হূশয় আরও কহিলেন, আপনি আপন পিতাকে ও তাঁহার লোকদিগকে জানেন, তাঁহারা বীর ও তিক্তপ্রাণ এবং মাঠের হৃতবৎসা ভল্লুকীর তুল্য, আর আপনার পিতা যোদ্ধা; তিনি লোকদের সহিত রাত্রি যাপন করিবেন না।
Cross references
দান-সন্তানগণ তাহাকে কহিল, আমাদের মধ্যে যেন তোমার রব শুনা না যায়; পাছে গোঁয়ারেরা তোমাদের উপর পড়ে, এবং তুমি সপরিবারে প্রাণ হারাও।
যুবকদের এক জন কহিল, দেখুন, আমি বৈৎলেহমীয় যিশয়ের এক পুত্রকে দেখিয়াছি; সে বীণা বাদনে নিপুণ, বলবান বীর, যোদ্ধা, বাক্পটু ও রূপবান, আর সদাপ্রভু তাহার সহবর্ত্তী।
দায়ূদ শৌলকে কহিলেন, আপনার এই দাস পিতার মেষ রক্ষা করিতেছিল, ইতিমধ্যে এক সিংহ ও এক ভল্লুক আসিয়া পালের মধ্য হইতে মেষ ধরিয়া লইল;
এই প্রকারে দায়ূদ ফিঙ্গা ও পাথর দিয়া ঐ পলেষ্টীয়কে পরাজয় করিলেন, এবং তাহাকে আঘাত করিয়া বধ করিলেন; কিন্তু দায়ূদের হস্তে খড়্গ ছিল না।
অতএব যে সমস্ত গুপ্ত স্থানে সে লুকাইয়া থাকে, তাহার কোন্ স্থানে সে আছে, তাহা দেখ, লক্ষ্য কর, পরে আমার নিকটে আবার নিশ্চয় সমাচার লইয়া আইস, আসিলে আমি তোমাদের সহিত যাইব; সে যদি দেশে থাকে, তবে আমি যিহূদার সমস্ত সহস্রের মধ্যে তাহার সন্ধান করিব।
পরে তাঁহার সকল দাস তাঁহার পার্শ্বে পার্শ্বে অগ্রসর হইল, এবং করেথীয় ও পলেথীয় সমস্ত লোক, আর গাতীয় সমস্ত লোক, তাঁহার পশ্চাতে পশ্চাতে গাৎ হইতে আগত ছয় শত লোক, রাজার সম্মুখে অগ্রসর হইল।
তৎপরে আর এক বার গোবে পলেষ্টীয়দের সহিত যুদ্ধ হইল; তখন হূশাতীয় সিব্বখয় রফার সন্তান সফকে বধ করিল।
দায়ূদের বীরগণের নামাবলী। তখমোনীয় যোশেব-বশেবৎ সেনানীবর্গের অধ্যক্ষ ছিলেন; ইস্নীয় আদীনো, তিনি এককালে নিহত আটশত লোকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করিতেছিলেন।
তাহাতে ঐ বীরত্রয় পলেষ্টীয়দের সৈন্যমধ্য দিয়া গিয়া বৈৎলেহমের দ্বারের নিকটস্থ কূপের জল তুলিয়া লইয়া দায়ূদের নিকটে আসিলেন, কিন্তু তিনি তাহা পান করিতে সম্মত হইলেন না, সদাপ্রভুর উদ্দেশে ঢালিয়া ফেলিলেন;
আর সরূয়ার পুত্র যোয়াবের ভ্রাতা অবীশয় সেই তিন জনের মধ্যে প্রধান ছিলেন। তিনি তিন শত লোকের উপরে আপন বড়শা চালাইয়া তাহাদিগকে বধ করিলেন ও নরত্রয়ের মধ্যে খ্যাতনামা হইলেন।
আর অনেক বিক্রমের কার্য্যকারী কব্সেলীয় এক বীরের সন্তান যিহোয়াদার পুত্র যে বনায়, তিনি মোয়াবীয় অরীয়েলের দুই পুত্রকে বধ করিলেন; তদ্ভিন্ন তিনি হিমানীর সময়ে গিয়া গর্ত্তের মধ্যে একটা সিংহকে মারিলেন।
তখন তিনি পশ্চাৎ দিকে মুখ ফিরাইয়া তাহাদিগকে দেখিলেন, এবং সদাপ্রভুর নামে তাহাদিগকে শাপ দিলেন; আর বন হইতে দুইটা ভল্লূকী আসিয়া তাহাদের মধ্যে বেয়াল্লিশ জন বালককে ছিঁড়িয়া ফেলিল।
দেখ, তিনি ঐ ত্রিশ জন অপেক্ষা মর্য্যাদাপন্ন, কিন্তু [প্রথম] তিন জনের তুল্য ছিলেন না; দায়ূদ তাঁহাকে আপন রক্ষিসেনার অধ্যক্ষ করিলেন।
বরং হৃতবৎসা ভল্লুকী মনুষ্যের সহিত সাক্ষাৎ করুক, তবু অজ্ঞানতা-মগ্ন হীনবুদ্ধি না করুক।
যেমন গর্জ্জনকারী সিংহ ও পর্য্যটনকারী ভল্লুক, তেমনি দীনহীন প্রজার উপরে দুষ্ট শাসনকর্ত্তা।
পরে দেখ, আর এক জন্তু; সেই দ্বিতীয়টা ভল্লূকের সদৃশ, সে এক পার্শ্বে চরণে ভর দিয়া দাঁড়াইল, এবং তাহার মুখে দন্তশ্রেণীর মধ্যে তিন খান পঞ্জরের অস্থি ছিল; তাহাকে বলা হইল, উঠ, যথেষ্ট মাংস ভোজন কর।
আমি হৃতবৎসা ভল্লূকীর ন্যায় তাহাদের সম্মুখীন হইব, তাহাদের হৃৎপদ্ম বিদীর্ণ করিব, সেই স্থানে সিংহীর ন্যায় তাহাদিগকে গ্রাস করিব; বনপশু তাহাদিগকে খণ্ড খণ্ড করিবে।
আর অধিক কি বলিব? গিদিয়োন, বারক, শিম্শোন, যিপ্তহ, এবং দায়ূদ ও শমূয়েল ও ভাববাদিগণ, এই সকলের বৃত্তান্ত বলিতে গেলে সময়ের অকুলান হইবে।