পরে তৃতীয় দিন প্রভাত হইলে মেঘগর্জ্জন ও বিদ্যুৎ এবং পর্ব্বতের উপরে নিবিড় মেঘ হইল, আর অতিশয় উচ্চরবে তূরীধ্বনি হইতে লাগিল; তাহাতে শিবিরস্থ সমস্ত লোক কাঁপিতে লাগিল।
Cross references
পরে মোশি আপন যষ্টি আকাশের দিকে বিস্তার করিলে সদাপ্রভু মেঘগর্জ্জন করাইলেন, ও শিলাবৃষ্টি বর্ষাইলেন, এবং অগ্নি ভূমির উপরে বেগে আসিয়া পড়িল; এইরূপে সদাপ্রভু মিসর দেশে শিলাবৃষ্টি বর্ষাইলেন।
তোমরা সদাপ্রভুর কাছে বিনতি কর; দেবগর্জ্জন ও শিলাবৃষ্টি যথেষ্ট হইয়াছে? আমি তোমাদিগকে ছাড়িয়া দিব, তোমাদের আর বিলম্ব হইবে না।
আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, দেখ, আমি নিবিড় মেঘে তোমার নিকটে আসিব, যেন লোকেরা তোমার সহিত আমার আলাপ শুনিতে পায়, এবং তোমাতেও চিরকাল বিশ্বাস করে। পরে মোশি লোকদের কথা সদাপ্রভুকে বলিলেন।
তখন সমস্ত লোক মেঘগর্জ্জন, বিদ্যুৎ, তূরীধ্বনি ও ধূমময় পর্ব্বত দেখিল; দেখিয়া লোকেরা ত্রাসযুক্ত হইল, এবং দূরে দাঁড়াইয়া রহিল।
তখন লোকেরা দূরে দাঁড়াইয়া রহিল; আর মোশি সেই ঘোর অন্ধকারের নিকটে গমন করিলেন, যেখানে ঈশ্বর ছিলেন।
তখন মেঘ সমাগম-তাম্বু আচ্ছাদন করিল, এবং সদাপ্রভুর প্রতাপ আবাস পরিপূর্ণ করিল।
সেই সময়ে আমিই তোমাদিগকে সদাপ্রভুর বাক্য জ্ঞাত করিবার জন্য সদাপ্রভুর ও তোমাদের মধ্যে দণ্ডায়মান ছিলাম; কেননা অগ্নি হইতে ভীত হওয়াতে তোমরা পর্ব্বতে উঠ নাই। তিনি বলিলেন,
অদ্য কি গোম কাটার সময় নয়? আমি সদাপ্রভুকে ডাকিব, যেন তিনি মেঘগর্জ্জন ও বৃষ্টি দেন; তাহাতে তোমরা জানিবে ও বুঝিবে যে, তোমরা আপনাদের জন্য রাজা যাচ্ঞা করিয়া সদাপ্রভুর সাক্ষাতে ভারী দুষ্কার্য্য করিয়াছ।
সদাপ্রভুর গৃহ মেঘে এমন পরিপূর্ণ হইল যে, মেঘ প্রযুক্ত যাজকেরা পরিচর্য্যা করিবার জন্য দাঁড়াইতে পারিল না; কেননা ঈশ্বরের গৃহ সদাপ্রভুর প্রতাপে পরিপূর্ণ হইয়াছিল।
ইহাতেও আমার হৃদয় কম্পমান হইতেছে, স্বস্থানে থাকিয়া দুপ্ দুপ্ করিতেছে।
অতিবৃষ্টির জন্য কে প্রণালী কাটিয়াছে, বজ্র-বিদ্যুতের জন্য কে পথ করিয়াছে,
তিনি অন্ধকারকে আপন অন্তরাল, আপনার চতুর্দ্দিক্স্থ তাম্বু করিলেন; জলের তিমির গণনের ঘন মেঘমালা।
জলের উপরে সদাপ্রভুর রব; গৌরবান্বিত ঈশ্বর বজ্রনাদ করিতেছেন, সদাপ্রভু জলরাশির উপরে বিদ্যমান।
আমাদের ঈশ্বর আসিবেন, নীরব থাকিবেন না; তাঁহার অগ্রে অগ্নি গ্রাস করিবে, তাঁহার চারিদিকে অত্যন্ত ঝড় বহিবে।
চক্রবাতে তোমার বজ্রের ধ্বনি হইল, বিদ্যুৎ জগৎকে দেদীপ্যমান করিল, পৃথিবী কম্পমান ও টলটলায়মান হইল।
হে আমার প্রজালোক, শুন, আমি তোমার কাছে সাক্ষ্য দিব; হে ইস্রায়েল, তুমি যদি আমার কথা শুন!
তাঁহার বিদ্যুৎ জগৎকে দেদীপ্যমান করিল; পৃথিবী তাহা দেখিল, কম্পান্বিত হইল।
সদাপ্রভু কহেন, তোমরা কি আমাকে ভয় করিবে না? আমার সাক্ষাতে কি কম্পমান হইবে না? আমি ত বালুকা দ্বারা সমুদ্রের সীমা নিত্যস্থায়ী বিধিক্রমে স্থির করিয়াছি; সে তাহা উল্লঙ্ঘন করিতে পারে না; তাহার তরঙ্গ আস্ফালন করিলেও কৃতার্থ হয় না, কল্লোলধ্বনি করিলেও সীমা অতিক্রম করিতে পারে না।
কারণ তোমরা সেই স্পৃশ্য ও অগ্নিতে প্রজ্বলিত পর্ব্বত, কৃষ্ণবর্ণ মেঘ, অন্ধকার, ঝড়, তূরীর ধ্বনি ও বাক্যের শব্দ এই সকলের নিকট উপস্থিত হও নাই।
এবং সেই দর্শন এমন ভয়ঙ্কর ছিল যে, মোশি কহিলেন, “আমি নিতান্তই ভীত ও কম্পিত হইতেছি”।
আমি প্রভুর দিনে আত্মাবিষ্ট হইলাম, এবং আমার পশ্চাৎ তূরীধ্বনিবৎ এক মহারব শুনিলাম।
ইহার পরে আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, স্বর্গে এক দ্বার খোলা রহিয়াছে, এবং প্রথম যে রব শুনিয়াছিলাম, যেন তূরীর রব আমার সহিত কথা কহিতেছিল, সেই রব শুনিলাম, কেহ বলিতেছেন, এই স্থানে উঠিয়া আইস, ইহার পরে যাহা যাহা অবশ্য ঘটিবে, সেই সকল আমি তোমাকে দেখাই।
সেই সিংহাসন হইতে বিদ্যুৎ, রব ও মেঘগর্জ্জন বাহির হইতেছে; এবং সেই সিংহাসনের সম্মুখে অগ্নিময় সপ্ত প্রদীপ জ্বলিতেছে, তাহা ঈশ্বরের সপ্ত আত্মা।
পরে ঐ দূত ধূপধানী লইয়া বেদির অগ্নিতে পূর্ণ করিয়া পৃথিবীতে নিক্ষেপ করিলেন; তাহাতে মেঘ-গর্জ্জন, রব, বিদ্যুৎ ও ভূমিকম্প হইল।
পরে ঈশ্বরের স্বর্গস্থ মন্দিরের দ্বার মুক্ত হইল, তাহাতে তাঁহার মন্দিরের মধ্যে তাঁহার নিয়ম-সিন্দুক দেখা গেল, এবং বিদ্যুৎ ও রব ও মেঘধ্বনি ও ভূমিকম্প ও মহাশিলাবৃষ্টি হইল।