আর দেখ, মনুষ্য-সন্তানদের আকৃতিবিশিষ্ট এক ব্যক্তি আমার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করিলেন; তখন আমি মুখ খুলিয়া কথা কহিলাম, যিনি আমার সম্মুখে দাঁড়াইয়াছিলেন, তাঁহাকে কহিলাম, হে আমার প্রভু, এই দর্শন প্রযুক্ত মর্ম্মবেদনা আমাকে ধরিয়াছে, কিছুমাত্র বল রক্ষা করিতে পারিতেছি না।
Cross references
পরে মোশি সদাপ্রভুকে কহিলেন, হায় প্রভু! আমি বাক্পটু নহি, ইহার পূর্ব্বেও ছিলাম না, বা এই দাসের সহিত তোমার আলাপ করিবার পরেও নহি; কারণ আমি জড়মুখ ও জড়জিহ্ব।
তিনি কহিলেন, হে আমার প্রভু, বিনয় করি, যাহার হাতে পাঠাইতে চাও, পাঠাও।
তিনি কহিলেন, না; কিন্তু আমি সদাপ্রভুর সৈন্যের অধ্যক্ষ, এখনই আসিলাম। তখন যিহোশূয় ভূমিতে উবুড় হইয়া পড়িয়া প্রণিপাত করিলেন, ও তাঁহাকে কহিলেন, হে আমার প্রভু, আপনার এ দাসকে কি আজ্ঞা করেন?
গিদিয়োন তাঁহাকে বলিলেন, নিবেদন করি, হে আমার প্রভু, যদি সদাপ্রভু আমাদের সহবর্ত্তী হন, তবে আমাদের প্রতি এ সমস্ত কেন ঘটিল? এবং আমাদের পিতৃপুরুষেরা তাঁহার যে সমস্ত আশ্চর্য্য কার্য্যের বৃত্তান্ত আমাদিগকে বলিয়াছিলেন, সে সমস্ত কোথায়? তাঁহারা কহিতেন, সদাপ্রভু কি আমাদিগকে মিসর হইতে আনয়ন করে নাই? কিন্তু সম্প্রতি সদাপ্রভু আমাদিগকে ত্যাগ করিয়াছেন, মিদিয়নের হস্তে সমর্পণ করিয়াছেন।
তিনি তাঁহাকে কহিলেন, বিনয় করি, হে প্রভু, ইস্রায়েলকে কিরূপে নিস্তার করিব? দেখুন, মনঃশির মধ্যে আমার গোষ্ঠী সর্ব্বপেক্ষা ক্ষুদ্র, এবং আমার পিতৃকুলে আমি কনিষ্ঠ।
তখন মানোহ সদাপ্রভুর কাছে বিনতি করিয়া কহিলেন, হে প্রভু, ঈশ্বরের যে লোককে আপনি আমাদের কাছে পাঠাইয়াছিলেন, তাঁহাকে পুনর্ব্বার আমাদের কাছে আসিতে দিউন, এবং যে বালকটী জন্মিবে, তাহার প্রতি আমাদের কি কর্ত্তব্য, তাহা আমাদিগকে বুঝাইয়া দিউন।
কেননা প্রজ্ঞার বাহুল্যে মনস্তাপের বাহুল্য হয়; এবং যে বিদ্যার বৃদ্ধি করে, সে ব্যাথার বৃদ্ধি করে।
আর তিনি আমার মুখে তাহা স্পর্শ করাইয়া কহিলেন, দেখ, ইহা তোমার ওষ্ঠাধর স্পর্শ করিয়াছে, তোমার অপরাধ ঘুচিয়া গেল ও তোমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হইল।
পরে সদাপ্রভু আপন হস্ত বিস্তার করিয়া আমার মুখ স্পর্শ করিলেন, এবং সদাপ্রভু আমাকে কহিলেন, দেখ, আমি আমার বাক্য তোমার মুখে দিলাম;
আর তাহাদের মস্তকের উপরিস্থ বিতানের ঊর্দ্ধে এক সিংহাসনের, নীলকান্তমণিবৎ আভাবিশিষ্ট এক সিংহাসনের মূর্ত্তি ছিল; সেই সিংহাসন-মূর্ত্তির উপরে মনুষ্যের আকৃতিবৎ এক মূর্ত্তি ছিল, তাহা তাহার ঊর্দ্ধে ছিল।
