কত কাল আমি প্রাণের মধ্যে ভাবনা করিব, চিত্তের মধ্যে বিষাদকে দিনমানে রাখিব? কত কাল শত্রু আমার উপরে উচ্চ থাকিবে?
Cross references
তাহাতে শৌল দায়ূদের বিষয়ে আরও ভীত হইলেন, আর শৌল সর্ব্বদাই দায়ূদের শত্রু থাকিলেন।
মনুষ্য আপন শত্রুকে পাইলে কি তাহাকে মঙ্গলের পথে ছাড়িয়া দেয়? অদ্য তুমি আমার প্রতি যাহা করিলে, তাহার প্রতিশোধে সদাপ্রভু তোমার মঙ্গল করুন।
রাজা আমাকে কহিলেন, তোমার ত পীড়া হয় নাই, তবে মুখ কেন বিষণ্ণ হইয়াছে? ইহা ত চিত্তের বিষাদ ব্যতিরেকে আর কিছু নয়। তখন আমি অতিমাত্র ভীত হইলাম।
ইষ্টের কহিলেন, এক জন বিপক্ষ ও শত্রু, সে এই দুষ্ট হামন। তখন হামন রাজার ও রাণীর সাক্ষাতে ত্রাসযুক্ত হইল।
আমি কি সমুদ্র না তিমি যে, আমার উপরে তুমি প্রহরী রাখিতেছ?
বিক্রমীর বলের কথা হইলে, দেখ, তিনি বিক্রমী, বিচারের কথা হইলে, কে আমার জন্য সময় নিরূপণ করিবে?
যদি বলি, আমি বিলাপ ভুলিয়া যাইব, মুখের বিষণ্ণতা দূর করিব, প্রসন্নচিত্ত হইব,
আমি যদি দুষ্ট হই, আমার সন্তাপ হইবে; যদি ধার্ম্মিক হই, মস্তক তুলিতে পারিব না, আমি অবমাননায় পরিপূর্ণ হইয়াছি, আর আপনার দুঃখ দেখিতেছি।
দেখ, আমি অগ্রসর হই, কিন্তু তিনি তথায় নাই, পশ্চাদ্দিকে যাই, তাঁহাকে দেখিতে পাই না;
হে সদাপ্রভু, ফিরিয়া আইস, আমার প্রাণ উদ্ধার কর, তোমার দয়াগুণে আমাকে পরিত্রাণ কর।
পাছে [শত্রু] সিংহের ন্যায় আমার প্রাণ বিদীর্ণ করে, খণ্ড খণ্ড করে, যখন উদ্ধারকারী কেহ নাই।
যদি আমি প্রণয়ীর অপকার করিয়া থাকি, (বরং যে অকারণে আমার বৈরী, তাহাকেও উদ্ধার করিয়াছি,)
তুমি শিশু ও দুগ্ধপোষ্যদের মুখ হইতে শক্তির ভিত্তিমূল স্থাপন করিয়াছ, তোমার বৈরিগণহেতুই করিয়াছ, যেন শত্রু ও বিপক্ষকে ক্ষান্ত কর।
শত্রুরা শেষ হইয়াছে, চিরতরে উৎসন্ন হইয়াছে; তুমি নগর সকল ধ্বংস করিয়াছ; তাহাদের নাম পর্য্যন্ত লুপ্ত হইয়াছে।
পিতৃহীনের ও উপদ্রুত লোকদের বিচার করিবার জন্য, যেন মৃত্তিকাজাত মর্ত্ত্য আর দুর্দ্দান্ত না থাকে।
দুষ্টগণ হইতে কর, যাহারা আমাকে নষ্ট করে, প্রাণনাশক শত্রুগণ হইতে কর, যাহারা আমাকে বেষ্টন করে।
যাহারা আমাকে দেখে, সকলে আমাকে ঠাট্টা করে, তাহারা ওষ্ঠ বাহির করিয়া মাথা নাড়িয়া বলে,
সেই মিথ্যাবাদী ওষ্ঠাধর সকল বোবা হউক, যাহারা ধার্ম্মিকের বিপক্ষে দর্পকথা কহে, অহঙ্কার ও তুচ্ছজ্ঞান সহকারে কহে।
আমি ত পড়িতে উদ্যত; আমার ব্যথা সতত আমার গোচরে রহিয়াছে।
আমি ইহা স্মরণ করিয়া অন্তরে আপন প্রাণ ঢালি, কেননা আমি লোকারণ্যের সহিত যাত্রা করিতাম, তাহাদিগকে ঈশ্বরের গৃহে লইয়া যাইতাম, আনন্দ ও স্তবগানের ধ্বনির সহিত বহুলোক পর্ব্ব পালন করিত।
আমি আপন শৈলস্বরূপ ঈশ্বরকে বলিব, কেন আমাকে ভুলিয়া গিয়াছ? আমি কেন শত্রুর দৌরাত্ম্যে বিষণ্ণ হইয়া বেড়াইতেছি?
