বস্তুতঃ আমি জানি, তুমি আমাকে মৃত্যুর নিকটে লইয়া যাইতেছ; সমুদয় জীবিতের সভাগৃহে লইয়া যাইতেছ।
Cross references
তুমি ঘর্ম্মাক্ত মুখে আহার করিবে, যে পর্য্যন্ত তুমি মৃত্তিকায় প্রতিগমন না করিবে; তুমি ত তাহা হইতেই গৃহীত হইয়াছ; কেননা তুমি ধূলি, এবং ধূলিতে প্রতিগমন করিবে।
আর দেখ, সমস্ত জগতের যে পথ, অদ্য আমি সেই পথে যাইতেছি; আর তোমরা সমস্ত অন্তঃকরণে ও সমস্ত প্রাণে ইহা জ্ঞাত হও যে, তোমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভু তোমাদের বিষয়ে যত মঙ্গলবাক্য বলিয়াছিলেন, তাহার মধ্যে একটীও বিফল হয় নাই; তোমাদের পক্ষে সকলই সফল হইয়াছে, তাহার একটীও বিফল হয় নাই।
আমরা ত নিশ্চয়ই মরিব, এবং যাহা একবার ভূমিতে ঢালিয়া ফেলিলে পরে তুলিয়া লওয়া যায় না, এমন জলের ন্যায় হইব; পরন্তু ঈশ্বরও প্রাণ হরণ করেন না, কিন্তু নির্ব্বাসিত লোক যাহাতে তাঁহা হইতে নির্ব্বাসিত না থাকে, তাহার উপায় চিন্তা করেন।
সেই স্থানে ছোট বড় একই, এবং দাস আপন স্বামী হইতে মুক্ত।
সকলই ত সমান, তাই আমি বলি, তিনি সিদ্ধ ও দুর্জ্জন উভয়কে সংহার করেন।
তোমার হস্ত আমাকে গড়িয়াছে, নিরমিয়াছে, আমার সর্ব্বাঙ্গ সুসংযুক্ত [করিয়াছে], তথাপি তুমি আমাকে সংহার করিতেছ।
তাহার আয়ুর দিন নিরূপিত, তাহার মাসের সংখ্যা তোমার কাছে আছে, তুমি তাহার অলঙ্ঘনীয় সীমা স্থাপন করিয়াছ।
তলভূমির মৃত্তিকা তাহার সুখকর বোধ হইবে, তাহার পরে সকলে তাহার অনুগামী হইবে, তাহার পূর্ব্বেও অসংখ্য লোক তদ্রূপ ছিল।
আত্মা রাখিতে আত্মার উপরে কোন মনুষ্যের কর্ত্তৃত্ব নাই, এবং মরণদিনের উপরে কর্ত্তৃত্ব কাহারও নাই, এবং [সেই] যুদ্ধে ছুটী সম্ভবে না, আর দুষ্টতা দুষ্টকে বাঁচাইবে না।
কারণ জীবিত লোকেরা জানে যে, তাহারা মরিবে; কিন্তু মৃতেরা কিছুই জানে না, এবং তাহাদের আর কোন ফলও হয় না, কারণ লোকে তাহাদের বিষয় ভুলিয়া গিয়াছে।
আবার লোকে উচ্চস্থান হইতে ভীত হইবে, ও পথে ত্রাস হইবে, কদম্ব পুষ্পিত হইবে, ফড়িঙ্গ অতি কষ্টে চলিবে, ও কামনা নিস্তেজ হইবে; কেননা মানুষ আপন নিত্যস্থায়ী নিবাসে চলিয়া যাইবে ও বিলাপকারীরা পথে পথে বেড়াইবে।
আর যেমন মনুষ্যের নিমিত্ত এক বার মৃত্যু, তৎপরে বিচার নিরূপিত আছে,