যাহা ইহয়াছে, অনেক দিন হইল তাহার নামকরণ হইয়াছিল, কারণ সকলে জানে যে, সে মনুষ্য, এবং আপনা অপেক্ষা পরাক্রান্ত লোকের সহিত বিতণ্ডা করিতে সে অপারক।
Cross references
তখন সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে ডাকিয়া কহিলেন, তুমি কোথায়?
আর তিনি অাদমকে কহিলেন, যে বৃক্ষের ফলের বিষয়ে আমি তোমাকে বলিয়াছিলাম, তুমি তাহা ভোজন করিও না, তুমি তোমার স্ত্রীর কথা শুনিয়া তাহার ফল ভোজন করিয়াছ, এই জন্য তোমার নিমিত্ত ভূমি অভিশপ্ত হইল; তুমি যাবজ্জীবন ক্লেশে উহা ভোগ করিবে;
সে যদি তাঁহার সহিত বাদানুবাদ করিতে চাহে, তবে সহস্র কথার মধ্যে তাঁহাকে একটীরও উত্তর দিতে পারে না?
কেননা তিনি আমার ন্যায় মনুষ্য নহেন যে, তাঁহাকে উত্তর দিই, যে, তাঁহার সহিত একই বিচারস্থানে যাইতে পারি;
মনুষ্য, অবলাজাত সকলে, অল্পায়ু ও উদ্বেগে পরিপূর্ণ।
আপনি কেন তাঁহার সহিত বিতণ্ডা করিতেছেন? তিনি ত আপনার কোন কথার হেতু বলেন না।
দোষগ্রাহী কি সর্ব্বশক্তিমানের সহিত বিবাদ করিবে? ঈশ্বরের সহিত বিতর্ককারী ইহার উত্তর দিউক।
সত্য, মনুষ্য ছায়ার ন্যায় গমনাগমন করে, সত্য, তাহারা অসারের জন্য ব্যতিব্যস্ত; সে ধনরাশি সঞ্চয় করে, কিন্তু কে তাহা সংগ্রহ করিবে, জানে না।
আমিই বলিয়াছি, তোমরা ঈশ্বর, তোমরা সকলে পরাৎপরের সন্তান;
মর্ত্ত্য, তাহার আয়ু তৃণ সদৃশ; যেমন মাঠের পুষ্প, তেমনি সে প্রফুল্ল হয়।
যাহা হইয়াছে, তাহাই হইবে; যাহা করা গিয়াছে, তাহাই করা যাইবে; সূর্য্যের নীচে নূতন কিছুই নাই।
এমন কি কিছু আছে, যাহার সম্বন্ধে মনুষ্য বলে, দেখ, ইহা নূতন? তাহা পূর্ব্বে, আমাদের পূর্ব্ববর্ত্তী যুগপর্য্যায়ে ছিল;
যাহা আছে, তাহাই ছিল, এবং যাহা হইবে, তাহাই ছিল; এবং যাহা চলিয়া গিয়াছে, ঈশ্বর তাহার অনুসন্ধান করেন।
ধিক্ তাহাকে, যে আপন নির্ম্মাতার সহিত বিবাদ করে; সে ত মাটীর খোলার মধ্যবর্ত্তী খোলা মাত্র। মৃত্তিকা কি মুম্ভকারকে বলিবে, ‘তুমি কি নির্ম্মাণ করিতেছ? তোমার রচিত বস্তু কি বলিবে, ‘উহার হস্ত নাই’?
দেখ, সেই ব্যক্তি সিংহের ন্যায় যর্দ্দনের শোভাস্থান হইতে উঠিয়া সেই চিরস্থায়ী চরাণি-স্থানের বিরুদ্ধে আসিবে; বস্তুতঃ আমি চক্ষুর নিমিষে তাহাকে তথা হইতে দূর করিয়া দিব, এবং তাহার উপরে মনোনীত লোককে নিযুক্ত করিব। কেননা আমার তুল্য কে? আমার সময় নিরূপণ কে করিবে? এবং আমার সম্মুখে দাঁড়াইবে, এমন পালক কোথায়?