তুমি জাতিগণের মধ্যে আমাদিগকে প্রবাদের বিষয়, লোকবৃন্দের মধ্যে শিরশ্চালনের আস্পদ করিতেছ।
হে ঈশ্বর, বিপক্ষ কত দিন তিরস্কার করিবে? শত্রু কি চিরকাল তোমার নাম তুচ্ছ করিবে?
স্মরণ কর, শত্রু সদাপ্রভুকে তিরস্কার করিয়াছে, মূঢ় জাতি তোমার নাম তুচ্ছ করিয়াছে।
সঙ্কটের দিনে আমি প্রভুর অন্বেষণ করিলাম; রাত্রিকালে আমার হস্ত বিস্তারিত থাকিল, সঙ্কুচিত হইল না; আমার প্রাণ প্রবোধ মানিল না।
তাঁহার দয়া কি চিরতরে শেষ হইয়াছে? তাঁহার প্রতিজ্ঞা কি পুরুষানুক্রমে বিফল থাকিবে?
যখন আমি বলিতাম, আমার চরণ বিচলিত হইল, তখন, হে সদাপ্রভু, তোমার দয়া আমাকে সুস্থির রাখিত।
মৃত্যুর রজ্জু আমাকে বেষ্টন করিল, পাতালের কষ্ট আমাকে পাইয়া বসিল, আমি সঙ্কটে ও দুঃখে পড়িলাম।
আমাদিগকে কৃপা কর, হে সদাপ্রভু, কৃপা কর, কেননা আমরা অবজ্ঞায় নিতান্ত পূর্ণ হইয়াছি।
[আমার] দক্ষিণে নিরীক্ষণ করিয়া দেখ, আমাকে চিনে এমন কেহই নাই, আমার আশ্রয় বিনষ্ট হইল; কেহই আমার প্রাণের তত্ত্ব করে না।
শত্রু আমার প্রাণকে তাড়না করিয়াছে; সে আমার জীবন ভূমিতে চূর্ণ করিয়াছে; সে আমাকে অন্ধকারে বাস করাইয়াছে, চিরকালের মৃতগণের সদৃশ করিয়াছে।
আনন্দিত মন মুখকে প্রফুল্ল করে, কিন্তু মনের ব্যথায় আত্মা ভগ্ন হয়।
আর সে ত যাবজ্জীবন অন্ধকারে আহার করে, এবং তাহার বিষম বিরক্তি, পীড়া ও ক্রোধ উপস্থিত হয়।
আহা, আমি যদি দুঃখে সাত্ত্বনা পাইতাম! আমার মধ্যে হৃদয় মূর্চ্ছিত।
আমার যাতনা নিত্যস্থায়ী ও আমার ক্ষত অপ্রতিকার্য্য কেন? তাহা চিকিৎসা অগ্রাহ্য করিতেছে। তুমি কি আমার কাছে মিথ্যা স্রোতের ও অস্থায়ী জলের ন্যায় হইবে?
তুমি বলিয়াছ, হায় হায়, ধিক্ আমাকে! কেননা সদাপ্রভু আমার ব্যথার উপরে দুঃখ যোগ করিয়াছেন; আমি কোঁকাইতে কোঁকাইতে শ্রান্ত হইয়াছি, কিছুমাত্র বিশ্রাম পাইতেছি না।
তাহার বিপক্ষগণ মস্তকস্বরূপ হইয়াছে, তাহার শত্রুবর্গ ভাগ্যবান হইয়াছে; কেননা তাহার অধর্ম্মের বাহুল্য প্রযুক্ত সদাপ্রভু তাহাকে ক্লিষ্ট করিয়াছেন; তাহার শিশু বালকেরা বিপক্ষের অগ্রে অগ্রে বন্দি হইয়া গিয়াছে।
তাহার অশৌচ বস্ত্রের অঞ্চলে ছিল, সে আপনার শেষফল মনে করিত না, এই জন্য আশ্চর্য্যরূপে অধঃপতিত হইল; তাহাকে সান্ত্বনা করিবার কেহ নাই; আমার দুঃখ দেখ, হে সদাপ্রভু, কারণ শত্রু দর্প করিয়াছে;
কেন চিরতরে আমাদিগকে ভুলিয়া যাইবে? কেন এত দিন আমাদিগকে ত্যাগ করিয়া থাকিবে?
হে আমার বিদ্বেষিণি, আমার বিরুদ্ধে আনন্দ করিও না; পতিত হইলেও আমি উঠিব, অন্ধকারে বসিলেও সদাপ্রভু আমার আলোকস্বরূপ হইবেন।