কিন্তু আমি তোমাদিগকে কহিতেছি, যে কেহ আপন ভ্রাতার প্রতি ক্রোধ করে, সে বিচারের দায়ে পড়িবে; আর যে কেহ আপন ভ্রাতাকে বলে, ‘রে নির্ব্বোধ,’ সে মহাসভার দায়ে পড়িবে। আর যে কেহ বলে, ‘রে মূঢ়,’ সে অগ্নিময় নরকের দায়ে পড়িবে।
Cross references
কিন্তু কয়িনকে ও তাহার উপহার গ্রাহ্য করিলেন না; এই নিমিত্ত কয়িন অতিশয় ক্রুদ্ধ হইল, তাহার মুখ বিষণ্ণ হইল।
কিন্তু পিতা তাহার সকল ভ্রাতা অপেক্ষা তাহাকে অধিক ভাল বাসেন, ইহা দেখিয়া তাহার ভ্রাতৃগণ তাহাকে দ্বেষ করিত, তাহার সঙ্গে প্রণয়ভাবে কথা কহিতে পারিত না।
ইহাতে তাহার ভ্রাতৃগণ তাহাকে কহিল, তুই কি বাস্তবিক আমাদের রাজা হইবি? আমাদের উপরে বাস্তবিক কর্ত্তৃত্ব করিবি? ফলে তাহারা তাহার স্বপ্ন ও তাহার বাক্য প্রযুক্ত তাহাকে আরও দ্বেষ করিল।
কেননা তোমার দেশমধ্যে দরিদ্রের অভাব হইবে না; অতএব আমি তোমাকে এই আজ্ঞা দিতেছি, তুমি আপন দেশে তোমার ভ্রাতার প্রতি, তোমার দুঃখী ও দীনহীনের প্রতি, তোমার হাত অবশ্য খুলিয়া রাখিবে।
আমি উহাদের জন্য উহাদের ভ্রাতৃগণের মধ্য হইতে তোমার সদৃশ এক ভাববাদী উৎপন্ন করিব, ও তাঁহার মুখে আমার বাক্য দিব; আর আমি তাঁহাকে যাহা যাহা আজ্ঞা করিব, তাহা তিনি উহাদিগকে বলিবেন।
তাহাতে লোকেরা এই প্রকারে তাঁহাকে উত্তর করিল, উহাকে যে বধ করিবে, সে অমুক পুরস্কার পাইবে।
তাহাতে শৌল অতি ক্রুদ্ধ হইলেন, তিনি এই কথায় অসন্তুষ্ট হইয়া কহিলেন, উহারা দায়ূদের বিষয়ে অযুত অযুতের কথা বলিল, ও আমার বিষয়ে কেবল সহস্র সহস্রের কথা বলিল; ইহাতে রাজত্ব ব্যতীত সে আর কি পাইবে?
তখন যোনাথনের প্রতি শৌলের ক্রোধ প্রজ্বলিত হইল, তিনি তাঁহাকে কহিলেন, অরে বক্রশীলা বিদ্রোহিণী স্ত্রীর পুত্র, আমি কি জানি না যে, তুই আপনার লজ্জা ও মাতার আবরণীয়ের লজ্জা জন্মাইতে যিশয়ের পুত্রকে মনোনীত করিয়াছিস্?
