ধিক্ তোমাদিগকে, যাহারা এক্ষণে পরিতৃপ্ত, কারণ তোমরা ক্ষুধিত হইবে; ধিক্ তোমাদিগকে, যাহারা এক্ষণে হাস্য কর, কারণ তোমরা বিলাপ ও রোদন করিবে।
Cross references
এবং যাহাতে কিছুই সঞ্চয় কর নাই, উত্তম উত্তম দ্রব্যে পরিপূর্ণ এমন সকল গৃহ, ও যাহা খুদ নাই, এমন সকল খনিত কূপ, এবং যাহা প্রস্তুত কর নাই, এমন সকল দ্রাক্ষাক্ষেত্র ও জিতক্ষেত্র পাইয়া যখন তুমি ভোজন করিয়া তৃপ্ত হইবে,
পরিতৃপ্তেরা খাদ্যের জন্য বেতনগ্রাহী হইল, ক্ষুধিতেরা বিশ্রাম প্রাপ্ত হইল; এমন কি, বন্ধ্যা স্ত্রী সপ্ত পুত্র প্রসব করিল, আর বহুপুত্রা ক্ষীণা হইল।
দুষ্টগণের আনন্দগান ক্ষণমাত্রস্থায়ী, পামরের হর্ষ নিমেষমাত্রস্থায়ী?
তাহারা আপন আপন শিশুদিগকে মেষপালের ন্যায় বাহিরে চালায়, তাহাদের সন্তানগণ নৃত্য করে।
কিন্তু আমি কীট, মানব নহি, মনুষ্যদের নিন্দাস্পদ, লোকদের অবজ্ঞাত।
সে আপন পিতৃবংশের কাছে যাইবে, তাহারা দীপ্তির দর্শন কখনও পাইবে না।
হাস্যকালেও মনোদুঃখ হয়, আর আনন্দের পরিণাম খেদ।
পাছে অতি তৃপ্ত হইলে আমি তোমাকে অস্বীকার করিয়া বলি, সদাপ্রভু কে? কিম্বা পাছে দরিদ্র হইলে চুরি করিয়া বসি, ও আমার ঈশ্বরের নাম অপব্যবহার করি।
আমি হাস্যের বিষয়ে কহিলাম, উহা ক্ষিপ্ত; এবং আমোদের বিষয়ে কহিলাম, উহা কি করিবে?
হাস্য হইতে মনস্তাপ ভাল, কারণ মুখের বিষণ্ণতায় হৃদয় প্রসন্ন হয়।
কেননা যেমন হাঁড়ীর নীচে কাঁটার শব্দ, তেমনি হীনবুদ্ধির হাস্য; ইহাও অসার।
আর তাহারা ক্লিষ্ট ও ক্ষুধিত হইয়া দেশের মধ্য দিয়া গমন করিবে, এবং ক্ষুধিত হইলে রাগ করিয়া আপনাদের রাজাকে ও আপনাদের ঈশ্বরকে শাপ দিবে, এবং ঊর্দ্ধদিকে মুখ তুলিবে;
কেহ দক্ষিণ হস্তের দিকে টানিয়া লয়, তথাপি ক্ষুধিত থাকে; আবার কেহ বাম হস্তের দিকে গ্রাস করে, কিন্তু তৃপ্ত হয় না; প্রতিজন আপন আপন বাহুর মাংস ভোজন করে;
ইহাতে আমার সমস্ত কটিদেশে অঙ্গগ্রহ হইল, প্রসবকারিণীর ব্যথার ন্যায় আমার ব্যথা ধরিল; আমি এমন নুইয়া পড়িয়াছি যে, শুনিতে পাই না, আমি এমন বিহ্বল হইয়াছি যে, দেখিতে পাই না।
নূতন দ্রাক্ষারস শোকার্ত্ত হইয়াছে, দ্রাক্ষালতা ম্লান হইয়াছে, প্রফুল্লচিত্ত সকলে দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিতেছে।
কিন্তু ইহারাও দ্রাক্ষারসে ভ্রান্ত ও সুরাপানে টলটলায়মান হইয়াছে; যাজক ও ভাববাদী সুরাপানে ভ্রান্ত হইয়াছে; তাহারা দ্রাক্ষারসে কবলিত ও সুরাপানে টলটলায়মান হয়, তাহারা দর্শনে ভ্রান্ত ও বিচারে বিচলিত হয়।
