তখন দানিয়েল, যাঁহার নাম বেল্টশৎসর, কিয়ৎকাল স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন, ভাবনাতে বিহ্বল হইলেন। রাজা কহিলেন, হে বেল্টশৎসর, সেই স্বপ্ন ও তাহার তাৎপর্য্য তোমাকে বিহ্বল না করুক। বেল্টশৎসর উত্তর করিলেন, হে আমার প্রভু, এই স্বপ্ন আপনার শত্রুগণের প্রতি ঘটুক, ও ইহার তাৎপর্য্য আপনার বিপক্ষ লোকদের প্রতি ঘটুক।
Cross references
তখন রাহেল পিতাকে কহিলেন, কর্ত্তা, আপনার সাক্ষাতে আমি উঠিতে পারিলাম না, ইহাতে বিরক্ত হইবেন না, কেননা আমি স্ত্রীধর্ম্মিণী আছি। এইরূপে তিনি অন্বেষণ করিলেও সেই ঠাকুরগুলাকে পাইলেন না।
তিনি তাহাদিগকে এই আজ্ঞা করিলেন, তোমরা আমার প্রভু এষৌকে বলিবে, আপনার দাস যাকোব আপনাকে জানাইলেন, আমি লাবনের কাছে প্রবাস করিতেছিলাম, এ পর্য্যন্ত অবস্থিতি করিয়াছি।
তখন তুমি উত্তর করিবে, এই সকল আপনার দাস যাকোবের; তিনি উপঢৌকনরূপে এই সকল আমার প্রভু এষৌর জন্য প্রেরণ করিলেন; আর দেখুন, তিনিও আমাদের পশ্চাৎ আসিতেছেন।
আহা! এখন যদি ইহাদের পাপ ক্ষমা কর—; আর যদি না কর, তবে আমি বিনয় করিতেছি, তোমার লিখিত পুস্তক হইতে আমার নাম কাটিয়া ফেল।
হান্না উত্তর করিলেন, হে আমার প্রভু, তাহা নয়, আমি দুঃখিনী স্ত্রী, দ্রাক্ষারস কিম্বা সুরা পান করি নাই, কিন্তু সদাপ্রভুর সাক্ষাতে আমার মনের কথা ভাঙ্গিয়া বলিয়াছি।
এলি জিজ্ঞাসা করিলেন, তিনি তোমাকে কি কথা কহিলেন? বিনয় করি, আমা হইতে তাহা গোপন করিও না; ঈশ্বর যে যে কথা তোমাকে বলিয়াছেন, তাহার কোন কথা যদি আমা হইতে গোপন কর, তবে তিনি তোমাকে অমুক ও ততোধিক দণ্ড দিউন।
তৎপরে দায়ূদও উঠিয়া গুহা হইতে বাহির হইলেন, এবং শৌলের পশ্চাৎ হইতে ডাকিয়া কহিলেন, হে আমার প্রভু মহারাজ; আর শৌল পশ্চাতে দৃষ্টি করিলে দায়ূদ ভূমিতে মস্তক নমনপূর্ব্বক প্রণিপাত করিলেন।
দায়ূদ অব্নেরকে কহিলেন, তুমি কি পুরুষ নহ? আর ইস্রায়েলের মধ্যে তোমার তুল্য কে? তবে তুমি আপন প্রভু রাজাকে কেন সাবধানে রাখিলে না? দেখ, তোমার প্রভু রাজাকে বিনষ্ট করিতে লোকদের মধ্যে এক জন আসিল।
আর দেখ, কূশীয় আসিল, ও কূশীয় কহিল, আমার প্রভু মহারাজের জন্য সমাচার আনিয়াছি; আপনার বিরুদ্ধে যাহারা উঠিয়াছিল, সেই সকলের হস্ত হইতে সদাপ্রভু অদ্য আপনার বিচার নিষ্পত্তি করিয়াছেন।
ওবদিয় পথ দিয়া যাইতেছিলেন, এমন সময়ে, দেখ, এলিয় তাঁহার সম্মুখে উপস্থিত; তখন ওবদিয় তাঁহাকে চিনিয়া উবুড় হইয়া পড়িয়া কহিলেন, আপনি কি আমার প্রভু এলিয়?