কিন্তু যখন আমি তোমার সঙ্গে কথা বলি, তখন তোমার মুখ খুলিয়া দিব, তাহাতে তুমি তাহাদিগকে এই কথা কহিবে, প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন; যে শুনে সে শুনুক, যে না শুনে সে না শুনুক; কেননা তাহারা বিদ্রোহীকুল।
আর সেই পলাতকের আসিবার পূর্ব্বে সন্ধ্যাকালে সদাপ্রভু আমার উপরে হস্তার্পণ করিয়াছিলেন, এবং প্রাতঃকালে সেই পলাতকের উপস্থিত হইবার অপেক্ষায় তিনি আমার মুখ খুলিয়া দিলেন, তখন আমার মুখ খুলিয়া গেল, আমি আর বোবা রহিলাম না।
আমি দানিয়েল আপন দেহমধ্যে আত্মায় বিষণ্ণ হইলাম ও আমার মনের দর্শন আমাকে বিহ্বল করিল।
এই পর্য্যন্ত বৃত্তান্তের শেষ। আমি দানিয়েল ভাবনায় অত্যন্ত বিহ্বল হইলাম, ও আমার মুখ বিবর্ণ হইল; কিন্তু আমি সেই কথা মনে রাখিলাম।
আমি দানিয়েল এইরূপ দর্শন পাইলে পর তাহা বুঝিবার চেষ্টা করিলাম; আর দেখ, পুরুষাকৃতি এক ব্যক্তি আমার সম্মুখে আসিয়া দাঁড়াইলেন;
তাহাতে আমি যে স্থানে দাঁড়াইয়া ছিলাম, তিনি সেই স্থানের নিকটে আসিলেন; তিনি আসিলে আমি ত্রাসযুক্ত হইলাম, উপুড় হইয়া পড়িলাম; কিন্তু তিনি আমাকে কহিলেন, হে মনুষ্য-সন্তান, বুঝিয়া লও, কারণ এই দর্শন শেষকাল-বিষয়ক।
আর আমি দানিয়েল কিছু দিন ক্লান্ত ও পীড়িত ছিলাম, তাহার পর উঠিয়া রাজার কর্ম্ম করিলাম; আর সেই দর্শনে চমৎকৃত হইলাম, কিন্তু কেহ তাহা বুঝিল না।
আমার প্রার্থনার কথা শেষ হইতে না হইতে, আমি প্রথম দর্শনে যে ব্যক্তিকে দেখিয়াছিলাম, সেই গাব্রিয়েল বেগে উড়িয়া আসিয়া সন্ধ্যাকালীন নৈবেদ্যের সময়ে আমাকে স্পর্শ করিলেন।
আর দেখ, মসীনা-বস্ত্র পরিহিত ও ঊফসের উত্তম স্বর্ণে বদ্ধকটি এক ব্যক্তি;
এই জন্য আমি একা থাকিয়া সেই মহৎ দর্শন প্রাপ্ত হইলাম, আর আমাতে বল রহিল না; আমার তেজ ক্ষয়ে পরিণত হইল, আমি কিছুমাত্র বল রক্ষা করিতে পারিলাম না।
কারণ আমার এই প্রভুর দাস কি প্রকারে আমার এই প্রভুর সহিত কথা কহিতে পারে? এক্ষণে আমার কিছুমাত্র বল নাই, আমার মধ্যে শ্বাসও নাই।
আমি এই কথা শুনিলাম বটে, কিন্তু বুঝিতে পারিলাম না; তখন আমি কহিলাম, হে আমার প্রভু, এই সকলের শেষফল কি হইবে?
আর তখনই তাঁহার মুখ ও তাঁহার জিহ্বা খুলিয়া গেল, আর তিনি কথা কহিলেন, ঈশ্বরের ধন্যবাদ করিতে লাগিলেন।
কেননা আমি তোমাদিগকে এমন মুখ ও বিজ্ঞতা দিব যে, তোমাদের বিপক্ষেরা কেহ প্রতিরোধ করিতে কি উত্তর দিতে পারিবে না।
থোমা উত্তর করিয়া তাঁহাকে কহিলেন, প্রভু আমার, ঈশ্বর আমার!
কিন্তু আপনাকে শূন্য করিলেন, দাসের রূপ ধারণ করিলেন, মনুষ্যদের সাদৃশ্যে জন্মিলেন;
সপ্ত সুবর্ণ দীপবৃক্ষ, ও সেই সকল দীপবৃক্ষের মধ্যে “মনুষ্যপুত্রের ন্যায় এক ব্যক্তি”; তিনি পাদপর্য্যন্ত পরিচ্ছদে আচ্ছন্ন, এবং “বক্ষঃস্থলে সুবর্ণ পটুকায় বদ্ধকটি;