লোকে যখন বলে, শান্তি ও অভয়, তখনই তাহাদের কাছে যেমন গর্ভবতীর প্রসব-বেদনা উপস্থিত হইয়া থাকে, তেমনি আকস্মিক বিনাশ উপস্থিত হয়; আর তাহারা কোন ক্রমে এড়াইতে পারিবে না।
Cross references
শত্রু বলিয়াছিল, আমি পশ্চাৎ ধাবিত হইব, উহাদের সঙ্গ ধরিব, লুট বিভাগ করিয়া লইব; উহাদিগেতে আমার অভিলাষ পূর্ণ হইবে; আমি খড়গ নিষ্কোষ করিব, আমার হস্ত উহাদিগকে বিনাশ করিবে।
এবং এই শাপের কথা শ্রবণকালে কেহ যেন মনে মনে আপনার ধন্যবাদ করিয়া না বলে, আমি সিক্তের সহিত শুষ্কের ধ্বংস করিবার জন্য আপন হৃদয়ের কঠিনতায় চলিলেও আমার শান্তি হইবে।
পরে অয়ের লোকেরা পশ্চাতে ফিরিয়া চাহিয়া দেখিল, আর দেখ, নগরের ধূম আকাশে উঠিতেছে, কিন্তু তাহারা এদিকে কি ওদিকে কোন দিকেই পলাইবার উপায় পাইল না; আর প্রান্তরে পলায়মান লোকেরা তাহাদের পশ্চাতে ধাবমান লোকদের দিকে ফিরিয়া আক্রমণ করিতে লাগিল।
পরে গিদিয়োন নোবহের ও যগ্বিহের পূর্ব্বদিকে তাম্বুনিবাসীদের পথ দিয়া উঠিয়া গিয়া সেই সৈন্যগণকে আঘাত করিলেন, যেহেতু সৈন্যগণ নিশ্চিন্ত ছিল।
পরে তাহারা মীখার নির্ম্মিত বস্তু সকল ও তাহার পুরোহিতকে সঙ্গে লইয়া লয়িশে সেই সুস্থির ও নিশ্চিন্ত লোক-সমাজের নিকটে উপস্থিত হইল; এবং খড়্গধারে তাহাদিগকে বধ করিল, আর নগর আগুনে পোড়াইয়া দিল।
আর ইস্রায়েল-লোকেরাও মুখ ফিরাইল; তাহাতে অমঙ্গল আমাদের উপরে আসিয়া পড়িল দেখিয়া বিন্যামীনের লোকেরা বিহ্বল হইল।
পৃথিবীস্থ জাতিগণের যে দেবগণ মনুষ্যহস্ত-নির্ম্মিত, তাহাদের বিষয়ে কথা কহিবার ন্যায় তাহারা যিরূশালেমের ঈশ্বরের বিষয়ে কথা কহিল।
তিনি কাহাকে আশ্রয় দিলে সে নির্ভয়ে থাকে; কিন্তু তাহাদের পথে তাঁহার দৃষ্টি থাকে।
সে মনে মনে বলে, ঈশ্বর ভুলিয়া গিয়াছেন, তিনি মুখ লুকাইয়াছেন, কখনও দেখিবেন না;
ঐ স্থানে তাঁহাদের কাঁপনি ধরিল, প্রসবকারিণীর ন্যায় ব্যথা ধরিল।
তুমি তাহাদিগকে পিচ্ছিল স্থানেই রাখিতেছ, তাহাদিগকে বিনাশে ফেলিয়া দিতেছ।
যে পুনঃ পুনঃ অনুযুক্ত হইয়াও ঘাড় শক্ত করে, সে হঠাৎ ভাঙ্গিয়া পড়িবে, তাহার প্রতীকার হইবে না।
ইহাতে আমার সমস্ত কটিদেশে অঙ্গগ্রহ হইল, প্রসবকারিণীর ব্যথার ন্যায় আমার ব্যথা ধরিল; আমি এমন নুইয়া পড়িয়াছি যে, শুনিতে পাই না, আমি এমন বিহ্বল হইয়াছি যে, দেখিতে পাই না।
এই হেতু সেই অপরাধ তোমাদের জন্য উচ্চ ভিত্তির পতনশীল ফুলা ফাটার ন্যায় হইবে, যাহার ভঙ্গ হঠাৎ মুহূর্ত্তমধ্যে উপস্থিত হয়।
আমি উত্তর দিক্কে বলিব, ছাড়িয়া দেও; দক্ষিণ দিক্কেও বলিব, রুদ্ধ রাখিও না; আমার পুত্রগণকে দূর হইতে, ও আমার কন্যাদিগকে পৃথিবীর প্রান্ত হইতে আনিয়া দেও;
[প্রত্যেক জন বলে,] চল, আমি দ্রাক্ষারস আনি, আমরা সুরাপানে মত্ত হইব, এবং যেমন অদ্যকার দিন, তেমনি কল্যও হইবে; তাহা অত্যন্ত অধিক বলিয়া মহাদিন হইবে।
বস্তুতঃ স্ত্রীর প্রসবকালের রবের ন্যায়, প্রথম প্রসবকালের আর্ত্তনাদের ন্যায় আমি সিয়োনকন্যার রব শুনিয়াছি; সে দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়িয়া অঞ্জলি বিস্তার করিয়া কহিতেছে, হায় হায়, হত্যাকারীদের সম্মুখে আমার প্রাণ অবসন্ন হইল।
আমরা এই বিষয়ে জনশ্রুতি শুনিয়াছি, আমাদের হস্ত অবশ হইল; যন্ত্রণা, প্রসবকারিণীর ন্যায় বেদনা, আমাদিগকে ধরিল।
তুমি যাহাদিগকে আত্মীয়রূপে আপনার উপরে [প্রভুত্ব করিতে] শিক্ষা দিয়াছ, যখন তিনি তাহাদিগকে মস্তকরূপে তোমার উপরে নিযুক্ত করিবেন, তৎকালে কি বলিবে? প্রসবকালে যেমন স্ত্রীলোক, তেমনি তুমি কি যন্ত্রণাগ্রস্ত হইবে না?
