Home Book41 4 · বাংলা বাইবেল

Book41

Chapter 4

বাংলা বাইবেল
1পরে তিনি আবার সমুদ্রের তীরে উপদেশ দিতে লাগিলেন; তাহাতে তাঁহার নিকটে এত অধিক লোক একত্র হইল যে, তিনি একখানি নৌকায় উঠিয়া সমুদ্রে বসিলেন, এবং সমাগত লোক সকল সমুদ্রের তীরে স্থলে থাকিল।
2তখন তিনি দৃষ্টান্ত দ্বারা তাহাদিগকে অনেক উপদেশ দিতে লাগিলেন। উপদেশের মধ্যে তিনি তাহাদিগকে বলিলেন,
3শুন; দেখ, বীজবাপক বীজ বপন করিতে গেল;
4বপনের সময়ে কতক বীজ পথের পার্শ্বে পড়িল, তাহাতে পক্ষীরা আসিয়া তাহা খাইয়া ফেলিল।
5আর কতক বীজ পাষাণময় স্থানে পড়িল, যেখানে অধিক মাটী পাইল না; তাহাতে অধিক মাটী না পাওয়াতে তাহা শীঘ্র অঙ্কুরিত হইয়া উঠিল,
6কিন্তু সূর্য্য উঠিলে পর পুড়িয়া গেল, এবং তাহার মূল না থাকাতে শুকাইয়া গেল।
7আর কতক বীজ কাঁটাবনের মধ্যে পড়িল, তাহাতে কাঁটাবন বাড়িয়া তাহা চাপিয়া রাখিল, তাহার ফল ধরিল না।
8আর কতক বীজ উত্তম ভূমিতে পড়িল, তাহা অঙ্কুরিত হইয়া ও বাড়িয়া উঠিয়া ফল দিল; কতক ত্রিশ গুণ, কতক ষাট গুণ, ও কতক শত গুণ ফল দিল।
9পরে তিনি কহিলেন, যাহার শুনিবার কাণ থাকে, সে শুনুক।
10যখন তিনি নির্জ্জনে ছিলেন, তাঁহার সঙ্গীরা সেই দ্বাদশ জনের সহিত তাঁহাকে দৃষ্টান্ত কয়টীর বিষয়ে জিজ্ঞাসা করিলেন।
11তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, ঈশ্বরের রাজ্যের নিগূঢ় তত্ত্ব তোমাদিগকে দত্ত হইয়াছে; কিন্তু ঐ বাহিরের লোকদের নিকটে সকলই দৃষ্টান্ত দ্বারা বলা হইয়া থাকে;
12যেন তাহারা দেখিয়া দেখে, কিন্তু টের না পায়, এবং শুনিয়া শুনে, কিন্তু না বুঝে, পাছে তাহারা ফিরিয়া আইসে, ও তাহাদিগকে ক্ষমা করা যায়।
13পরে তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, এই দৃষ্টান্ত কি বুঝিতে পার না? তবে কেমন করিয়া সকল দৃষ্টান্ত বুঝিতে পারিবে?
14সেই বীজবাপক বাক্য-বীজ বুনে।
15পথের পার্শ্বে যাহারা, তাহারা এমন লোক যাহাদের মধ্যে বাক্য-বীজ বুন যায়; আর যখন তাহারা শুনে তৎক্ষণাৎ শয়তান আসিয়া, তাহাদের মধ্যে যাহা বপন করা হইয়াছিল, সেই বাক্য হরণ করিয়া লইয়া যায়।
16আর সেইরূপ যাহারা পাষাণময় ভূমিতে উপ্ত, তাহারা এমন লোক, যাহারা বাক্যটী শুনিয়া তৎক্ষণাৎ আহ্লাদপূর্ব্বক গ্রহণ করে;
17আর তাহাদের অন্তরে মূল নাই, কিন্তু তাহারা অল্প কালমাত্র স্থির থাকে, পরে সেই বাক্য হেতু ক্লেশ কিম্বা তাড়না ঘটিলে তৎক্ষণাৎ বিঘ্ন পায়।
18আর অন্য যাহারা কাঁটাবনের মধ্যে উপ্ত, তাহারা এমন লোক, যাহারা বাক্যটী শুনিয়াছে,
19কিন্তু সংসারের চিন্তা, ধনের মায়া ও অন্যান্য বিষয়ের অভিলাষ ভিতরে গিয়া ঐ বাক্য চাপিয়া রাখে, তাহাতে তাহা ফলহীন হয়।
20আর যাহারা উত্তম ভূমিতে উপ্ত, তাহারা এমন লোক, যাহারা সেই বাক্য শুনিয়া গ্রাহ্য করে, এবং কেহ ত্রিশ গুণ, কেহ ষাট গুণ, ও কেহ শত গুণ, ফল দেয়।
