আর পৃথিবীর যে সকল রাজা তাহার সঙ্গে ব্যভিচার ও বিলাস করিত, তাহারা তাহার দাহের ধূম দেখিয়া তাহার জন্য রোদন ও বক্ষে করাঘাত করিবে;
Cross references
তথায় গমন করিলেন; এবং সদোম ও ঘমোরার দিকে ও সেই অঞ্চলের সমস্ত ভূমির দিকে চাহিয়া দেখিলেন, আর দেখ, ভাটীর ধূমের ন্যায় সেই দেশের ধূম উঠিতেছে।
ফলতঃ সদাপ্রভু আপন ক্রোধে ও রোষে যে সদোম, ঘমোরা, অদ্মা ও সবোয়িম নগর উৎসন্ন করিয়াছিলেন, তাহার মত এই দেশের সমস্ত ভূমি গন্ধক, লবণ ও দহনে পরিপূর্ণ হইয়াছে, তাহাতে কিছুই বুনা যায় না, ও তাহা ফল উৎপন্ন করে না, ও তাহাতে কোন তৃণ হয় না, এ সকল যখন দেখিবে; তখন তাহারা বলিবে, এমন কি,
ধার্ম্মিক লোক প্রতিফল দেখিয়া আনন্দিত হইবে, সে দুর্জ্জনের রক্তে আপন পাদ প্রক্ষালন করিবে;
আর বাবিল—রাজ্য সকলের সেই রত্ন ও কল্দীয়দের শ্লাঘার সেই লাবণ্য—ঈশ্বরকর্ত্তৃক উৎপাটিত সদোম ও ঘমোরার সদৃশ হইবে।
কেননা তোফৎ [অগ্নিকুণ্ড] পূর্ব্বকালাবধি সাজান রহিয়াছে, তাহাই রাজার জন্য প্রস্তুত আছে; তিনি তাহা গভীর ও প্রশস্ত করিয়াছেন; তাহার চিতা অগ্নি ও প্রচুর কাষ্ঠময়; সদাপ্রভুর ফুৎকার গন্ধকস্রোতের ন্যায় তাহা প্রজ্বলিত করিবে।
তথাকার প্রবাহ সকল আল্কাতরায়, তথাকার ধূলি গন্ধকে পরিণত হইবে, তথাকার ভূমি প্রজ্বলিত আল্কাতরা হইবে।
সদাপ্রভু এই কথা কহেন, ঈশ্বর যখন সদোম, ঘোমরা ও তন্নিকটস্থ নগর সকল উৎপাটন করিয়াছিলেন, তখন যেরূপ হইয়াছিল, সেইরূপ হইবে; কোন ব্যক্তি সেখানে বাস করিবে না, কোন মনুষ্য-সন্তান তাহার মধ্যে প্রবাস করিবে না।
বাবিল পরহস্তগত হইয়াছে, এই শব্দে পৃথিবী কাঁপিতেছে, ও জাতিগণের মধ্যে ক্রন্দনের রব শুনা যাইতেছে।
তখন সমুদ্রের অধ্যক্ষগণ সকলে আপন আপন সিংহাসন হইতে নামিবে, আপন আপন পরিচ্ছদ ত্যাগ করিবে, শিল্পকর্ম্মের বস্ত্র সকল খুলিয়া ফেলিবে; তাহারা ত্রাস পরিধান করিবে; তাহারা ভূমিতে বসিবে, অনুক্ষণ ত্রাসযুক্ত থাকিবে ও তোমার বিষয়ে বিস্ময়াপন্ন হইবে।
আর আমি বহু জাতির মনে ত্রাস জন্মাইব, যখন তোমার অজ্ঞাত নানা দেশে জাতিগণের মধ্যে তোমার ভঙ্গ উপস্থিত করিব।
তিনি উচ্চৈঃস্বরে এই কথা কহিলেন, বৃক্ষটী ছেদন কর, উহার শাখা কাটিয়া ফেল, উহার পত্র ঝাড়িয়া ফেল, এবং উহার ফল ছড়াইয়া দেও; উহার তল হইতে পশুগণ ও উহার শাখা হইতে পক্ষিগণ চলিয়া যাউক।
হে দেবদারু, হাহাকার কর, কেননা এরসবৃক্ষ পতিত, তরুরাজ সকল নষ্ট হইল; হে বাশনের অলোনবৃক্ষ সকল হাহাকার কর, কেননা দুর্গম বন ভূমিসাৎ হইল।
তাহাদের যাতনার ধূম যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে উঠে”; যাহারা সেই পশু ও তাহার প্রতিমূর্ত্তির ভজনা করে, এবং যে কেহ তাহার নামের ছাব ধারণ করে, তাহারা দিবাতে কি রাত্রিতে কখনও বিশ্রাম পায় না।
“যাহার সহিত পৃথিবীর রাজগণ ব্যভিচার করিয়াছে, এবং পৃথিবী-নিবাসীরা যাহার বেশ্যাক্রিয়ার মদিরাতে মত্ত হইয়াছে”।
আর তুমি যে দশ শৃঙ্গ দেখিলে, সে দশ রাজা; তাহারা এ পর্য্যন্ত রাজ্য প্রাপ্ত হয় নাই, কিন্তু এক ঘন্টার নিমিত্তে সেই পশুর সহিত রাজাদের ন্যায় কর্ত্তৃত্ব পাইবে।
কেননা সমুদয় জাতি তাহার বেশ্যা ক্রিয়ার রোষমদিরা পান করিয়াছে, এবং পৃথিবীর রাজগণ তাহার সহিত ব্যভিচার করিয়াছে, এবং পৃথিবীর বণিকেরা তাহার বিলাসিতার প্রতাবে ধনবান্ হইয়াছে।’
সে যত আত্মগৌরব ও বিলাস করিত, তাহাকে তত যন্ত্রণা ও শোক দেও। কেননা সে মনে মনে বলিতেছে, আমি রাণীর মত সিংহাসনে বসিয়া আছি, বিধবা নহি, কোন মতে শোক দেখিব না।
এবং তাহার দাহের ধূম দেখিয়া উচ্চৈঃস্বরে কহিল, সেই মহানগরীর তুল্য কোন্ নগর?
হে স্বর্গ, হে পবিত্রগণ, হে প্রেরিতগণ, হে ভাববাদিগণ, তোমরা তাহার বিষয়ে আনন্দ কর; কেননা সে তোমাদের প্রতি যে অন্যায় করিয়াছে, ঈশ্বর তাহার প্রতীকার করিয়াছেন।
পরে তাহারা দ্বিতীয় বার কহিল, হাল্লিলূয়া; আর যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে সেই বেশ্যার ধূম উঠিতেছে।