ঈশ্বর কি বিচারবিরুদ্ধ কর্ম্ম করেন? সর্ব্বশক্তিমান কি ধর্ম্মবিপয্যয় করেন?
Cross references
দুষ্টের সহিত ধার্ম্মিকের বিনাশ করা, এই প্রকার কর্ম্ম আপনা হইতে দূরে থাকুক; ধার্ম্মিককে দুষ্টের সমান করা আপনা হইতে দূরে থাকুক। সমস্ত পৃথিবীর বিচারকর্ত্তা কি ন্যায়বিচার করিবেন না?
তিনি শৈল, তাঁহার কর্ম্ম সিদ্ধ, কেননা তাঁহার সমস্ত পথ ন্যায্য; তিনি বিশ্বাস্য ঈশ্বর,তাঁহাতে অন্যায় নাই; তিনিই ধর্ম্মময় ও সরল।
অতএব সদাপ্রভুর ভয় তোমাদিগেতে অধিষ্ঠিত হউক; তোমরা সাবধান হইয়া কার্য্য কর, কেননা অন্যায়, কি মুখাপেক্ষা, কি উৎকোচ গ্রহণে আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর সম্মতি নাই।
“ঈশ্বর অপেক্ষা মর্ত্ত্য কি ধার্ম্মিক হইতে পারে? নিজ নির্ম্মাতা অপেক্ষা মনুষ্য কি শুচি হইতে পারে?
আমি নিশ্চয় জানি, তাহাই বটে; ঈশ্বরের কাছে মর্ত্ত্য কি প্রকারে ধার্ম্মিক হইতে পারে?
এটী কি ভাল যে, তুমি উপদ্রব করিবে? তোমার হস্তনির্ম্মিত বস্তু তুমি তুচ্ছ করিবে? দুষ্টগণের মন্ত্রণায় প্রসন্ন হইবে?
এখন জান, ঈশ্বর আমার প্রতি অন্যায় করিয়াছেন, আপন জালে আমাকে ঘেরিয়াছেন।
দেখ, আমি অন্যায়প্রযুক্ত ক্রন্দন করি, উত্তর পাই না; আর্ত্তনাদ করি, কিন্তু বিচার হইতেছে না।
সর্ব্বশক্তিমান কে যে, আমরা তাঁহার সেবা করিব? তাঁহার কাছে প্রার্থনা করিলে আমাদের কি লাভ?”
তাহার নিজের চক্ষু তাহার বিনাশ দেখুক, সে সর্ব্বশক্তিমানের ক্রোধ পান করুক।
দেখুন, ইয়োব বলিলেন, আমি ধার্ম্মিক, কিন্তু আমার যাহা ন্যায্য, ঈশ্বর তাহা হরণ করিয়াছেন;
অতএব, হে বুদ্ধিমানেরা, আমার কথা শুনুন, ইহা দূরে থাকুক যে, ঈশ্বর দুষ্কার্য্য করিবেন, সর্ব্বশক্তিমান্ অন্যায় করিবেন।
ঈশ্বর ত কখনও দুষ্টাচরণ করেন না, সর্ব্বশক্তিমান্ কভু বিচার বিপরীত করেন না।
যে ন্যায়বিদ্বেষী, সে কি শাসন করিবে? আপনি কি ধর্ম্মময় পরাক্রমীকে দোষী করিবেন?
বাস্তবিক ঈশ্বর অলীক কথা শুনেন না, সর্ব্বশক্তিমান্ তাহা নিরীক্ষণ করেন না।
সর্ব্বশক্তিমান্! তিনি আমাদের বোধের অগম্য; তিনি পরাক্রমে মহান্, তিনি ন্যায়বিচার ও প্রচুর ধর্ম্মগুণ বিপরীত করেন না।
দোষগ্রাহী কি সর্ব্বশক্তিমানের সহিত বিবাদ করিবে? ঈশ্বরের সহিত বিতর্ককারী ইহার উত্তর দিউক।
তুমি কি সত্যই আমার বিচার অগ্রাহ্য করিবে? নিজে ধার্ম্মিক হইবার জন্য আমাকে দোষী করিবে?
ধর্ম্মশীলতা ও ন্যায়বিচার তোমার সিংহাসনের ভিত্তিমূল; দয়া ও সত্য তোমার শ্রীমুখের অগ্রগামী।
রাজার বলও বিচার ভালবাসে; তুমি ন্যায়বিধি অটল করিয়া থাক, তুমি যাকোবের মধ্যে বিচার ও ধার্ম্মিকতা সাধন করিয়া থাক।
কিন্তু তোমরা বলিতেছ, ‘প্রভুর পথ সরল নয়’। হে ইস্রায়েল-কুল, এক বার শুন; আমার পথ কি সরল নয়? তোমাদের পথ কি অসরল নয়?
তথাপি তোমার জাতির সন্তানেরা বলিতেছে, প্রভুর পথ সরল নয়; কিন্তু তাহাদেরই পথ অসরল।
তথাপি তোমরা কহিতেছ, প্রভুর পথ সরল নয়। হে ইস্রায়েল-কুল, আমি তোমাদের প্রত্যেকের পথ অনুসারে তোমাদের বিচার করিব।
এই জন্য সদাপ্রভু অমঙ্গলার্থে জাগ্রৎ হইয়া আমাদের উপরে তাহা উপস্থিত করিয়াছেন, কেননা আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু আপনার কৃত সকল কার্য্যে ধর্ম্মশীল, কিন্তু আমরা তাঁহার রবে কর্ণপাত করি নাই।
কিন্তু তোমার কঠিন ভাব এবং অপরিবর্ত্তনশীল চিত্ত অনুসারে তুমি আপনার জন্য এমন ক্রোধ সঞ্চয় করিতেছ, যাহা ক্রোধের ও ঈশ্বরের ন্যায়বিচার-প্রকাশের দিনে আসিবে;
তাহা দূরে থাকুক, বরং ঈশ্বরকে সত্য বলিয়া স্বীকার করা যাউক, মনুষ্যমাত্র মিথ্যাবাদী হয়, হউক; যেমন লেখা আছে, “তুমি যেন তোমার বাক্যে ধর্ম্মময় প্রতিপন্ন হও, এবং তোমার বিচারকালে বিজয়ী হও।”
আর তাহারা ঈশ্বরের দাস মোশির গীত ও মেষশাবকের গীত গায়, বলে, “মহৎ ও আশ্চর্য্য তোমার ক্রিয়া সকল, হে প্রভু ঈশ্বর, সর্ব্বশক্তিমান্; ন্যায্য ও সত্য তোমার মার্গ সকল, হে জাতিগণের রাজন্!
পরে আমি যজ্ঞবেদির এই বাণী শুনিলাম, হাঁ, হে প্রভু ঈশ্বর, সর্ব্বশক্তিমান্, তোমার বিচারাজ্ঞা সকল সত্য ও ন্যায্য।