তখন শৌল কহিলেন, হে অহীটূবের পুত্র, শুন। তিনি উত্তর করিলেন, হে আমার প্রভু, দেখুন, এই আমি।
পরে দায়ূদ আপন পরিজনদিগকে আশীর্ব্বাদ করণার্থে ফিরিয়া আসিলেন; তখন শৌলের কন্যা মীখল দায়ূদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করিতে বাহিরে আসিয়া কহিলেন, অদ্য ইস্রায়েলের রাজা কেমন সমাদৃত হইলেন; কোন অসারচিত্ত লোক যেমন প্রকাশ্যরূপে বিবস্ত্র হয়, তদ্রূপ তিনি অদ্য আপন দাসগণের দাসীদিগের সাক্ষাতে বিবস্ত্র হইলেন।
শিমিয়ি শাপ দিতে দিতে এই কথা কহিল, যা, যা, তুই রক্তপাতী, তুই পাষণ্ড।
তখন, ‘আমি পৈতৃক অধিকার আপনাকে দিব না,’ যিষ্রিয়েলীয় নাবোতের উক্ত এই কথায় আহাব বিষণ্ণ ও রুষ্ট হইয়া আপন গৃহে আসিলেন, এবং শয্যাতে পড়িয়া রহিলেন, মুখ ফিরাইয়া থাকিলেন, খাদ্য গ্রহণ করিলেন না।
তখন আসা ঐ দর্শকের প্রতি অসন্তুষ্ট হইয়া তাঁহাকে কারাগৃহে রাখিলেন; কেননা ঐ কথা প্রযুক্ত তিনি তাঁহার উপরে কোপান্বিত হইয়াছিলেন। আর ঐ সময়ে আসা প্রজাদের মধ্যেও কতকগুলি লোকের প্রতি দৌরাত্ম্য করিলেন।
আর আমি তাহাদিগকে কহিলাম, জাতিগণের কাছে আমাদের যে যিহূদী ভ্রাতৃগণ বিক্রীত ছিল, তাহাদিগকে আমরা সাধ্যানুসারে মুক্ত করিয়াছি; এখন তোমাদের ভ্রাতৃগণকে তোমরাই কি বিক্রয় করিবে? আমাদের কাছে কি তাহাদিগকে বিক্রয় করা হইবে? তাহাতে তাহারা নীরব হইল, কিছু উত্তর করিতে পারিল না।
আর হামন যখন দেখিল যে, মর্দখয় তাহার কাছে নত হইয়া প্রণিপাত করে না, তখন সে ক্রোধে পরিপূর্ণ হইল।
যদি আমি প্রণয়ীর অপকার করিয়া থাকি, (বরং যে অকারণে আমার বৈরী, তাহাকেও উদ্ধার করিয়াছি,)
মূঢ় মনে মনে বলিয়াছে, ‘ঈশ্বর নাই’। তাহারা নষ্ট, তাহারা ঘৃণার্হ কর্ম্ম করিয়াছে; সৎকর্ম্ম করে এমন কেহই নাই।
যে সকল লোক তোমার অপেক্ষা করে, তাহারা লজ্জিত হইবে না; যাহারা অকারণে বিশ্বাসঘাতকতা করে, তাহারাই লজ্জিত হইবে।
আমার শত্রুগণকে আমার বিষয়ে অন্যায় আনন্দ করিতে দিও না, যাহারা অকারণে আমাকে দ্বেষ করে, তাহাদিগকে ভ্রূকুটি করিতে দিও না।
ক্রোধ হইতে নিবৃত্ত হও, কোপ ত্যাগ কর, রুষ্ট হইও না, হইলে কেবল দুষ্কার্য্য করিবে।
কারণ সে দেখে যে, জ্ঞানবানেরা মরে, হীনবুদ্ধি ও পশুবৎ লোক নির্ব্বিশেষে বিনষ্ট হয়, তাহারা অন্যদের জন্য আপনাদের ধন রাখিয়া যায়।
যাহারা অকারণে আমার বিদ্বেষী, তাহারা আমার মস্তকের কেশ অপেক্ষাও অনেক আমার উচ্ছেদার্থী মিথ্যাবাদী শত্রুগণ বলবান; আমি যাহা অপহরণ করি নাই, তাহাও আমাকে ফিরাইয়া দিতে হইল।
নরপশু জানে না, নির্ব্বোধ ইহা বুঝে না।
তাহারা দ্বেষবাক্যেও আমাকে ঘেরিয়াছে, এবং অকারণে আমার সহিত যুদ্ধ করিয়াছে।
