কেননা তিনি আমার ন্যায় মনুষ্য নহেন যে, তাঁহাকে উত্তর দিই, যে, তাঁহার সহিত একই বিচারস্থানে যাইতে পারি;
Cross references
ঈশ্বর মনুষ্য নহেন যে মিথ্যা বলিবেন; তিনি মনুষ্য-সন্তান নহেন যে অনুশোচনা করিবেন; তিনি কহিয়া কি কার্য্য করিবেন না? তিনি বলিয়া কি সিদ্ধ করিবেন না?
কিন্তু সদাপ্রভু শমূয়েলকে কহিলেন, তুমি উহার মূখশ্রীর বা কায়িক দীর্ঘতার প্রতি দৃষ্টি করিও না; কারণ আমি উহাকে অগ্রাহ্য করিলাম। কেননা মনুষ্য যাহা দেখে, তাহা কিছু নয়; যেহেতু মনুষ্য প্রত্যক্ষ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি করে, কিন্তু সদাপ্রভু অন্তঃকরণের প্রতি দৃষ্টি করেন।
তবে আমি কি প্রকারে তাঁহাকে উত্তর দিব? কেমন করিয়া কথা বাছিয়া তাঁহাকে কহিব?
বিক্রমীর বলের কথা হইলে, দেখ, তিনি বিক্রমী, বিচারের কথা হইলে, কে আমার জন্য সময় নিরূপণ করিবে?
দেখ, আমি আমার যুক্তি বিন্যাস করিলাম; আমি জানি যে, আমি নির্দ্দোষ হইব।
আহা! যদি তাঁহার উদ্দেশ পাইতে পারি, যদি তাঁহার আসনের নিকটে যাইতে পারি,
দেখুন, আমার ভয়ানকতা আপনাকে ত্রাসযুক্ত করিবে না, আমার ভার আপনার দুর্ব্বহ হইবে না।
দেখুন, এ বিষয়ে আপনি যথার্থবাদী নহেন—আমি আপনাকে উত্তর দিই— কেননা মর্ত্ত্য অপেক্ষা ঈশ্বর মহান্।
আকাশমণ্ডলের প্রতি দৃষ্টি করিয়া দেখুন, মেঘমালা নিরীক্ষণ করুন, তাহা আপনা হইতে উচ্চ।
তোমার দাসকে বিচারে আনিও না, তোমার সাক্ষাতে ত কোন প্রাণী ধার্ম্মিক নয়।
যাহা ইহয়াছে, অনেক দিন হইল তাহার নামকরণ হইয়াছিল, কারণ সকলে জানে যে, সে মনুষ্য, এবং আপনা অপেক্ষা পরাক্রান্ত লোকের সহিত বিতণ্ডা করিতে সে অপারক।
ধিক্ তাহাকে, যে আপন নির্ম্মাতার সহিত বিবাদ করে; সে ত মাটীর খোলার মধ্যবর্ত্তী খোলা মাত্র। মৃত্তিকা কি মুম্ভকারকে বলিবে, ‘তুমি কি নির্ম্মাণ করিতেছ? তোমার রচিত বস্তু কি বলিবে, ‘উহার হস্ত নাই’?
দেখ, সেই ব্যক্তি সিংহের ন্যায় যর্দ্দনের শোভাস্থান হইতে উঠিয়া সেই চিরস্থায়ী চরাণি-স্থানের বিরুদ্ধে আসিবে; বস্তুতঃ আমি চক্ষুর নিমিষে তাহাকে তথা হইতে দূর করিয়া দিব, এবং তাহার উপরে মনোনীত লোককে নিযুক্ত করিব। কেননা আমার তুল্য কে? আমার সময় নিরূপণ কে করিবে? এবং আমার সম্মুখে দাঁড়াইবে, এমন পালক কোথায়?
হে মনুষ্য, বরং, তুমি কে যে ঈশ্বরের প্রতিবাদ করিতেছ? নির্ম্মিত বস্তু কি নির্ম্মাতাকে বলিতে পারে, আমাকে এরূপ কেন গড়িলে?
কারণ আমাদের হৃদয় যদি আমাদিগকে দোষী করে, ঈশ্বর আমাদের হৃদয় অপেক্ষা মহান্, এবং সকলই জানেন।