দেখ, সেই ব্যক্তি সিংহের ন্যায় যর্দ্দনের শোভাস্থান হইতে উঠিয়া সেই চিরস্থায়ী চরাণি-স্থানের বিরুদ্ধে আসিবে; বস্তুতঃ আমি চক্ষুর নিমিষে তাহাকে তথা হইতে দূর করিয়া দিব, এবং তাহার উপরে মনোনীত লোককে নিযুক্ত করিব। কেননা আমার তুল্য কে? আমার সময় নিরূপণ কে করিবে? এবং আমার সম্মুখে দাঁড়াইবে, এমন পালক কোথায়?
Cross references
হে সদাপ্রভু, দেবগণের মধ্যে কে তোমার তুল্য? কে তোমার ন্যায় পবিত্রতায় আদরণীয়, প্রশংসায় ভয়ার্হ, আশ্চর্য্য ক্রিয়াকারী?
আর সিন্দুকবাহকেরা যখন যর্দ্দন-সমীপে উপস্থিত হইল, এবং জলের ধারে সিন্দুকবাহক যাজকগণের চরণ জলমগ্ন হইল,—বাস্তবিক ফসল কাটার সমস্ত সময় যর্দ্দনের জল সমস্ত তীরের উপরে থাকে,
প্রথম মাসে যে সময়ে যর্দ্দনের জল সমস্ত তীরের উপরে উঠিয়াছিল, সেই সময়ে ইহাঁরা নদী পার হইয়া পূর্ব্বদিকে ও পশ্চিমদিকে তলভূমিস্থ সকলকে তাড়াইয়া দিয়াছিলেন।
আর কহিলেন, হে আমাদের পিতৃপুরুষদের ঈশ্বর সদাপ্রভু, তুমি কি স্বর্গস্থ ঈশ্বর নহ? তুমি কি জাতিগণের সমস্ত রাজ্যের কর্ত্তা নহ? আর শক্তি ও পরাক্রম তোমারই হস্তে, তোমার বিপক্ষে দাঁড়াইতে কাহারও সাধ্য নাই।
বিক্রমীর বলের কথা হইলে, দেখ, তিনি বিক্রমী, বিচারের কথা হইলে, কে আমার জন্য সময় নিরূপণ করিবে?
আমি সিদ্ধ, আমার প্রাণ মান্য করি না, আপনার জীবনে আমার ঘৃণা লাগে।
আহা! যদি তাঁহার উদ্দেশ পাইতে পারি, যদি তাঁহার আসনের নিকটে যাইতে পারি,
দোষগ্রাহী কি সর্ব্বশক্তিমানের সহিত বিবাদ করিবে? ঈশ্বরের সহিত বিতর্ককারী ইহার উত্তর দিউক।
তাহাকে জাগাইবে, এমন সাহসী কেহ নাই; তবে আমার সাক্ষাতে কে দাঁড়াইতে পারে?
এ কে যে জ্ঞান বিনা মন্ত্রণাকে গুপ্ত রাখে? সত্য, আমি তাহাই বলিয়াছি, যাহা বুঝি নাই, যাহা আমার পক্ষে অদ্ভুত, আমার অজ্ঞাত।
তুমি, তুমিই ভয়াবহ; তুমি একবার ক্রুদ্ধ হইলে কে তোমার সাক্ষাতে দাঁড়াইবে?
তুমি স্বর্গ হইতে বিচারাজ্ঞা শ্রবণ করাইলে, পৃথিবী ভীত হইল, নিস্তব্ধ হইল,
কেননা আকাশে সদাপ্রভুর সহিত কে উপমা ধরিতে পারে? বীর-পুত্রদের মধ্যেই বা কে সদাপ্রভুর তুল্য?
