পর্ব্বতগণ তোমাকে দেখিয়া কাঁপিয়া উঠিল, প্রচণ্ড জলরাশি বহিয়া গেল, বারিধি আপন রব উদীর্ণ করিল, আপন হস্তদ্বয় উচ্চে উঠাইল।
Cross references
আর ইস্রায়েল-সন্তানেরা শুষ্ক পথে সমুদ্রমধ্যে প্রবেশ করিল, এবং তাহাদের দক্ষিণে ও বামে জল প্রাচীরস্বরূপ হইল।
পরে তৃতীয় দিন প্রভাত হইলে মেঘগর্জ্জন ও বিদ্যুৎ এবং পর্ব্বতের উপরে নিবিড় মেঘ হইল, আর অতিশয় উচ্চরবে তূরীধ্বনি হইতে লাগিল; তাহাতে শিবিরস্থ সমস্ত লোক কাঁপিতে লাগিল।
আর সিন্দুকবাহকেরা যখন যর্দ্দন-সমীপে উপস্থিত হইল, এবং জলের ধারে সিন্দুকবাহক যাজকগণের চরণ জলমগ্ন হইল,—বাস্তবিক ফসল কাটার সমস্ত সময় যর্দ্দনের জল সমস্ত তীরের উপরে থাকে,
পরে যর্দ্দনের মধ্য হইতে সদাপ্রভুর নিয়ম সিন্দুকবাহক যাজকগণের উঠিয়া আসিবার সময়ে যখন যাজকদের পদতল শুষ্কভূমি স্পর্শ করিল, তখনই যর্দ্দনের জল স্বস্থানে ফিরিয়া আসিয়া পূর্ব্বের ন্যায় সমস্ত তীরের উপরে উঠিল।
কারণ তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু সূফসাগরের প্রতি যেমন করিয়াছিলেন, আমাদের পার না হওয়া পর্য্যন্ত যেমন তাহা শুষ্ক করিয়াছিলেন, তেমনি তোমাদের পার না হওয়া পর্য্যন্ত তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের সম্মুখে যর্দ্দনের জল শুষ্ক করিলেন;
হে সদাপ্রভু, তুমি যখন সেয়ীর হইতে নির্গমন করিলে, ইদোম-ক্ষেত্র হইতে অগ্রসর হইলে, ভূমি কাঁপিল, আকাশও বর্ষিল, মেঘমালা জল বরিষণ করিল।
আর তুমি তাহাদের সম্মুখে সমুদ্রকে দ্বিভাগ করিলে, তাহাতে তাহারা সমুদ্রের মধ্যস্থলে শুষ্ক পথ দিয়া অগ্রসর হইল; কিন্তু প্রবল জলে যেমন প্রস্তর, তেমনি তুমি তাহাদের পশ্চাদ্ধাবনকারী লোকদিগকে অগাধ জলে নিক্ষেপ করিলে।
তখন জলরাশির প্রণালী সকল প্রকাশ পাইল, ভূমণ্ডলের মূল সকল অনাবৃত হইল, তোমার তর্জ্জনে, হে সদাপ্রভু, তোমার নাসিকার প্রশ্বাসবায়ুতে।
মাঠ সকল মেষপালে ভূষিত হয়, তলভূমি সকল শস্যে পরিচ্ছন্ন হয়; তাহারা আনন্দধ্বনি করে, তাহারা গান করে।
তিনি সমুদ্রকে শুষ্কভূমিতে পরিণত করিলেন; লোকেরা নদীর মধ্য দিয়া পদব্রজে গমন করিল, তাঁহাতে সেই স্থানে আমরা আনন্দ করিলাম।
হে ঈশ্বর, তুমি যখন নিজ প্রজাগণের অগ্রে অগ্রে যাইতেছিলে, যখন শুষ্ক ভূমি দিয়া গমন করিতেছিলে, সেলা।
তুমিই আপন পরাক্রমে সমুদ্রকে দ্বিধা করিয়াছিলে, তুমিই জলে নাগদের মস্তক ভগ্ন করিয়াছিলে।
হে ঈশ্বর, জলসমূহ তোমাকে দেখিল; জলসমূহ তোমাকে দেখিল, কম্পিত হইল, জলধি সকলও বিচলিত হইল।
জলধর সকল জলধারা বর্ষণ করিল, মেঘমালা গর্জ্জন করিল, তোমার বাণ সকলও বিক্ষিপ্ত হইল।
নদী সকল উঠাইয়াছে, হে সদাপ্রভু, নদী সকল আপন আপন ধ্বনি উঠাইয়াছে, নদী সকল আপন আপন তরঙ্গ উঠাইতেছে।
আকাশমণ্ডল আনন্দ করুক, পৃথিবী উল্লাসিত হউক; সমুদ্র ও তন্মধ্যস্থ সকলই গর্জ্জন করুক;
তাঁহার বিদ্যুৎ জগৎকে দেদীপ্যমান করিল; পৃথিবী তাহা দেখিল, কম্পান্বিত হইল।
