নোহের বয়সের ছয় শত বৎসরের দ্বিতীয় মাসের সপ্তদশ দিনে মহাজলধির সমস্ত উনুই ভাঙ্গিয়া গেল, এবং আকাশের বাতায়ন সকল মুক্ত হইল;
Cross references
আর দেখ, আকাশের নীচে প্রাণবায়ুবিশিষ্ট যত জীবজন্তু আছে, সকলকে বিনষ্ট করণার্থে আমি পৃথিবীর উপরে জলপ্লাবন আনিব, পৃথিবীস্থ সকলে প্রাণত্যাগ করিবে।
আর জলধির উনুই ও আকাশের বাতায়ন সকল বদ্ধ এবং আকাশের মহাবৃষ্টি নিবৃত্ত হইল।
পরে দ্বিতীয় মাসের সাতাইশ দিনে ভূমি শুষ্ক হইল।
তখন রাজা যে সেনানীর হস্তে নির্ভর দিয়াছিলেন, তিনি ঈশ্বরের লোককে উত্তর করিলেন, দেখ, যদি সদাপ্রভু আকাশে গবাক্ষ করেন, তথাপি কি এমন হইতে পারিবে? তিনি বলিলেন, দেখ, তুমি স্বচক্ষে তাহা দেখিবে, কিন্তু তাহার কিছুই খাইতে পাইবে না।
আর ঐ সেনানী ঈশ্বরের লোককে উত্তর করিয়াছিলেন, দেখ, যদি সদাপ্রভু আকাশে গবাক্ষ করেন, তথাপি কি এমন হইতে পারিবে? তিনি বলিয়াছিলেন, দেখ, তুমি স্বচক্ষে তাহা দেখিবে, কিন্তু তাহার কিছুই খাইতে পাইবে না;
তাহারা বাসস্থান ছাড়িয়া আকর খনন করে, [মানুষের] চরণ তাহাদিগকে ভুলিয়া যায়, তাহারা মনুষ্যদের হইতে দূরে ঝুলিতে ও দুলিতে থাকে;
কে কবাট দিয়া সমুদ্রকে রুদ্ধ করিল, যখন তাহা নির্গত হইল, গর্ভাশয় হইতে বাহির হইল?
কে প্রজ্ঞাবলে মেঘসমূহ গণিতে পারে? আকাশের কুপাগুলি কে উল্টাইতে পারে,
তিনি সমুদ্রের জলরাশির ন্যায় সঞ্চিত করেন, তিনি জলধি সকল ভাণ্ডারে রাখেন।
তুমিই উৎস ও বন্যার জন্য পথ করিয়াছিলে, তুমিই নিত্য প্রবাহিনী নদী শুষ্ক করিয়াছিলে।
তবু তিনি উপরিস্থ মেঘমালাকে আজ্ঞা দিলেন, আকাশমণ্ডলের দ্বার সকল খুলিয়া দিলেন।
যখন তিনি ঊর্দ্ধস্থ আকাশ দৃঢ়রূপে নির্ম্মাণ করিলেন, যখন জলধির প্রবাহ সকল প্রবল হইল,
যে কেহ ত্রাসের জনশ্রুতিতে পলাইয়া বাঁচিবে, সে খাতে পড়িবে, যে খাত হইতে উঠিয়া আসিবে, সে ফাঁদে ধরা পড়িবে; কারণ ঊর্দ্ধস্থ বাতায়ন সকল মুক্ত হইল, ও পৃথিবীর মূল সকল কম্পমান হইল।
পৃথিবী বিদীর্ণ হইল, বিদীর্ণ হইল; পৃথিবী ফাটিয়া গেল, ফাটিয়া গেল; পৃথিবী বিচলিত হইল, বিচলিত হইল।
সদাপ্রভু কহেন, তোমরা কি আমাকে ভয় করিবে না? আমার সাক্ষাতে কি কম্পমান হইবে না? আমি ত বালুকা দ্বারা সমুদ্রের সীমা নিত্যস্থায়ী বিধিক্রমে স্থির করিয়াছি; সে তাহা উল্লঙ্ঘন করিতে পারে না; তাহার তরঙ্গ আস্ফালন করিলেও কৃতার্থ হয় না, কল্লোলধ্বনি করিলেও সীমা অতিক্রম করিতে পারে না।
তিনি রব ছাড়িলে আকাশে জলরাশির শব্দ হয়, তিনি পৃথিবীর প্রান্ত হইতে বাষ্প উত্থাপন করেন; তিনি বৃষ্টির নিমিত্ত বিদ্যুৎ গঠন করেন, তিনি আপন ভাণ্ডার হইতে বায়ু বাহির করিয়া আনেন।
কেননা প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, যখন আমি নিবাসীহীন নগর সকলের ন্যায় তোমাকে উচ্ছিন্ন নগর করিব, যখন আমি তোমার উপরে জলধি উঠাইব ও মহৎ জলরাশি তোমাকে আচ্ছাদন করিবে,
প্রভু, বাহিনীগণের সদাপ্রভু, তিনিই দেশকে স্পর্শ করিলে তাহা গলিয়া যায়, ও তন্নিবাসী সকলে শোকান্বিত হয়; এবং সমুদয় দেশ নীল নদীর ন্যায় স্ফীত হইয়া উঠিবে, মিস্রীয় নদীর ন্যায় নামিয়া যাইবে;
তোমরা সমস্ত দশমাংশ ভাণ্ডারে আন, যেন আমার গৃহে খাদ্য থাকে; আর তোমরা ইহাতে আমার পরীক্ষা কর, ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন, আমি আকাশের দ্বার সকল মুক্ত করিয়া তোমাদের প্রতি অপরিমেয় আশীর্ব্বাদ বর্ষণ করি কি না।
কারণ জলপ্লাবনের সেই পূর্ব্ববর্ত্তী কালে, জাহাজে নোহের প্রবেশ দিন পর্য্যন্ত, লোকে যেমন ভোজন ও পান করিত, বিবাহ করিত ও বিবাহিতা হইত,
লোকে যখন বলে, শান্তি ও অভয়, তখনই তাহাদের কাছে যেমন গর্ভবতীর প্রসব-বেদনা উপস্থিত হইয়া থাকে, তেমনি আকস্মিক বিনাশ উপস্থিত হয়; আর তাহারা কোন ক্রমে এড়াইতে পারিবে না।