তালচোঁচের ন্যায়, সারসের ন্যায় আমি চিঁচিঁ শব্দ করিতেছিলাম, ঘুঘুর ন্যায় কাতরোক্তি করিতেছিলাম; ঊর্দ্ধদিকে দৃষ্টি করিতে করিতে আমার চক্ষু ক্ষীণ হইল; হে সদাপ্রভু, আমি উপদ্রুত, তুমি আমার প্রতিভূ হও।
Cross references
বিনয় করি, তুমি অঙ্গীকার কর, তোমার কাছে তুমিই আমার প্রতিভূ হও; আর কে আছে যে, আমার হাতে তালী দিবে?
আমি শৃগালগণের ভ্রাতা হইয়াছি, উষ্ট্রপক্ষীদের বন্ধু হইয়াছি।
আমি ডাকিতে ডাকিতে ক্লান্ত হইয়াছি, আমার কণ্ঠ শুষ্ক হইয়াছে; আমার ঈশ্বরের অপেক্ষা করিতে করিতে আমার নয়নযুগল নিস্তেজ হইয়াছে।
আমার হৃদয় তৃণের ন্যায় রৌদ্রাহত হইয়া শুষ্ক হইয়াছে; আমি আহার করিতে ভুলিয়া যাই।
তোমার বচনের প্রতীক্ষায় আমার চক্ষু ক্ষীণ হয়, আমি বলি, তুমি কখন আমাকে সান্ত্বনা করিবে?
তুমি মঙ্গলের জন্য নিজ দাসের প্রতিভূ হও, অহঙ্কারীরা আমার প্রতি উপদ্রব না করুক।
আমি তোমার দিকে চক্ষু তুলি, তুমিই স্বর্গে সমাসীন।
আমাকে উত্তর দানে সত্বর হও, সদাপ্রভু, আমার উৎসাহ শেষ হইয়াছে; আমা হইতে তোমার মুখ লুক্কায়িত করিও না, পাছে আমি গর্ত্তগামীদের তুল্য হইয়া পড়ি।
আমরা সকলে ভল্লূকের ন্যায় গর্জ্জন করি, ঘুঘুর ন্যায় দারুণ আর্ত্তরব করি; আমরা বিচারের অপেক্ষা করি, কিন্তু তাহা নাই; ত্রাণের অপেক্ষা করি, কিন্তু তাহা আমাদের হইতে দূরবর্ত্তী।
এখনও আমাদের চক্ষু ক্ষীণ হইয়া পড়িতেছে, মিথ্যা সাহায্যের প্রত্যাশায়; আমরা অপেক্ষা করিতে করিতে এমন জাতির অপেক্ষায় রহিয়াছি, যে রক্ষা করিতে পারে না।
কিন্তু তাহাদের মধ্যে যাহারা উত্তীর্ণ হয়, তাহারা রক্ষা পাইবে, তাহারা পর্ব্বতগণের উপরে থাকিয়া উপত্যকাস্থ ঘুঘুর ন্যায় হইবে, সকলে আপন আপন অপরাধের নিমিত্ত বিলাপ করিবে।
হাঁ, ইহা নিরূপিত; [নীনবী] বিবস্ত্রা হইয়াছে, নীতা হইতেছে, ও তাহার দাসীগণ কপোতের ধ্বনির ন্যায় শোকধ্বনি করিতেছে, বক্ষঃস্থলে করাঘাত করিতেছে, নীনবী ত জন্মাবধি জলপূর্ণ পুষ্করিণীস্বরূপা,
কিন্তু সকলে পলায়ন করিতেছে; দাঁড়াও, দাঁড়াও, [বলিলেও] কেহ মুখ ফিরায় না।