রাজা এই কথা কহিলেন, এ কি সেই মহতী বাবিল নয়, যাহা আমি আপন বলের প্রভাবে ও আপন প্রতাপের মহিমার্থে রাজধানী করিবার জন্য নির্ম্মাণ করিয়াছি?
Cross references
শিনিয়র দেশে বাবিল, এরক, অক্কদ ও কল্নী, এই সকল স্থান তাঁহার রাজ্যের প্রথম অংশ ছিল।
পরে লোকেরা পূর্ব্বদিকে ভ্রমণ করিতে করিতে শিনিয়র দেশে এক সমস্থলী পাইয়া সে স্থানে বসতি করিল;
তোমা হইতে ধন ও গৌরব আইসে, এবং তুমি সকলের উপরে কর্ত্তৃত্ব করিতেছ; তোমারই হস্তে বল ও পরাক্রম, এবং তোমারই হস্তে সকলকে মহত্ত্ব ও শক্তি দিবার অধিকার।
আর আমি যে গৃহ নির্ম্মাণ করিব, তাহা মহৎ হইবে, কেননা আমাদের ঈশ্বর সকল দেবতা হইতে মহান্।
তিনি অনেক দিন অর্থাৎ এক শত আশী দিন পর্য্যন্ত আপন প্রতাপান্বিত রাজ্যের ঐশ্বর্য্য ও আপন উৎকৃষ্ট মহত্ত্বের গৌরব প্রদর্শন করিলেন।
সে মনুষ্য ঐশ্বর্য্যশালী অথচ অবোধ, সে নশ্বর পশুদিগের সদৃশ।
তাহারা বিদ্রূপ করে, ও দুষ্টতায় উপদ্রবের কথা কহে, তাহারা দর্পকথা কহে।
হে আমার প্রাণ, সদাপ্রভুর ধন্যবাদ কর। হে সদাপ্রভু, আমার ঈশ্বর, তুমি অতি মহান; তুমি প্রভা ও প্রতাপ পরিহিত।
তোমার প্রভার গৌরবযুক্ত প্রতাপ, ও তোমার আশ্চর্য্য ক্রিয়া সকল আমি ধ্যান করিব।
অহঙ্কার আসিলে অপমানও আইসে; কিন্তু প্রজ্ঞাই নম্রদিগের সহচরী।
বিনাশের পূর্ব্বে অহঙ্কার, পতনের পূর্ব্বে মনের গর্ব্ব।
কারণ সে বলে, ‘আমার অধ্যক্ষগণ কি সকলে রাজা নহেন?
তুমি আপন দাসগণের দ্বারা প্রভুকে টিটকারি দিয়াছ, বলিয়াছ, ‘আমি নিজ রথবাহুল্য দ্বারা পর্ব্বতগণের উচ্চ মস্তকে, লিবানোনের নিভৃত স্থানে আরোহণ করিয়াছি, আমি তাহার দীর্ঘকায় এরস বৃক্ষ ও উৎকৃষ্ট দেবদারু সকল ছেদন করিব, তাহার প্রান্তভাগস্থ উচ্চতম স্থানে, উর্ব্বর ক্ষেত্রের কাননে প্রবেশ করিব।
হে মনুষ্য-সন্তান, তুমি সোরের অধ্যক্ষকে বল, প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, তোমার চিত্ত গর্ব্বিত হইয়াছে, তুমি বলিয়াছ, আমি দেবতা, আমি সমুদ্রগণের মধ্যস্থলে ঈশ্বরের আসনে বসিয়া আছি; কিন্তু তুমি ত মনুষ্যমাত্র, দেবতা নহ, তথাপি আপন চিত্তকে ঈশ্বরের চিত্তের তুল্য বলিয়া মানিয়াছি।
তুমি এই কথা বল, প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, হে মিসর-রাজ ফরৌণ, দেখ, আমি তোমার বিপক্ষ; তুমি সেই প্রকাণ্ড কুম্ভীর, যে আপন স্রোতঃসমূহের মধ্যে শয়ন করে, বলে, আমার নদী আমারই, আমিই আপনার জন্য ইহা উৎপন্ন করিয়াছি।
হে রাজন্, পরাৎপর ঈশ্বর আপনার পিতা নবূখদ্নিৎসরকে রাজ্য, মহিমা, গৌরব ও প্রতাপ দিয়াছিলেন।
সে সকলকে বড়শীতে তুলে, তাহাদিগকে নিজ জালে ধরে, খালুইতে একত্র করে; এই জন্য সে আনন্দিত ও উল্লাসিত হয়।
দেখ, তাহার প্রাণ দর্পে স্ফীত, তাহার অন্তর সরল নয়, কিন্তু ধার্ম্মিক ব্যক্তি আপন বিশ্বাস দ্বারা বাঁচিবে।
আর আপন প্রাণকে বলিব, প্রাণ, বহুবৎসরের নিমিত্ত তোমার জন্য অনেক দ্রব্য সঞ্চিত আছে; বিশ্রাম কর, ভোজন পান কর, আমোদ প্রমোদ কর।
আর যে ব্যক্তি তোমাকে ও তাহাকে নিমন্ত্রণ করিয়াছে, সে আসিয়া তোমাকে বলিবে, ইহাঁকে স্থান দেও; আর তখন তুমি লজ্জিত হইয়া নিম্নতম স্থান গ্রহণ করিতে যাইবে।
কেননা যে কেহ আপনাকে উচ্চ করে, তাহাকে নত করা যাইবে, আর যে কেহ আপনাকে নত করে, তাহাকে উচ্চ করা যাইবে।
অতএব তোমরা ভোজন, কি পান, কি যাহা কিছু কর, সকলই ঈশ্বরের গৌরবার্থে কর।
তদ্রূপ, হে যুবকেরা, তোমরা প্রাচীনদের বশীভূত হও; আর তোমরা সকলেই এক জন অন্যের সেবার্থে নম্রতায় কটিবন্ধন কর, কেননা “ঈশ্বর অহঙ্কারীদের প্রতিরোধ করেন, কিন্তু নম্রদিগকে অনুগ্রহ প্রদান করেন।”
তাহাতে মহানগরী তিন ভাগে বিভক্ত হইল, এবং জাতিগণের নগর সকল পতিত হইল; এবং মহতী বাবিলকে ঈশ্বরের সাক্ষাতে স্মরণ করা গেল, যেন ঈশ্বরের ক্রোধের রোষমদিরাতে পূর্ণ পানপাত্র তাহাকে দেওয়া যায়।
আর তাহার ললাটে এই নাম লিখিত আছে, এক নিগূঢ়তত্ত্ব;
তাহার যন্ত্রণার ভয়ে দূরে দাঁড়াইয়া তাহারা বলিবে, হায়! হায়! সেই মহানগরীর, বাবিলের সেই পরাক্রান্তা নগরীর সন্তাপ, কারণ এক ঘন্টার মধ্যেই তোমার বিচার উপস্থিত!
পরে এক শক্তিমান দূত বৃহৎ এক পাট যাঁতার তুল্য একখান প্রস্তর লইয়া সমুদ্রে নিক্ষেপ করিয়া কহিলেন, ইহার ন্যায় মহানগরী বাবিল মহাবলে নিপাতিতা হইবে, আর কখনও তাহার উদ্দেশ পাওয়া যাইবে না।
আর জাতিগণ তাহার দীপ্তিতে গমনাগমন করিবে; এবং পৃথিবীর রাজারা তাহার মধ্যে আপন আপন প্রতাপ আনেন।