অতএব স্মরণ কর, কোথা হইতে পতিত হইয়াছ, এবং মন ফিরাও ও প্রথম কর্ম্ম সকল কর; নতুবা যদি মন না ফিরাও, আমি তোমার নিকটে আসিব ও তোমার দীপবৃক্ষ স্বস্থান হইতে দূর করিব।
Cross references
আর পূর্ব্বে যেমন ছিল, তেমনি পুনর্ব্বার তোমাকে বিচারকর্ত্তৃগণ দিব; প্রথমে যেমন ছিল, তেমনি মন্ত্রিগণ দিব; তৎপরে তুমি ‘ধার্ম্মিকতার পুরী, সতী নগরী’ নামে আখ্যাত হইবে।
হে প্রভাতি-তারা! ঊষা-নন্দন! তুমি ত স্বর্গভ্রষ্ট হইয়াছ! হে জাতিগণের নিপাতনকারী, তুমি ছিন্ন ও ভূপাতিত হইয়াছ!
তুমি যাও, যিরূশালেমের কর্ণগোচরে এই কথা প্রচার কর, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, তোমার পক্ষে তোমার যৌবনের ভক্তি, তোমার বিবাহকালের প্রেম আমার স্মরণ হয়; তুমি আমার পশ্চাতে প্রান্তরে, যেখানে বপন করা যায় নাই, এমন দেশে গমন করিয়াছিলে।
তখন তুমি আপন আচার ব্যবহার স্মরণ করিয়া লজ্জিতা হইবে, যখন আপনার ভগিনীদিগকে, আপনার বড় ও ছোট ভগিনীদিগকে, গ্রহণ করিবে; আর আমি তাহাদিগকে কন্যাদের ন্যায় তোমাকে দিব, কিন্তু তোমার নিয়মক্রমে নয়।
আর সেখানে তোমরা সেই আচার ব্যবহার ও সমস্ত ক্রিয়াকাণ্ড স্মরণ করিবে, যদ্দ্বারা আপনাদিগকে অশুচি করিয়াছ; আর তোমাদের কৃত সমস্ত কুক্রিয়া প্রযুক্ত তোমরা আপনাদের দৃষ্টিতে আপনাদিগকে ঘৃণা করিবে।
তখন তোমরা আপনাদের মন্দ আচরণ ও অসৎক্রিয়া সকল স্মরণ করিবে, এবং আপনাদের অপরাধ ও জঘন্য কার্য্য প্রযুক্ত আপনাদের দৃষ্টিতে আপনাদিগকে অতিশয় ঘৃণা করিবে।
আমি প্রান্তরে দ্রাক্ষাফলের ন্যায় ইস্রায়েলকে পাইয়াছিলাম; আমি ডুমুরবৃক্ষের অগ্রিম আশুপক্ব ফলের ন্যায় তোমাদের পিতৃপুরুষদিগকে দেখিয়াছিলাম; কিন্তু তাহারা বালপিয়োরের কাছে গিয়া সেই লজ্জাস্পদের উদ্দেশে আপনাদিগকে পৃথক্ করিল, এবং আপনাদের সেই জারের ন্যায় জঘন্য হইয়া পড়িল।
হে ইস্রায়েল, তুমি তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভুর কাছে ফিরিয়া আইস; কেননা তুমি নিজ অপরাধে উছোট খাইয়াছ।
তখন যিহূদার ও যিরূশালেমের নৈবেদ্য সদাপ্রভুর তুষ্টিজনক হইবে, যেমন পূর্ব্বকালে, আদিকালের বৎসর-সমূহে হইয়াছিল।
সে সন্তানদের প্রতি পিতৃগণের হৃদয়, ও পিতৃগণের প্রতি সন্তানদের হৃদয় ফিরাইবে; পাছে আমি আসিয়া পৃথিবীকে অভিশাপে আঘাত করি।
তাহারা তাঁহাকে বলিল, সেই দুষ্টদিগকে নিদারুণরূপে বিনষ্ট করিবেন, এবং সেই ক্ষেত্র এমন অন্য কৃষকদিগকে জমা দিবেন, যাহারা ফলের সময়ে তাঁহাকে ফল দিবে।
কিন্তু সেই দুষ্ট দাস যদি মনে মনে বলে, ‘আমার প্রভুর আসিবার বিলম্ব আছে,’
সেই দ্রাক্ষাক্ষেত্রের কর্ত্তা কি করিবেন? তিনি আসিয়া সেই কৃষকদিগকে বিনষ্ট করিবেন, এবং ক্ষেত্র অন্য লোকদিগকে দিবেন।
সে তাঁহার সম্মুখে এলিয়ের আত্মায় ও পরাক্রমে গমন করিবে, যেন পিতৃগণের হৃদয় সন্তানদের প্রতি, ও অনাজ্ঞাবহদিগকে ধার্ম্মিকদের বিজ্ঞতায় চলিবার জন্য ফিরাইতে পারে, প্রভুর নিমিত্ত সুসজ্জিত এক প্রজামণ্ডলী প্রস্তুত করিতে পারে।