21তিনি তাহাদিগকে আরও কহিলেন, কাঠার নীচে কিম্বা খাটের নীচে রাখিবার জন্য কেহ কি প্রদীপ আনে? না দীপাধারের উপরে রাখিবার জন্য?
22কেননা এমন গুপ্ত কিছুই নাই, যাহা প্রকাশিত হইবে না; এমন লুক্কায়িত কিছুই নাই, যাহা প্রকাশ পাইবে না।
23যাহার শুনিবার কাণ থাকে, সে শুনুক।
24আর তিনি তাহাদিগকে কহিলেন, তোমরা দেখিও, কি শুন; তোমরা যে পরিমাণে পরিমাণ কর, সেই পরিমাণে তোমাদের নিমিত্ত পরিমাপ করা যাইবে; এবং তোমাদিগকে আরও দেওয়া যাইবে।
25কারণ যাহার আছে, তাহাকে আরও দেওয়া যাইবে; আর যাহার নাই, তাহার যাহা আছে, তাহাও তাহার নিকট হইতে লওয়া যাইবে।
26তিনি আরও কহিলেন, ঈশ্বরের রাজ্য এইরূপ।
27কোন ব্যক্তি যেন ভূমিতে বীজ বুনে; পরে রাত দিন নিদ্রা যায় ও উঠে, ইতিমধ্যে ঐ বীজ অঙ্কুরিত হইয়া বাড়িয়া উঠে, কিরূপে, তাহা সে জানে না।
28ভূমি আপনা আপনি ফল উৎপন্ন করে; প্রথমে অঙ্কুর, পরে শীষ, তাহার পর শীষের মধ্যে পূর্ণ শস্য।
29কিন্তু ফল পাকিলে সে তৎক্ষণাৎ কাস্তে লাগায়, কেননা শস্য কাটিবার সময় উপস্থিত।
30আর তিনি কহিলেন, আমরা কিসের সহিত ঈশ্বরের রাজ্যের তুলনা করিব? কোন্‌ দৃষ্টান্ত দ্বারাই বা তাহা ব্যক্ত করিব?
31তাহা একটী সরিষা-দানার তুল্য; সেই বীজ ভূমিতে বুনিবার সময়ে ভূমির সকল বীজের মধ্যে অতি ক্ষুদ্র বটে,
32কিন্তু বুনা হইলে তাহা অঙ্কুরিত হইয়া সকল শাক হইতে বড় হইয়া উঠে, এবং বড় বড় ডাল ফেলে; তাহাতে আকাশের পক্ষিগণ তাহার ছায়ার নীচে বাস করিতে পারে।
33এই প্রকার অনেকগুলি দৃষ্টান্ত দ্বারা তিনি তাহাদের শুনিবার ক্ষমতা অনুসারে তাহাদের কাছে বাক্য প্রচার করিতেন;
34আর দৃষ্টান্ত ব্যতিরেকে তাহাদিগকে কিছুই বলিতেন না; পরে বিরলে আপন শিষ্যদিগকে সমস্ত বুঝাইয়া দিতেন।
35সেই দিন সন্ধ্যা হইলে তিনি তাঁহাদিগকে বলিলেন, চল, আমরা ওপারে যাই।
36তখন তাঁহারা লোকদিগকে বিদায় করিয়া, তিনি নৌকাখানিতে যেমন ছিলেন, তেমনি তাঁহাকে সঙ্গে লইয়া গেলেন; এবং আরও নৌকা তাঁহার সঙ্গে ছিল।
37পরে ভারী ঝড় উঠিল, এবং তরঙ্গমালা নৌকায় এমনি আঘাত করিল যে, নৌকা জলে পূর্ণ হইতে লাগিল।
38তখন তিনি নৌকার পশ্চাদ্‌ভাগে বালিশে মাথা দিয়া নিদ্রিত ছিলেন; আর তাঁহারা তাঁহাকে জাগাইয়া কহিলেন, হে গুরু, আপনার কি চিন্তা হইতেছে না যে, আমরা মারা পড়িলাম?
39তখন তিনি জাগিয়া উঠিয়া বাতাসকে ধমক্‌ দিলেন, ও সমুদ্রকে বলিলেন, নীরব হও, স্থির হও; তাহাতে বাতাস থামিল, এবং মহাশান্তি হইল।
40পরে তিনি তাঁহাদিগকে কহিলেন, তোমরা এরূপ ভীরু হও কেন? এ কেমন, তোমাদের বিশ্বাস নাই?
41তাহাতে তাঁহারা অতিশয় ভীত হইয়া পরস্পর কহিতে লাগিলেন, ইনি তবে কে যে, বায়ু এবং সমুদ্রও ইহাঁর আজ্ঞা মানে?
Bible Study with Steffi App

Memorize verses with spaced repetition. Free, no ads, 15+ languages.

Download Free ↗

Choose Theme