এই জন্য প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, দেখ, আমার দাসেরা ভোজন করিবে, কিন্তু তোমরা ক্ষুধার্ত্ত থাকিবে; দেখ, আমার দাসেরা পান করিবে, কিন্তু তোমরা তৃষ্ণার্ত্ত থাকিবে; দেখ, আমার দাসেরা আনন্দ করিবে, কিন্তু তোমরা লজ্জিত হইবে;
তাঁহারা দ্রাক্ষারস পান করিতে করিতে সুবর্ণময়, রৌপ্যময়, পিত্তলময়, লৌহময়, কাষ্ঠময় ও প্রস্তরময় দেবগণের প্রশংসা করিতে লাগিলেন।
আমি তোমাদের উৎসব সকল শোকে, তোমাদের সমুদয় গীত বিলাপে, পরিণত করিব; সকলের কটিদেশে চটপরিহিত করিব, ও সকলের মস্তকে টাক পড়াইব; একমাত্র পুত্রশোকের ন্যায় দেশকে শোক করাইব, এবং তাহার শেষকাল তীব্র দুঃখের দিন হইবে।
কেননা, জড়িত কন্টকের ন্যায় ও মদ্যপানে আর্দ্র হইলেও, তাহারা শুষ্ক খড়ের ন্যায় নিঃশেষে অগ্নি-ভক্ষিত হইবে।
পরে রাজা অতিথিদিগকে দেখিবার জন্যে ভিতরে আসিয়া এমন এক ব্যক্তিকে দেখিতে পাইলেন, যাহার বিবাহবস্ত্র ছিল না;
তখন তাহারা তাঁহাকে উপহাস করিল, কেননা তাহারা জানিত, সে মরিয়া গিয়াছে।
কিন্তু ঈশ্বর তাহাকে কহিলেন, হে নির্ব্বোধ, অদ্য রাত্রিতেই তোমার প্রাণ তোমা হইতে দাবি করিয়া লওয়া যাইবে, তবে তুমি এই যে আয়োজন করিলে, এ সকল কাহার হইবে?
সেই স্থানে রোদন ও দন্তঘর্ষণ হইবে; তখন তোমরা দেখিবে, অব্রাহাম, ইস্হাক ও যাকোব এবং ভাববাদী সকলেই ঈশ্বরের রাজ্যে রহিয়াছেন, আর তোমাদিগকে বাহিরে ফেলিয়া দেওয়া হইতেছে।
তখন ফরীশীরা, যাহারা টাকা ভাল বাসিত, এ সকল কথা শুনিতেছিল, আর তাহারা তাঁহাকে উপহাস করিতে লাগিল।
আর কুৎসিত ব্যবহার এবং প্রলাপ কিম্বা শ্লেষোক্তি, এই সকল অনুচিত ব্যবহার যেন না হয়, বরং যেন ধন্যবাদ দেওয়া হয়।
আমি অবনত হইতে জানি, উপচয় ভোগ করিতেও জানি; প্রত্যেক বিষয়ে ও সর্ব্ববিষয়ে আমি তৃপ্ত কি ক্ষুধিত হইতে, উপচয় কি অনাটন ভোগ করিতে দীক্ষিত হইয়াছি।
লোকে যখন বলে, শান্তি ও অভয়, তখনই তাহাদের কাছে যেমন গর্ভবতীর প্রসব-বেদনা উপস্থিত হইয়া থাকে, তেমনি আকস্মিক বিনাশ উপস্থিত হয়; আর তাহারা কোন ক্রমে এড়াইতে পারিবে না।
তাপিত ও শোকার্ত্ত হও, এবং রোদন কর; তোমাদের হাস্য শোকে, এবং আনন্দ বিষাদে পরিণত হউক।
তুমি কহিতেছ, আমি ধনবান্, ধন সঞ্চয় করিয়াছি, আমার কিছুরই অভাব নাই; কিন্তু জান না যে, তুমিই দুর্ভাগ্য, কৃপাপাত্র, দরিদ্র, অন্ধ ও উলঙ্গ।
সে যত আত্মগৌরব ও বিলাস করিত, তাহাকে তত যন্ত্রণা ও শোক দেও। কেননা সে মনে মনে বলিতেছে, আমি রাণীর মত সিংহাসনে বসিয়া আছি, বিধবা নহি, কোন মতে শোক দেখিব না।