সিয়োনের নিমিত্ত আমি নীরব থাকিব না, যিরূশালেমের নিমিত্ত ক্ষান্ত থাকিব না, যাবৎ আলোকের ন্যায় তাহার ধার্ম্মিকতা, জ্বলন্ত প্রদীপের ন্যায় তাহার পরিত্রাণ উদিত না হয়।
Cross references
তুমি আপন অনুগ্রহে সিয়োনের মঙ্গল কর, তুমি যিরূশালেমের প্রাচীর নির্ম্মাণ কর।
তোমরা সদাপ্রভুর উদ্দেশে নূতন গীত গাও, কেননা তিনি আশ্চর্য্য আশ্চর্য্য কর্ম্ম করিয়াছেন; তাঁহার দক্ষিণ হস্ত ও তাঁহার পবিত্র বাহু তাঁহার পক্ষে পরিত্রাণ সাধন করিয়াছে।
তুমি উঠিবে, সিয়োনের প্রতি করুণা করিবে; কারণ এখন তাহার প্রতি কৃপা করিবার সময়, কারণ নিরূপিত কাল উপস্থিত হইল।
তোমরা যিরূশালেমের শান্তি প্রার্থনা কর; যাহারা তোমাকে প্রেম করে, তাহাদের কল্যাণ হউক।
আমার জিহ্বা তালুতে সংলগ্ন হউক, যদি আমি তোমাকে মনে না করি, যদি আপন পরমানন্দ হইতে যিরূশালেমকে অধিক ভাল না বাসি।
কিন্তু ধার্ম্মিকদের পথ প্রভাতীয় জ্যোতির ন্যায়, যাহা মধ্যাহ্ন পর্য্যন্ত উত্তরোত্তর দেদীপ্যমান হয়।
আর পূর্ব্বে যেমন ছিল, তেমনি পুনর্ব্বার তোমাকে বিচারকর্ত্তৃগণ দিব; প্রথমে যেমন ছিল, তেমনি মন্ত্রিগণ দিব; তৎপরে তুমি ‘ধার্ম্মিকতার পুরী, সতী নগরী’ নামে আখ্যাত হইবে।
যে পর্য্যন্ত ঊর্দ্ধলোক হইতে আমাদের উপরে আত্মা সেচিত না হন, প্রান্তর ফলবৃক্ষের উদ্যানে পরিণত না হয়, ও ফলশালী ক্ষেত্র অরণ্য বলিয়া গণ্য না হয়।
আমার ধর্ম্মশীলতা নিকটবর্ত্তী, আমার পরিত্রাণ নির্গত হইল, এবং আমার বাহু জাতিগণের বিচার নিষ্পন্ন করিবে; উপকূল সকল আমারই অপেক্ষায় থাকিবে, ও আমার বাহুতে প্রত্যাশা রাখিবে।
জাগ, জাগ, বল পরিধান কর, হে সদাপ্রভুর বাহু; জাগ, যেমন পূর্ব্বকালে, সেকালের পুরুষে পুরুষে জাগিয়াছিলে, তুমিই কি রহবকে কুচি কুচি করিয়া কাট নাই, প্রকাণ্ড জলচরকে বিদ্ধ কর নাই?
