বস্তুতঃ ভূমি যেমন আপন অঙ্কুর নির্গত করে, উদ্যান যেমন আপনাতে উপ্ত বীজ অঙ্কুরিত করে, তেমনি প্রভু সদাপ্রভু সমুদয় জাতির সাক্ষাতে ধার্ম্মিকতা ও প্রশংসা অঙ্কুরিত করিবেন।
Cross references
পরে ঈশ্বর কহিলেন, ভূমি তৃণ, বীজোৎপাদক ওষধি, ও সবীজ স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী ফলের উৎপাদক ফলবৃক্ষ, ভূমির উপরে উৎপন্ন করুক; তাহাতে সেইরূপ হইল।
পর্ব্বতগণ ও উপপর্ব্বতগণ ধার্ম্মিকতা দ্বারা প্রজাদের জন্য শান্তিরূপ ফলে ফলবান্ হইবে।
দেশমধ্যে পর্ব্বত-শিখরে প্রচুর শস্য হইবে, তাহার ফল লিবানোনের ন্যায় দোলায়মান হইবে; এবং নগরবাসীরা ভূমির তৃণের ন্যায় প্রফুল্ল হইবে।
ভূমি হইতে সত্যের অঙ্কুর উঠে, স্বর্গ হইতে ধার্ম্মিকতা হেঁট হইয়া দৃষ্টিপাত করিয়াছে।
হে উত্তরীয় বায়ু, জাগ, হে দক্ষিণ বায়ু, আইস, আমার উপবনে বহ; উপবনের বিবিধ সুগন্ধি প্রবাহিত হউক, আমার প্রিয় আপন উদ্যানে আইসুন, আপন উপাদেয় ফল সকল ভোজন করুন।
হে আকাশমণ্ডল, উপর হইতে শিশির বর্ষণ কর, মেঘমালা ধার্ম্মিকতা বর্ষণ করুক; ভূমি বিদীর্ণ হউক, ও মেঘমালা পরিত্রাণ-ফল উৎপন্ন করুক, পৃথিবী সঙ্গে সঙ্গে ধার্ম্মিকতা অঙ্কুরিত করুক আমি সদাপ্রভু ইহার সৃষ্টিকর্ত্তা।
বাস্তবিক যেমন বৃষ্টি বা হিম আকাশ হইতে নামিয়া আইসে, আর সেখানে ফিরিয়া যায় না, কিন্তু ভূমিকে আদ্র করিয়া ফলবতী ও অঙ্কুরিত করে, এবং বপনকারীকে বীজ ও ভক্ষককে ভক্ষ্য দেয়, আমার মুখনির্গত বাক্য তেমনি হইবে;
আর সদাপ্রভু নিয়ত তোমাকে পথ প্রদর্শন করিবেন, মরুভূমিতে তোমার প্রাণ তৃপ্ত করিবেন, ও তোমার অস্থি সকল বলবান্ করিবেন, তাহাতে তুমি জলসিক্ত উদ্যানের ন্যায় হইবে, এবং এমন জলের উনুইর ন্যায় হইবে, যাহার জল শুকায় না।
আর শুনা যাইবে না—তোমার দেশে উপদ্রবের কথা, তোমার সীমার মধ্যে ধ্বংস ও বিনাশের কথা; কিন্তু তুমি আপন প্রাচীরের নাম ‘পরিত্রাণ’ রাখিবে, আপন পুরদ্বারের নাম ‘প্রশংসা’ রাখিবে।
সিয়োনের নিমিত্ত আমি নীরব থাকিব না, যিরূশালেমের নিমিত্ত ক্ষান্ত থাকিব না, যাবৎ আলোকের ন্যায় তাহার ধার্ম্মিকতা, জ্বলন্ত প্রদীপের ন্যায় তাহার পরিত্রাণ উদিত না হয়।
আর জাতিগণ তোমার ধার্ম্মিকতা, ও সমস্ত রাজা তোমার প্রতাপ দর্শন করিবে; এবং তুমি এক নূতন নামে আখ্যাত হইবে, যাহা সদাপ্রভুর মুখ নির্ণয় করিবে।
তোমরা, যাহারা সদাপ্রভুকে স্মরণ করাইয়া থাক, তোমরা ক্ষান্ত থাকিও না, এবং তাঁহাকেও ক্ষান্ত থাকিতে দিও না, যে পর্য্যন্ত তিনি যিরূশালেমকে স্থাপন না করেন, ও পৃথিবীর মধ্যে প্রশংসার পাত্র না করেন।
তখন তিনি দৃষ্টান্ত দ্বারা তাহাদিগকে অনেক কথা কহিতে লাগিলেন।
আর কতক বীজ উত্তম ভূমিতে পড়িল ও ফল দিতে লাগিল; কতক শত গুণ, কতক ষাট গুণ, ও কতক ত্রিশ গুণ।
আর যে উত্তম ভূমিতে উপ্ত, এ সেই, যে সেই বাক্য শুনিয়া তাহা বুঝে, সে বাস্তবিক ফলবান, হয়, এবং কতক শত গুণ, কতক ষাট গুণ, ও কতক ত্রিশ গুণ ফল দেয়।
তিনি আরও কহিলেন, ঈশ্বরের রাজ্য এইরূপ।
কিন্তু তোমরা “মনোনীত বংশ, রাজকীয় যাজকবর্গ, পবিত্র জাতি, [ঈশ্বরের] নিজস্ব প্রজাবৃন্দ, যেন তাঁহারই গুণকীর্ত্তন কর,” যিনি তোমাদিগকে অন্ধকার হইতে আপনার আশ্চর্য্য জ্যোতির মধ্যে আহ্বান করিয়াছেন।