার শস্যের উপরে রণনাদ হইল।
এই নিমিত্ত আমি বলিলাম, আমাকে ছাড়িয়া অন্য দিকে দৃষ্টিপাত কর, আমি তীব্র রোদন করিব; আমার জাতিরূপ কন্যার সর্ব্বনাশ বিষয়ে আমাকে সান্ত্বনা করিতে চেষ্টা করিও না।
এমন হইলেও তাহার বিশ্বাসঘাতিনী ভগিনী যিহূদা সমস্ত অন্তঃকরণের সহিত নয়, কেবল কপটভাবে আমার প্রতি ফিরিয়াছে, ইহা সদাপ্রভু কহেন।
‘হায় আমার অন্ত্র! হায় আমার অন্ত্র! আমি হৃদয়ে ব্যথিত; আমার হৃদয় ধুক্ ধুক্ করিতেছে; আমি নীরব থাকিতে পারি না; কেননা হে আমার প্রাণ, তুমি তূরীর রব ও যুদ্ধের সিংহনাদ শুনিয়াছ।
আমি কিরূপে তোমাকে ক্ষমা করিব? তোমার সন্তানগণ আমাকে ত্যাগ করিয়াছে; অনীশ্বরদের নাম লইয়া শপথ করিয়াছে; আমি তাহাদিগকে পরিতৃপ্ত করিলে তাহারা ব্যভিচার করিল, ও দলে দলে বেশ্যার বাটীতে গিয়া একত্র হইল।
হে আমার জাতির কন্যে, তুমি চট পরিধান কর, ভস্মে লুণ্ঠিত হও, একমাত্র পুত্রবিয়োগ জন্য শোকের ন্যায় শোক কর, তীব্র বিলাপ কর; কেননা বিনাশক অকস্মাৎ আমাদের উপরে আসিবে।
আমি আমার জাতির কন্যার ভগ্নতা প্রযুক্ত ভগ্ন হইয়াছি, আমি মলিন ও চকিত হইয়াছি।
তোমরা যদি এ কথা না শুন, তবে তোমাদের দর্প প্রযুক্ত আমার প্রাণ নিরালায় রোদন করিবে, এবং আমার চক্ষু অশ্রুপাত করিবে, অশ্রুধারা বহিবে, কেননা সদাপ্রভুর পাল বন্দি হইল।
আর তুমি তাহাদিগকে এই কথা বল, দিবারাত্র আমার চক্ষু হইতে জলধারা পড়ুক, তাহা নিবৃত্ত না হউক, কেননা আমার জাতির অনূঢ়া কন্যা মহাভঙ্গে ও বিষম আঘাতে ভগ্ন হইল।
আমার নেত্রযুগল অশ্রুপাতে ক্ষীণ হইয়াছে, আমার অন্ত্র দগ্ধ হইতেছে; আমার জাতিরূপ কন্যার ভঙ্গ প্রযুক্ত আমার যকৃৎ মৃত্তিকায় চালা যাইতেছে, কেননা নগরের চকে চকে বালকবালিকা ও স্তন্যপায়ী শিশু মূর্চ্ছাপন্ন হয়।
লোকদের হৃদয় প্রভুর কাছে ক্রন্দন করিয়াছে; অহো সিয়োন-কন্যার প্রাচীর! দিবারাত্র অশ্রুধারা জলস্রোতের ন্যায় বহিয়া যাউক, আপনাকে কিছু বিশ্রাম দিও না, তোমার চক্ষুর তারাকে ক্ষান্ত হইতে দিও না।
আমার জাতিরূপ কন্যার ভঙ্গ প্রযুক্ত আমার চক্ষু হইতে জলধারা বহিতেছে।
আর হে মনুষ্য-সন্তান, তুমি দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ কর; কটিদেশ ভাঙ্গিয়া মনস্তাপপূর্ব্বক তাহাদের সাক্ষাতে দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ কর।
রক্তপাত করণার্থে তোমার মধ্যে লোকে উৎকোচ গ্রহণ করিয়াছে; তুমি সুদ ও বৃদ্ধি লইয়াছ, উপদ্রব করিয়া লোভে প্রতিবাসীদের কাছে লাভ করিয়াছ, এবং আমাকেই ভুলিয়া গিয়াছ, ইহা প্রভু সদাপ্রভু বলেন।
তাহারা সকলে পারদারিক, রুটী-ওয়ালার উত্তপ্ত তুন্দুরস্বরূপ; ময়দা ছানিলে পর তাড়ী মাতিয়া উঠা পর্য্যন্ত রুটী-ওয়ালা আগুন না উষ্কাইয়া নিবৃত্ত থাকে।