তুমি কেন আপন মুখ লুকাইতেছ? কেন আমাকে তোমার শত্রু বলিয়া ধরিতেছ?
Cross references
তিনি কহিলেন, আমি উহাদের হইতে আপন মুখ আচ্ছাদন করিব; উহাদের শেষদশা কি হইবে, দেখিব; কেননা উহারা বিপরীতাচারী বংশ, উহারা বিশ্বাসঘাতক সন্তান।
শমূয়েল কহিলেন, যখন সদাপ্রভু তোমাকে ত্যাগ করিয়া তোমার বিপক্ষ হইয়াছেন, তখন আমাকে কেন জিজ্ঞাসা কর?
আমি ঈশ্বরকে বলিব, আমাকে দোষী করিও না; আমার সহিত কি কারণে বিবাদ করিতেছ, তাহা আমাকে জ্ঞাত কর।
[মস্তক] তুলিলে তুমি সিংহের ন্যায় আমাকে মৃগয়া করিবে, আবার আমাতে তুমি আপনাকে আশ্চর্য্য দেখাইবে।
তুমি আমার বিপরীতে নূতন নূতন সাক্ষী উপস্থিত করিবে, আমার প্রতি আপনার বিরক্তি বাড়াইবে; নূতন নূতন সৈন্যদল আমার প্রতিকূল।
সে ক্রোধে আমাকে বিদীর্ণ করিয়াছে, ও আমাকে তাড়না করিয়াছে, সে আমার প্রতি দন্ত ঘর্ষণ করিয়াছে, আমার বিপক্ষ আমার বিরুদ্ধে চক্ষু রক্তবর্ণ করে।
তিনি আমার বিরুদ্ধে ক্রোধ প্রজ্বলিত করিয়াছেন, আমাকে এক জন বিপক্ষের ন্যায় গণনা করিয়াছেন।
আহা! যদি আমি সেইরূপ থাকিতাম, যেমন পূর্ব্বকার মাসপর্য্যায়ে ছিলাম! যেমন পূর্ব্বকার দিনপর্য্যায়ে ছিলাম, যখন ঈশ্বর আমাকে চৌকি দিতেন।
তুমি আমার প্রতি নির্দ্দয় হইয়া উঠিতেছ, আপন ভুজবলে আমাকে তাড়না করিতেছ।
হায় হায়! কেহ কি আমার কথা শুনে না? এই দেখ, আমার স্বাক্ষর; সর্ব্বশক্তিমান্ আমাকে উত্তর দিউন, আমার প্রতিবাদী আমার দোষপত্র লিখুন।
দেখ, তিনি আমার বিরুদ্ধে ছিদ্র অন্বেষণ করেন, আমাকে আপনার শত্রু গণনা করেন;
হে সদাপ্রভু, কেন দূরে দাঁড়াইয়া থাক? সঙ্কটের সময়ে কেন লুকাইয়া থাক?
কত কাল, সদাপ্রভু, আমাকে নিয়ত ভুলিয়া থাকিবে? কত কাল আমা হইতে তোমার মুখ লুক্কায়িত রাখিবে?
তুমি কেন আপন মুখ আচ্ছাদন করিতেছ? আমাদের দুঃখ ও দৌরাত্ম্যভোগ কেন ভুলিয়া যাইতেছ?
কেননা আমাদের প্রাণ ধূলিতে অবনত, আমাদের উদর ভূমিতে লগ্ন হইয়াছে।
আমি আমার রাত্রিকালীন গীত স্মরণ করি, আমি মনে মনে ধ্যান করি; আমার আত্মা তত্ত্ব জিজ্ঞাসু হইল।
হে সদাপ্রভু, তুমি কেন আমার প্রাণকে পরিত্যাগ করিতেছ? আমা হইতে কেন তোমার মুখ লুকাইতেছ?
আমি সদাপ্রভুর আকাঙ্ক্ষা করিব, যিনি যাকোবের কুল হইতে আপন মুখ আচ্ছাদন করেন, এবং তাঁহার অপেক্ষায় থাকিব।
প্রভু শত্রুবৎ হইয়াছেন, ইস্রায়েলকে গ্রাস করিয়াছেন, তিনি তাহার সমুদয় অট্টালিকা গ্রাস করিয়াছেন, তাহার দুর্গ সকল ধ্বংস করিয়াছেন, তিনি যিহূদা-কন্যার শোক ও বিলাপ বৃদ্ধি করিয়াছেন।
যেন সে লজ্জিত হয়; অথচ তাহাকে শত্রু জ্ঞান করিও না, কিন্তু ভ্রাতা বলিয়া চেতনা দেও।