হে সদাপ্রভু, বাহিনীগণের ঈশ্বর! হে যাঃ, তোমার তুল্য বিক্রমী কে? আর তোমার বিশ্বস্ততা তোমার চারিদিকে বিদ্যমান।
কে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর তুল্য? তিনি ঊর্দ্ধে সমাসীন;
তোমার দাসকে বিচারে আনিও না, তোমার সাক্ষাতে ত কোন প্রাণী ধার্ম্মিক নয়।
অতএব তোমরা কাহার সহিত আমার উপমা দিবে যে আমি তাহার সদৃশ হইব? ইহা পবিত্রতম কহেন।
সিংহ আপন গহ্বর হইতে উঠিয়া আসিতেছে, জাতিগণের বিনাশক আসিতেছে; সে পথে আছে, সে স্বস্থান হইতে বাহির হইয়াছে, তোমার দেশ ধ্বংসস্থান করণার্থে আসিতেছে; তোমার নগর সকল উচ্ছিন্ন ও নিবাসীবিহীন হইবে।
তুমি যদি পদাতিকদের সহিত দৌড়িয়া গিয়া থাক, আর তাহারা তোমাকে ক্লান্ত করিয়া থাকে, তবে অশ্বগণের সহিত কি প্রকারে পারিয়া উঠিবে? আর যদ্যপি শান্তির দেশে নির্ভয়ে থাক, তথাপি যর্দ্দনের শোভাস্থানে কি করিবে?
তোমরা আমার বাক্য শুন নাই, এই জন্য দেখ, আমি আদেশ পাঠাইয়া উত্তরদিক্স্থ সমস্ত গোষ্ঠীকে লইয়া আসিব, সদাপ্রভু কহেন, আমি আমার দাস বাবিল-রাজ নবূখদ্রিৎসরকে আনিব, ও তাহাদিগকে এই দেশের বিরুদ্ধে, এতন্নিবাসীদিগের বিরুদ্ধে ও চতুর্দ্দিক্স্থিত এই সমস্ত জাতির বিরুদ্ধে আনিব; এবং ইহাদিগকে নিঃশেষে বিনষ্ট করিব, এবং বিস্ময়ের ও শিশ শব্দের বিষয় ও চিরস্থায়ী উৎসন্ন স্থান করিব।
তাহাদের অধিপতি তাহাদেরই মধ্যে এক জন হইবেন, ও তাহাদের মধ্যে উৎপন্ন এক ব্যক্তি তাহাদের শাসনকর্ত্তা হইবেন; আর আমি তাঁহাকে আপনার নিকটস্থ করিব, তিনি আমার নিকটে আসিবেন; কেননা তিনি কে, যিনি আমার নিকটে আসিতে সাহস পাইয়াছেন? ইহা সদাপ্রভু কহেন।
দেখ, সে সিংহের ন্যায় যর্দ্দনের শোভাস্থান হইতে উঠিয়া সেই চিরস্থায়ী চরাণি-স্থানের বিরুদ্ধে আসিবে; কিন্তু আমি চক্ষুর নিমিষে তাহাকে তথা হইতে দূর করিয়া দিব, এবং তাহার উপরে মনোনীত লোককে নিযুক্ত করিব। কেননা আমার তুল্য কে? আমার সময় নিরূপণ কে করিবে? এবং আমার সম্মুখে দাঁড়াইবে, এমন পালক কোথায়?
বাবিল পরহস্তগত হইয়াছে, এই শব্দে পৃথিবী কাঁপিতেছে, ও জাতিগণের মধ্যে ক্রন্দনের রব শুনা যাইতেছে।
প্রথমটা সিংহের সদৃশ; এবং ঈগল পক্ষীর ন্যায় তাহার পক্ষ ছিল; আমি দেখিতে দেখিতে তাহার সেই দুই পক্ষ উৎপাটিত হইল, পরে তাহাকে ভূমি হইতে উঠাইয়া মানুষের মত দুই চরণে দাঁড় করান হইল, এবং মানুষের হৃদয় তাহাকে দত্ত হইল।
তাঁহার ক্রোধের সম্মুখে কে দাঁড়াইতে পারে? তাঁহার কোপের প্রদাহে কে তিষ্ঠিতে পারে? তাঁহার ক্রোধ অগ্নির ন্যায় সেচিত হয়, তাঁহার দ্বারা শৈলগণ ফাটিয়া যায়।
মেষপালকদের হাহাকার-ধ্বনি! কারণ তাহাদের গৌরব নষ্ট হইল; যুবাসিংহদের গর্জ্জন-ধ্বনি! কেননা যর্দ্দনের শোভাস্থান নষ্ট হইল।
কেননা তাঁহাদের ক্রোধের মহাদিন আসিয়া পড়িল, আর কে দাঁড়াইতে পারে?