হে লিবানোন্-বাসিনি! এরস বনে বাসকারিণি! যখন তুমি প্রসবযন্ত্রণার ন্যায় যন্ত্রণা পাইবে, তখন কেমন কাতরোক্তি করিবে।
তখন ঈশ্বরের যিরূশালেমস্থ গৃহ-মন্দির হইতে আনীত ঐ সুবর্ণ পাত্র সকল লইয়া আসা হইল, আর রাজা ও তাঁহার মহল্লোকেরা, তাঁহার পত্নীগণ ও তাঁহার উপপত্নীগণ সেই সকল পাত্রে পান করিলেন।
প্রসবকারিণী স্ত্রীর ন্যায় যন্ত্রণা তাহাকে ধরিবে; সে অবোধ সন্তান, উপযুক্ত সময়ে অপত্যদ্বারে উপস্থিত হয় না।
তুমি এখন কেন ঘোর চীৎকার করিতেছ? তোমার মধ্যে কি রাজা নাই? তোমার মন্ত্রী কি বিনষ্ট হইল? তাই বলিয়া কি স্ত্রীর প্রসব-বেদনার ন্যায় বেদনা তোমাকে ধরিয়াছে?
কেননা, জড়িত কন্টকের ন্যায় ও মদ্যপানে আর্দ্র হইলেও, তাহারা শুষ্ক খড়ের ন্যায় নিঃশেষে অগ্নি-ভক্ষিত হইবে।
সর্পেরা, কালসর্পের বংশেরা, তোমরা কেমন করিয়া বিচারে নরকদণ্ড এড়াইবে?
বাস্তবিক নোহের সময়ে যেরূপ হইয়াছিল, মনুষ্যপুত্রের আগমনও তদ্রূপ হইবে।
আর নোহের সময়ে যেরূপ হইয়াছিল, মনুষ্যপুত্রের সময়েও তদ্রূপ হইবে।
কিন্তু আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে;
তখন লোকসমূহ উচ্চৈঃস্বরে বলিতে লাগিল, এ দেবতার রব, মানুষের নয়।
“হে অবজ্ঞাকারিগণ, দৃষ্টিপাত কর, আর চমকিয়া উঠ এবং অন্তর্হিত হও; যেহেতুক তোমাদের সময়ে আমি এক কর্ম্ম করিব, সেই কর্ম্মের কথা যদি কেহ তোমাদের কাছে বর্ণনা করে, তোমরা কোন মতে বিশ্বাস করিবে না।”
তাহারা প্রভুর মুখ হইতে ও তাঁহার শক্তির প্রতাপ হইতে অনন্তকালস্থায়ী বিনাশরূপ দণ্ড ভোগ করিবে,
তবে এমন মহৎ এই পরিত্রাণ অবহেলা করিলে আমরা কি প্রকারে রক্ষা পাইব? ইহা ত প্রথমে প্রভুর দ্বারা কথিত, ও যাহারা শুনিয়াছিল, তাহাদের দ্বারা আমাদের নিকটে দৃঢ়ীকৃত হইল;
স্বর্গে লিখিত প্রথমজাতদের সাধারণ সভা ও মণ্ডলী, সকলের বিচারকর্ত্তা ঈশ্বর, সিদ্ধিপ্রাপ্ত ধার্ম্মিকগণের আত্মা,
কারণ ঈশ্বর পাপে পতিত দূতগণকে ক্ষমা করেন নাই, কিন্তু নরকে ফেলিয়া বিচারার্থে রক্ষিত হইবার জন্য অন্ধকারের কারাকূপে সমর্পণ করিলেন।
সে যত আত্মগৌরব ও বিলাস করিত, তাহাকে তত যন্ত্রণা ও শোক দেও। কেননা সে মনে মনে বলিতেছে, আমি রাণীর মত সিংহাসনে বসিয়া আছি, বিধবা নহি, কোন মতে শোক দেখিব না।