উঠ, দীপ্তিমতী হও, কেননা তোমার দীপ্তি উপস্থিত, সদাপ্রভুর প্রতাপ তোমার উপরে উদিত হইল।
কেননা, দেখ, অন্ধকার পৃথিবীকে, ঘোর তিমির জাতিগণকে, আচ্ছন্ন করিতেছে, কিন্তু তোমার উপরে সদাপ্রভু উদিত হইবেন, এবং তাঁহার প্রতাপ তোমার উপরে দৃষ্ট হইবে।
‘আমি সদাপ্রভুতে অতিশয় আনন্দ করিব, আমার প্রাণ আমার ঈশ্বরে উল্লাস করিবে; কেননা বর যেমন যাজকীয় সজ্জার ন্যায় শিরোভূষণ পরে, কন্যা যেমন আপন রত্নরাজি দ্বারা আপনাকে অলঙ্কৃতা করে, তেমনি তিনি আমাকে পরিত্রাণ-বস্ত্র পরাইয়াছেন, ধার্ম্মিকতা-পরিচ্ছদে পরিচ্ছন্ন করিয়াছেন।’
বস্তুতঃ ভূমি যেমন আপন অঙ্কুর নির্গত করে, উদ্যান যেমন আপনাতে উপ্ত বীজ অঙ্কুরিত করে, তেমনি প্রভু সদাপ্রভু সমুদয় জাতির সাক্ষাতে ধার্ম্মিকতা ও প্রশংসা অঙ্কুরিত করিবেন।
হে যিরূশালেম, আমি তোমার প্রাচীরের উপরে প্রহরিগণকে নিযুক্ত করিয়াছি; তাহারা কি দিন কি রাত্রি কদাচ নীরব থাকিবে না।
আর পৃথিবীস্থ সমস্ত জাতির সম্মুখে এই নগর আমার পক্ষে আনন্দের কীর্ত্তি, প্রশংসা ও শোভাস্বরূপ হইবে; আমি তাহাদের যে সমস্ত মঙ্গল করিব, তাহা তাহারা শুনিবে, এবং আমি নগরের যে সমস্ত মঙ্গল ও শান্তি বিধান করিব, তৎপ্রযুক্ত তাহারা থরথর করিয়া কাঁপিবে।
আর অনেক জাতি যাইতে যাইতে বলিবে, চল, আমরা সদাপ্রভুর পর্ব্বতে, যাকোবের ঈশ্বরের গৃহে গিয়া উঠি; তিনি আমাদিগকে আপন পথের বিষয়ে শিক্ষা দিবেন, আর আমরা তাঁহার মার্গে গমন করিব; কারণ সিয়োন হইতে ব্যবস্থা ও যিরূশালেম হইতে সদাপ্রভুর বাক্য নির্গত হইবে।
আর সদাপ্রভু পবিত্র দেশে আপনার অংশ বলিয়া যিহূদাকে অধিকার করিবেন ও যিরূশালেমকে আবার মনোনীত করিবেন।
তদ্রূপ তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক, যেন তাহারা তোমাদের সৎক্রিয়া দেখিয়া তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে।
কেননা আমার নয়নযুগল তোমার পরিত্রাণ দেখিতে পাইল,
তিনি তাহাদিগকে বলিলেন, শস্য প্রচুর বটে, কিন্তু কার্য্যকারী লোক অল্প; অতএব শস্যক্ষেত্রের স্বামীর নিকটে প্রার্থনা কর, যেন তিনি নিজ শস্যক্ষেত্রে কার্য্যকারী লোক পাঠাইয়া দেন।
যেন তোমরা অনিন্দনীয় ও অমায়িক হও, এই কালের সেই কুটিল ও বিপথগামী লোকদের মধ্যে ঈশ্বরের নিষ্কলঙ্ক সন্তান হও, যাহাদের মধ্যে তোমরা জগতে জ্যোতির্গণের ন্যায় প্রকাশ পাইতেছ,
শেষকথা এই; হে ভ্রাতৃগণ, আমাদের নিমিত্ত প্রার্থনা কর; যেন, যেমন তোমাদের মধ্যে হইতেছে, তেমনি প্রভুর বাক্য দ্রুতগতি ও গৌরবান্বিত হয়,
এই জন্য, যাহারা তাঁহা দিয়া ঈশ্বরের নিকটে উপস্থিত হয়, তাহাদিগকে তিনি সম্পূর্ণরূপে পরিত্রাণ করিতে পারেন, কারণ তাহাদের নিমিত্ত অনুরোধ করণার্থে তিনি সতত জীবিত আছেন।
কিন্তু তোমরা “মনোনীত বংশ, রাজকীয় যাজকবর্গ, পবিত্র জাতি, [ঈশ্বরের] নিজস্ব প্রজাবৃন্দ, যেন তাঁহারই গুণকীর্ত্তন কর,” যিনি তোমাদিগকে অন্ধকার হইতে আপনার আশ্চর্য্য জ্যোতির মধ্যে আহ্বান করিয়াছেন।