‘হায় আমার অন্ত্র! হায় আমার অন্ত্র! আমি হৃদয়ে ব্যথিত; আমার হৃদয় ধুক্ ধুক্ করিতেছে; আমি নীরব থাকিতে পারি না; কেননা হে আমার প্রাণ, তুমি তূরীর রব ও যুদ্ধের সিংহনাদ শুনিয়াছ।
আর আমি তোমাদিগকে যে নগরে বন্দি করিয়া আনিয়াছি, তথাকার শান্তি চেষ্টা কর, ও সেখানকার নিমিত্ত সদাপ্রভুর কাছে প্রার্থনা কর; কেননা সেখানকার শান্তিতে তোমাদের শান্তি হইবে।
আর নপুংসকগণের অধ্যক্ষ তাঁহাদের নাম রাখিলেন; তিনি দানিয়েলকে বেল্টশৎসর, হনানিয়কে শদ্রক, মীশায়েলকে মৈশক, ও অসরিয়কে অবেদ্নগো নাম দিলেন।
রাজা বেল্টশৎসর নামে আখ্যাত দানিয়েলকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমি যে স্বপ্ন দেখিয়াছি, সেই স্বপ্ন ও তাহার তাৎপর্য্য তুমি কি আমাকে জানাইতে পার?
হে মহারাজ, আপনি রাজাধিরাজ, স্বর্গের ঈশ্বর আপনাকে রাজ্য, ক্ষমতা, পরাক্রম ও মহিমা দিয়াছেন।
আমি নবূখদ্নিৎসর আপন গৃহে শান্তিযুক্ত ও আপন প্রাসাদে তেজস্বী ছিলাম।
অবশেষে দানিয়েল, যাঁহার নাম আমার দেবের নামানুসারে বেল্টশৎসর, যাঁহার অন্তরে পবিত্র দেবগণের আত্মা আছেন, তিনি আমার সম্মুখে আসিলেন, আর আমি তাঁহার কাছে সেই স্বপ্ন বলিলাম; যথা—
হে রাজন্, ইহার তাৎপর্য্য এই; আর আমার প্রভু মহারাজের উপরে যাহা আসিয়াছে, তাহা পরাৎপরেরই নিরূপণ।
কেননা উৎকৃষ্ট আত্মা, জ্ঞান, বুদ্ধিকৌশল এবং স্বপ্নের তাৎপর্য্য বলিবার, গূঢ়বাক্য প্রকাশ করিবার ও সন্দেহ ভঞ্জন করিবার ক্ষমতা সেই দানিয়েলে পাওয়া গিয়াছিল, যাঁহাকে রাজা বেল্টশৎসর নাম দিয়াছিলেন। অতএব সেই দানিয়েলকে আহ্বান করা হউক, তিনি তাৎপর্য্য জানাইবেন।
হে রাজন্, পরাৎপর ঈশ্বর আপনার পিতা নবূখদ্নিৎসরকে রাজ্য, মহিমা, গৌরব ও প্রতাপ দিয়াছিলেন।
তিনি তাঁহাকে যে মহিমা দিয়াছিলেন, তৎপ্রযুক্ত সমস্ত লোকবৃন্দ, জাতি ও ভাষাবাদিগণ তাঁহার সাক্ষাতে কাঁপিত ও ভয় করিত; তিনি যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে বধ করিতেন, যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে সজীব রাখিতেন, এবং যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে উচ্চপদ দিতেন, যাহাকে ইচ্ছা তাহাকে অবনত করিতেন।
আমি দানিয়েল আপন দেহমধ্যে আত্মায় বিষণ্ণ হইলাম ও আমার মনের দর্শন আমাকে বিহ্বল করিল।
এই পর্য্যন্ত বৃত্তান্তের শেষ। আমি দানিয়েল ভাবনায় অত্যন্ত বিহ্বল হইলাম, ও আমার মুখ বিবর্ণ হইল; কিন্তু আমি সেই কথা মনে রাখিলাম।
আর আমি দানিয়েল কিছু দিন ক্লান্ত ও পীড়িত ছিলাম, তাহার পর উঠিয়া রাজার কর্ম্ম করিলাম; আর সেই দর্শনে চমৎকৃত হইলাম, কিন্তু কেহ তাহা বুঝিল না।
আর দেখ, মনুষ্য-সন্তানদের আকৃতিবিশিষ্ট এক ব্যক্তি আমার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করিলেন; তখন আমি মুখ খুলিয়া কথা কহিলাম, যিনি আমার সম্মুখে দাঁড়াইয়াছিলেন, তাঁহাকে কহিলাম, হে আমার প্রভু, এই দর্শন প্রযুক্ত মর্ম্মবেদনা আমাকে ধরিয়াছে, কিছুমাত্র বল রক্ষা করিতে পারিতেছি না।
পর্ব্বতগণ তোমাকে দেখিয়া কাঁপিয়া উঠিল, প্রচণ্ড জলরাশি বহিয়া গেল, বারিধি আপন রব উদীর্ণ করিল, আপন হস্তদ্বয় উচ্চে উঠাইল।