হে কল্দীয়দের কন্যে, নীরবে বস, অন্ধকারে আশ্রয় লও; কেননা তুমি আর রাজ্য সকলের ঠাকুরাণী বলিয়া আখ্যাতা হইবে না।
Cross references
তিনি আপন সাধুদিগের চরণ রক্ষা করিবেন, কিন্তু দুষ্টগণ অন্ধকারে স্তব্ধীকৃত হইবে; কেননা বলে কোন মনুষ্য জয়ী হইবে না।
সদাপ্রভু, আমাকে লজ্জিত হইতে দিও না, কেননা আমি তোমাকে ডাকিয়াছি; দুষ্টগণ লজ্জিত হউক, পাতালে নীরব হউক।
তোমরা ক্ষান্ত হও; জানিও, আমিই ঈশ্বর; আমি জাতিগণের মধ্যে উন্নত হইব, আমি পৃথিবীতে উন্নত হইব।
বস্তুতঃ আকাশের তারাগণ ও নক্ষত্ররাশি দীপ্তি দিবে না; সূর্য্য উদয়-সময়ে নিস্তেজ হইবে, ও চন্দ্র আপন জ্যোৎস্না প্রকাশ করিবে না।
আর বাবিল—রাজ্য সকলের সেই রত্ন ও কল্দীয়দের শ্লাঘার সেই লাবণ্য—ঈশ্বরকর্ত্তৃক উৎপাটিত সদোম ও ঘমোরার সদৃশ হইবে।
সেই দিন তুমি বাবিল-রাজের বিরুদ্ধে এই প্রবাদ লইয়া বলিবে, আহা, উপদ্রবকারী কেমন শেষ হইয়াছে! অপহারিণী কেমন শেষ হইয়াছে!
আর আমি ঐ নগর শজারুর অধিকার করিব, জলাভূমি করিব, সংহাররূপ মার্জ্জনী দ্বারা মার্জ্জন করিব, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন।
হে অনূঢ়া বাবিল-কন্যে, তুমি নামিয়া ধূলিতে বস; হে কল্দীয়দের কন্যে, ভূমিতে বস, সিংহাসন নাই; কেননা লোকে তোমাকে আর কোমলা ও সুখভোগিনী বলিয়া ডাকিবে না।
আর তুমি বলিলে, আমি চিরকাল ঠাকুরাণী থাকিব; তাই তুমি এ সকলে মনোযোগ কর নাই, শেষকালের ফলও বিবেচনা কর নাই।
আমরা কেন বসিয়া থাকি? আইস আমরা একত্র হইয়া প্রাচীরবেষ্টিত নগরে নগরে প্রবেশ করি, সেখানে ক্ষয়প্রাপ্ত হই; কেননা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আমাদিগকে ক্ষয়ের পাত্র করিলেন, ও বিষবৃক্ষের রস পান করাইলেন, কারণ আমরা সদাপ্রভুর বিরুদ্ধে পাপ করিয়াছি।
আর ইহাদের মধ্য হইতে আমোদের রব ও আনন্দের রব, বরের রব, কন্যার রব, যাঁতার শব্দ ও প্রদীপের আলো সংহার করিব।
হায়, সেই নগরী কেমন একাকিনী বসিয়া আছে, যে লোকে পরিপূর্ণা ছিল। সে বিধবার ন্যায় হইয়াছে, যে জাতিগণের মধ্যে প্রধানা ছিল। প্রদেশ-সমূহের মধ্যে যে রাজ্ঞী ছিল, সে কর্ম্মাধীনা দাসী হইয়াছে।
হে মহারাজ, আপনি রাজাধিরাজ, স্বর্গের ঈশ্বর আপনাকে রাজ্য, ক্ষমতা, পরাক্রম ও মহিমা দিয়াছেন।
কিন্তু সদাপ্রভু আপন পবিত্র মন্দিরে আছেন; সমস্ত পৃথিবী তাঁহার সম্মুখে নীরব থাক।
সদাপ্রভুর সাক্ষাতে প্রাণীমাত্র নীরব হও, কেননা তিনি আপন পবিত্র আবাসের মধ্য হইতে জাগিয়া উঠিয়াছেন।
তিনি তাহাকে কহিলেন, হে বন্ধু, তুমি কেমন করিয়া বিবাহ-বস্ত্র বিনা এখানে প্রবেশ করিলে? সে নিরুত্তর হইল।
নিজ লজ্জারূপ ফেনা উৎক্ষেপকারী প্রচণ্ড সামুদ্রিক তরঙ্গ; ভ্রমণকারী তারা, যাহাদের নিমিত্ত অনন্তকালের জন্য ঘোরতর অন্ধকার সঞ্চিত রহিয়াছে।
পরে তিনি আত্মাতে আমাকে প্রান্তর মধ্যে লইয়া গেলেন; তাহাতে আমি এক নারীকে দেখিলাম, সে সিন্দূরবর্ণ পশুর উপরে বসিয়া আছে; সেই পশু ধর্ম্মনিন্দার নামে পরিপূর্ণ, এবং তাহার সপ্ত মস্তক ও দশ শৃঙ্গ।
আর তুমি যে নারীকে দেখিলে, সে ঐ মহানগরী, যাহা পৃথিবীর রাজগণের উপরে রাজত্ব করিতেছে।
সে যত আত্মগৌরব ও বিলাস করিত, তাহাকে তত যন্ত্রণা ও শোক দেও। কেননা সে মনে মনে বলিতেছে, আমি রাণীর মত সিংহাসনে বসিয়া আছি, বিধবা নহি, কোন মতে শোক দেখিব না।
হায়! হায়! সেই মহানগরীর সন্তাপ, যে মসীনা-বস্ত্র, বেগুনিয়া বস্ত্র ও সিন্দূরবর্ণ বস্ত্র পরিহিতা ছিল, এবং সুবর্ণে ও বহুমূল্য মণি মুক্তায় মণ্ডিতা ছিল;
পরে এক শক্তিমান দূত বৃহৎ এক পাট যাঁতার তুল্য একখান প্রস্তর লইয়া সমুদ্রে নিক্ষেপ করিয়া কহিলেন, ইহার ন্যায় মহানগরী বাবিল মহাবলে নিপাতিতা হইবে, আর কখনও তাহার উদ্দেশ পাওয়া যাইবে না।