সমুদ্র ও তন্মধ্যস্থ সকলই গর্জ্জন করুক, ভুবন ও তন্নিবাসিগণও করুক;
দেখিয়া সমুদ্র পলায়ন করিল, যর্দ্দন উজানে বহিল।
[তাঁহার স্তব কর,] যিনি সূফ-সাগরকে দ্বিভাগ করিলেন; —তাঁহার দয়া অনন্তকালস্থায়ী—
আর সদাপ্রভু মিস্রীয় সমুদ্রের খাড়ী নিঃশেষে বিনষ্ট করিবেন, [ফরাৎ] নদীর উপরে নিজ উত্তপ্ত বায়ু সহকারে হস্ত দোলাইবেন, তাহাকে প্রহার করিয়া সপ্ত প্রণালী করিবেন, ও লোকদিগকে পাদুকা-চরণে পার করিবেন।
বন্য জন্তুগণ, শৃগাল ও উষ্ট্র পক্ষী সকল আমার গৌরব করিবে; কেননা আমি প্রান্তর মধ্যে জল ও মরুভূমিতে নদনদী যোগাই, আমার প্রজাবৃন্দকে, আমার মনোনীত লোকদিগকে, পান করাইবার নিমিত্তই যোগাই,;
কারণ তোমরা আনন্দ সহকারে বাহিরে যাইবে, এবং শান্তিতে তোমাদিগকে লইয়া যাওয়া হইবে। পর্ব্বত ও উপপর্ব্বতগণ তোমাদের সমক্ষে উচ্চৈঃস্বরে আনন্দগান করিবে, এবং ক্ষেত্রের সমস্ত বৃক্ষ হাততালি দিবে।
তখন তাঁহার প্রজাগণ পুরাকাল, মোশির কাল স্মরণ করিয়া কহিল, তিনি কোথায়, যিনি আপন পালের রক্ষকগণ সহকারে তাহাদিগকে সমুদ্র হইতে উত্তীর্ণ করিয়াছিলেন? তিনি কোথায়, যিনি তাহাদের অন্তরে আপন পবিত্র আত্মা রাখিয়াছিলেন,
আহা, তুমি আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ করিয়া নামিয়া আইস, পর্ব্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক;
আমি পর্ব্বতগণের উপরে দৃষ্টিপাত করিলাম, আর দেখ, সে সকল কাঁপিতেছে, ও উপপর্ব্বত সকল টলটলায়মান হইতেছে।
তাঁহার নীচে পর্ব্বতগণ গলিয়া যাইবে, তলভূমি সকল বিদীর্ণ হইবে, যেমন অগ্নির উত্তাপে মোম গলিয়া যায়, যেমন গড়ান স্থানে জল ঝরিয়া পড়ে।
তাঁহার ভয়ে পর্ব্বতগণ কাঁপে, উপপর্ব্বতগণ গলিয়া যায়, এবং তাঁহার সম্মুখ হইতে পৃথিবী, জগৎ ও তন্নিবাসী সকলে উঠিয়া যায়।
তিনি দাঁড়াইয়া পৃথিবীকে পরিমাণ করিলেন, তিনি দৃক্পাত করিয়া জাতিগণকে ত্রাসতাড়িত করিলেন; সনাতন পর্ব্বত সকল খণ্ডবিখণ্ড হইল, চিরন্তন গিরিমালা নত হইল; অনাদিকাল অবধি তাঁহার গতি।
আর দেখ, মন্দিরের তিরস্করিণী উপর হইতে নীচ পর্য্যন্ত চিরিয়া দুইখান হইল, ভূমিকম্প হইল, ও শৈল সকল বিদীর্ণ হইল,
বিশ্বাসে লোকেরা শুষ্ক ভূমির ন্যায় লোহিত সমুদ্রের মধ্য দিয়া গমন করিল, কিন্তু মিস্রীয়গণ সেই চেষ্টা করিতে গিয়া কবলিত হইল।
আর আকাশমণ্ডল সঙ্কুচ্যমান পুস্তকের ন্যায় অপসারিত হইল, এবং সমস্ত পর্ব্বত ও দ্বীপ স্ব স্ব স্থান হইতে চালিত হইল।
পরে ষষ্ঠ দূত ইউফ্রেটীস মহানদীতে আপন বাটি ঢালিলেন; তাহাতে নদীর জল শুষ্ক হইয়া গেল, যেন সূর্য্যোদয় স্থান হইতে আগমনকারী রাজাদের জন্য পথ প্রস্তুত করা যাইতে পারে।
পরে আমি “এক বৃহৎ শ্বেতবর্ণ সিংহাসন ও যিনি তাহার উপরে বসিয়া আছেন,” তাঁহাকে দেখিতে পাইলাম; তাঁহার সম্মুখ হইতে পৃথিবী ও আকাশ পলায়ন করিল; “তাহাদের নিমিত্ত আর স্থান পাওয়া গেল না”।