কিন্তু সেই দাস যদি মনে মনে বলে, আমার প্রভুর আসিবার বিলম্ব আছে, এবং সে দাস দাসীদিগকে প্রহার করিতে, ভোজন পান করিতে ও মত্ত হইতে আরম্ভ করে,
তিনি আসিয়া এই কৃষকদিগকে বিনষ্ট করিবেন, এবং ক্ষেত্র অন্য লোকদিগকে দিবেন। এই কথা শুনিয়া তাহারা কহিল, এমন না হউক।
ঈশ্বর সেই অজ্ঞানতার কাল উপেক্ষা করিয়াছিলেন, কিন্তু এখন সর্ব্বস্থানের সকল মনুষ্যকে মনপরিবর্ত্তন করিতে আজ্ঞা দিতেছেন;
তোমরা যে সকল লোক ব্যবস্থা দ্বারা ধার্ম্মিক গণিত হইতে যত্ন করিতেছ, তোমরা খ্রীষ্ট হইতে বিচ্ছিন্ন হইয়াছ, তোমরা অনুগ্রহ হইতে পতিত হইয়াছ।
তোমরা বরং পূর্ব্বকার সেই সময় স্মরণ কর, যখন তোমরা দীপ্তিপ্রাপ্ত হইয়া নানা দুঃখভোগরূপ ভারী সংগ্রাম সহ্য করিয়াছিলে,
এই কারণ আমি তোমাদিগকে এই সকল সর্ব্বদা স্মরণ করাইয়া দিতে প্রস্তুত থাকিব; যদিও তোমরা এ সকল জান, এবং বর্ত্তমান সত্যে সুস্থিরও আছ।
আর যিনি তোমাদিগকে উছোট খাওয়া হইতে রক্ষা করিতে, এবং আপন প্রতাপের সাক্ষাতে নির্দ্দোষ অবস্থায় সানন্দে উপস্থিত করিতে পারেন,
আমার দক্ষিণ হস্তে যে সপ্ত তারা দেখিলে, তাহার নিগূঢ়তত্ত্ব এবং সপ্ত সুবর্ণ দীপবৃক্ষ এই; সেই সপ্ত তারা ঐ সপ্ত মণ্ডলীর দূত, এবং সেই সপ্ত দীপবৃক্ষ ঐ সপ্ত মণ্ডলী।
আমি জানি তোমার কার্য্য সকল এবং তোমার পরিশ্রম ও ধৈর্য্য; আর আমি জানি যে, তুমি দুষ্টদিগকে সহ্য করিতে পার না, এবং আপনাদিগকে প্রেরিত বলিলেও যাহারা প্রেরিত নয়, তাহাদিগকে পরীক্ষা করিয়াছ ও মিথ্যাবাদী নিশ্চয় করিয়াছ;
অতএব মন ফিরাও, নতুবা আমি শীঘ্রই তোমার নিকটে আসিব, এবং আমার মুখের তরবারি দ্বারা তাহাদের সহিত যুদ্ধ করিব।
আমি জানি তোমার কর্ম্ম সকল ও তোমার প্রেম ও বিশ্বাস ও পরিচর্য্যা ও ধৈর্য্য, আর তোমার প্রথম কর্ম্ম অপেক্ষা প্রচুরতর শেষ কর্ম্ম আমি জানি।
আমি তাহাকে মন ফিরাইবার জন্য সময় দিয়াছিলাম, কিন্তু সে নিজ ব্যভিচার হইতে মন ফিরাইতে চায় না।
জাগ্রৎ হও, এবং অবশিষ্ট যে সকল বিষয় মৃতকল্প হইল, তাহা সুস্থির কর; কেননা আমি তোমার কোন কার্য্য আমার ঈশ্বরের সাক্ষাতে সিদ্ধ দেখি নাই।
আমি যত লোককে ভালবাসি, সেই সকলকে অনুযোগ করি ও শাসন করি; অতএব উদ্যোগী হও, ও মন ফিরাও।
এই সকল আঘাতে যাহারা হত হইল না, সেই অবশিষ্ট মনুষ্যেরা আপন আপন হস্তকৃত কর্ম্ম হইতে মন ফিরাইল না, অর্থাৎ ভূতগণের ভজনা হইতে, এবং “যে প্রতিমাগণ দেখিতে বা শুনিতে বা চলিতে পারে না, সেই সকল স্বর্ণ, রৌপ্য, পিত্তল, প্রস্তর ও কাষ্ঠময় প্রতিমাগণের” ভজনা হইতে নিবৃত্ত হইল না।
তখন মনুষ্যেরা মহা উত্তাপে তাপিত হইল, এবং যিনি এই সকল আঘাতের উপরে কর্ত্তৃত্ব করেন, সেই ঈশ্বরের নামের নিন্দা করিল; তাঁহাকে গৌরব প্রদান করিবার জন্য মন ফিরাইল না।