জ্ঞানবান ভয় করিয়া মন্দ হইতে সরিয়া যায়; কিন্তু হীনবুদ্ধি অভিমানী ও দুঃসাহসী।
হীনবুদ্ধির ওষ্ঠ বিবাদ সঙ্গে করিয়া আইসে, তাহার মুখ মার মার বলিয়া ডাকে।
প্রসব না করিলেও যেমন তিত্তির পক্ষী শাবকদিগকে সংগ্রহ করে, তেমনি সেই ব্যক্তি যে অন্যায়ে ধন সঞ্চয় করে, সেই ধন অর্দ্ধ বয়সে তাহাকে ছাড়িয়া যাইবে, এবং শেষকালে সে মূঢ় হইয়া পড়িবে।
অকারণে যাহারা আমার শত্রু, তাহারা আমাকে পক্ষীর ন্যায় শিকার করিয়াছে।
ইহা শুনিয়া রাজা অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ও কোপান্বিত হইয়া বাবিলের সমস্ত বিদ্বান্ লোককে বধ করিতে আজ্ঞা দিলেন।
তখন নবূখদ্নিৎসর ক্রোধে ও কোপে শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগোকে আনিতে আদেশ করিলেন; তাহাতে তাঁহারা রাজার সম্মুখে আনীত হইলেন।
তখন নবূখদ্নিৎসর ক্রোধে পরিপূর্ণ হইলেন, এবং শদ্রক, মৈশক ও অবেদ্-নগোর বিরুদ্ধে তাঁহার মুখ বিকটাকার হইল; তিনি বলিয়া দিলেন ও আদেশ করিলেন, অগ্নিকুণ্ড যে পরিমাণে উত্তপ্ত আছে, তাহা অপেক্ষা যেন সাত গুণ অধিক উত্তপ্ত করা হয়;
তোমার ভ্রাতা যাকোবের প্রতি কৃত দৌরাত্ম্য প্রযুক্ত তুমি লজ্জায় আচ্ছন্ন হইবে ও চিরকালের জন্য উচ্ছিন্ন হইবে।
কিন্তু তোমার ভ্রাতার দিনে, তাহার বিষম দুর্দ্দশার দিনে, তাহার দিকে দৃষ্টি করিও না; যিহূদার সন্তানদের বিনাশের দিনে তাহাদের বিষয়ে আনন্দ করিও না, এবং সঙ্কটের দিনে দর্পকথা বলিও না।
আর দেখ, স্বর্গ হইতে এই বাণী হইল, ‘ইনিই আমার প্রিয় পুত্র, ইহাঁতেই আমি প্রীত।’
অতএব তুমি যখন যজ্ঞবেদির নিকটে আপন নৈবেদ্য উৎসর্গ করিতেছ, তখন সেই স্থানে যদি মনে পড়ে যে, তোমার বিরুদ্ধে তোমার ভ্রাতার কোন কথা আছে,
“তুমি ব্যভিচার করিও না”। কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, যে কেহ কোন স্ত্রীলোকের প্রতি কামভাবে দৃষ্টিপাত করে, সে তখনই মনে মনে তাহার সহিত ব্যভিচার করিল।
কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, কোন দিব্যই করিও না; স্বর্গের দিব্য করিও না, কেননা তাহা ঈশ্বরের সিংহাসন; এবং পৃথিবীর দিব্য করিও না, কেননা তাহা তাঁহার পাদপীঠ;
কিন্তু আমি তোমাদিগকে বলিতেছি, তোমরা আপন আপন শত্রুদিগকে প্রেম করিও, এবং যাহারা তোমাদিগকে তাড়না করে, তাহাদের জন্য প্রার্থনা করিও;
কিন্তু মনুষ্যদের হইতে সাবধান থাকিও; কেননা তাহারা তোমাদিগকে বিচারসভায় সমর্পণ করিবে, এবং আপনাদের সমাজ-গৃহে কোড়া মারিবে।
আর যাহারা শরীর বধ করে, কিন্তু আত্মা বধ করিতে পারে না, তাহাদিগকে ভয় করিও না; কিন্তু যিনি আত্মা ও শরীর উভয়ই নরকে বিনষ্ট করিতে পারেন, বরং তাঁহাকেই ভয় কর।