তুমি এখন কেন ঘোর চীৎকার করিতেছ? তোমার মধ্যে কি রাজা নাই? তোমার মন্ত্রী কি বিনষ্ট হইল? তাই বলিয়া কি স্ত্রীর প্রসব-বেদনার ন্যায় বেদনা তোমাকে ধরিয়াছে?
Cross references
বস্তুতঃ দেখ, প্রভু, বাহিনীগণের সদাপ্রভু যিরূশালেম ও যিহূদা হইতে যষ্টি ও যষ্টিকা, অন্নরূপ সমস্ত যষ্টি ও জলরূপ সমস্ত যষ্টি, দূর করিবেন।
লোকেরা বিহ্বল হইবে, নানা যন্ত্রণা ও ব্যাথাগ্রস্ত হইবে, তাহারা প্রসবকারিণীর ন্যায় ব্যাথা খাইবে; এক জন অন্যের প্রতি একাগ্র দৃষ্টি করিবে, তাহাদের মুখ অগ্নিশিখার মুখ।
ইহাতে আমার সমস্ত কটিদেশে অঙ্গগ্রহ হইল, প্রসবকারিণীর ব্যথার ন্যায় আমার ব্যথা ধরিল; আমি এমন নুইয়া পড়িয়াছি যে, শুনিতে পাই না, আমি এমন বিহ্বল হইয়াছি যে, দেখিতে পাই না।
গর্ভবতী স্ত্রী আসন্নপ্রসবকালে ব্যথা খাইতে খাইতে যেমন ক্রন্দন করে, হে সদাপ্রভু, আমরা তোমার সাক্ষাতে তাহার ন্যায় হইয়াছি।
আমি কত দিন পতাকা দেখিব ও তূরীর রব শুনিব?’
বস্তুতঃ স্ত্রীর প্রসবকালের রবের ন্যায়, প্রথম প্রসবকালের আর্ত্তনাদের ন্যায় আমি সিয়োনকন্যার রব শুনিয়াছি; সে দীর্ঘনিঃশ্বাস ছাড়িয়া অঞ্জলি বিস্তার করিয়া কহিতেছে, হায় হায়, হত্যাকারীদের সম্মুখে আমার প্রাণ অবসন্ন হইল।
দেখ, দূর দেশ হইতে আমার জাতির কন্যার আর্ত্তনাদ শুনা যাইতেছে; সদাপ্রভু কি সিয়োনে নাই? তাহার রাজা কি তাহার মধ্যবর্ত্তী নহেন? তাহারা আপনাদের ক্ষোদিত প্রতিমা ও বিজাতীয় অসার বস্তুসমূহ দ্বারা আমাকে কেন অসন্তুষ্ট করিয়াছে?
হে লিবানোন্-বাসিনি! এরস বনে বাসকারিণি! যখন তুমি প্রসবযন্ত্রণার ন্যায় যন্ত্রণা পাইবে, তখন কেমন কাতরোক্তি করিবে।
তোমরা একবার জিজ্ঞাসা করিয়া দেখ, পুরুষের কি প্রসববেদনা হয়? প্রসবকালে যেমন স্ত্রীলোকের, তেমনি আমি প্রত্যেক পুরুষের কটিদেশে হস্ত ও সকলের মুখ বিষাদে ম্লান কেন দেখিতেছি?
হায়! সেই দিন মহৎ, তাহার তুল্য দিন আর নাই; এ যাকোবের সঙ্কটকাল, কিন্তু ইহা হইতে সে নিস্তার পাইবে।
অতএব, হে আমার দাস যাকোব, ভয় করিও না, ইহা সদাপ্রভু কহেন; হে ইস্রায়েল, নিরাশ হইও না; কেননা দেখ, আমি দূর হইতে তোমাকে ও বন্দিদশার দেশ হইতে তোমার বংশকে নিস্তার করিব; যাকোব ফিরিয়া আসিয়া নির্ভয় ও নিশ্চিন্ত থাকিবে, কেহ তাহাকে ভয় দেখাইবে না।
বাবিল-রাজ তাহাদের জনশ্রুতি শুনিয়াছে, তাহার হস্ত অবশ হইল, যন্ত্রণা, প্রসবকারিণীর ন্যায় বেদনা, তাহাকে ধরিল।
যিনি আমাদের নাসিকায় বায়ুস্বরূপ, সদাপ্রভুর অভিষিক্ত, তিনি তাহাদের গর্ত্তে ধৃত হইলেন, যাঁহার বিষয়ে বলিয়াছিলাম, আমরা তাঁহার ছায়ায় জাতিগণের মধ্যে জীবন যাপন করিব।
কেননা ইস্রায়েল-সন্তানগণ রাজাহীন, অধ্যক্ষহীন, যজ্ঞহীন, স্তম্ভহীন, এফোদ বা ঠাকুরহীন হইয়া অনেক দিন পর্য্যন্ত বসিয়া থাকিবে।
অবশ্য এখন তাহারা বলিবে, আমাদের রাজা নাই, কারণ আমরা সদাপ্রভুকে ভয় করি না, তবে রাজা আমাদের জন্য কি করিতে পারে?