পরে তিনি কহিলেন, তুমি বাহির হইয়া এই পর্ব্বতে সদাপ্রভুর সম্মুখে দাঁড়াও। আর দেখ, সদাপ্রভু সেই স্থান দিয়া গমন করিলেন; এবং সদাপ্রভুর অগ্রগামী প্রবল প্রচণ্ড বায়ু পর্ব্বতমালা বিদীর্ণ করিল, ও শৈল সকল ভাঙ্গিয়া ফেলিল; কিন্তু সেই বায়ুতে সদাপ্রভু ছিলেন না। বায়ুর পরে ভূমিকম্প হইল, কিন্তু সেই ভূমিকম্পে সদাপ্রভু ছিলেন না।
Cross references
পরে তৃতীয় দিন প্রভাত হইলে মেঘগর্জ্জন ও বিদ্যুৎ এবং পর্ব্বতের উপরে নিবিড় মেঘ হইল, আর অতিশয় উচ্চরবে তূরীধ্বনি হইতে লাগিল; তাহাতে শিবিরস্থ সমস্ত লোক কাঁপিতে লাগিল।
আর সদাপ্রভু সীনয় পর্ব্বতে, পর্ব্বতের শিখরে, নামিয়া আসিলেন, এবং সদাপ্রভু মোশিকে সেই পর্ব্বত-শিখরে ডাকিলেন; তাহাতে মোশি উঠিয়া গেলেন।
তখন সমস্ত লোক মেঘগর্জ্জন, বিদ্যুৎ, তূরীধ্বনি ও ধূমময় পর্ব্বত দেখিল; দেখিয়া লোকেরা ত্রাসযুক্ত হইল, এবং দূরে দাঁড়াইয়া রহিল।
আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি পর্ব্বতে আমার নিকটে উঠিয়া আসিয়া এই স্থানে থাক, তাহাতে আমি দুই খানা প্রস্তরফলক, এবং আমার লিখিত ব্যবস্থা ও আজ্ঞা তোমাকে দিব, যেন তুমি লোকদিগকে শিক্ষা দিতে পার।
আর মোশি মেঘের মধ্যে প্রবেশ করিয়া পর্ব্বতে উঠিলেন। মোশি চল্লিশ দিবারাত্র সেই পর্ব্বতে অবস্থিতি করিলেন।
সদাপ্রভু কহিলেন, দেখ, আমার নিকটে এক স্থান আছে; তুমি ঐ শৈলের উপরে দাঁড়াইবে।
আর তুমি প্রাতঃকালে প্রস্তুত হইও, প্রাতঃকালে সীনয় পর্ব্বতে উঠিয়া আসিও, ও তথায় পর্ব্বতশৃঙ্গে আমার নিকটে উপস্থিত হইও।
ফলতঃ সদাপ্রভু তাঁহার সম্মুখ দিয়া গমন করতঃ এই ঘোষণা করিলেন, ‘সদাপ্রভু, সদাপ্রভু, স্নেহশীল ও কৃপাময় ঈশ্বর, ক্রোধে ধীর এবং দয়াতে ও সত্যে মহান্;
আর শিবিরমধ্যে, ক্ষেত্রে, ও সমস্ত সৈন্যের মধ্যে কম্প উপস্থিত হইল, প্রহরী ও বিনাশক-দল সকলও কম্পান্বিত হইল; আর ভূমিকম্প হইল; এইরূপে ঈশ্বর হইতে মহাকম্প উপস্থিত হইল।
পরে সদাপ্রভু ঘূর্ণবায়ুর মধ্য হইতে ইয়োবকে উত্তর দিয়া কহিলেন,
আমাদের ঈশ্বর আসিবেন, নীরব থাকিবেন না; তাঁহার অগ্রে অগ্নি গ্রাস করিবে, তাঁহার চারিদিকে অত্যন্ত ঝড় বহিবে।
তখন পৃথিবী কম্পমান হইল, ঈশ্বরের সাক্ষাতে আকাশও জলবিন্দুময় হইল; ঐ সীনয় ঈশ্বরের সাক্ষাতে, ইস্রায়েলের ঈশ্বরের সাক্ষাতে [কাঁপিয়া উঠিল]।
হে ঈশ্বর, তুমি জলধারা বর্ষাইলে, তোমার অধিকার ক্লান্ত হইলে তুমিই তাহা সুস্থির করিলে।
সদাপ্রভু প্রচণ্ড ক্রোধ, সর্ব্বগ্রাসক অগ্নিশিখা, বাত্যা, ঝটিকা ও করকা দ্বারা আপনার প্রতাপান্বিত রব শুনাইবেন, ও আপনার হস্তাবতারণ দেখাইবেন।
আমি দৃষ্টি করিলাম, আর দেখ, উত্তরদিক্ হইতে ঘূর্ণ্যবায়ু, বৃহৎ মেঘ ও জাজ্বল্যমান অগ্নি আসিল, এবং তাহার চারিদিকে তেজ ও তাহার মধ্যস্থানে অগ্নির মধ্যবর্ত্তী প্রতপ্ত ধাতুর ন্যায় প্রভা ছিল।
তখন আমি যেমন আজ্ঞা পাইলাম, তদনুসারে ভাববাণী বলিলাম; আর আমার ভাববাণী বলিবার সময়ে শব্দ হইল, আর দেখ, মড়মড়ধ্বনি হইল, এবং সেই সকল অস্থির মধ্যে প্রত্যেক অস্থি আপন আপন অস্থির সহিত সংযুক্ত হইল।
সদাপ্রভু ক্রোধে ধীর ও পরাক্রমে মহান্, এবং তিনি অবশ্য [পাপের] দণ্ড দেন; ঘূর্ণ্যবায়ু ও ঝড় সদাপ্রভুর পথ, মেষ তাঁহার পদধূলি।
তাঁহার ভয়ে পর্ব্বতগণ কাঁপে, উপপর্ব্বতগণ গলিয়া যায়, এবং তাঁহার সম্মুখ হইতে পৃথিবী, জগৎ ও তন্নিবাসী সকলে উঠিয়া যায়।
তাঁহার ক্রোধের সম্মুখে কে দাঁড়াইতে পারে? তাঁহার কোপের প্রদাহে কে তিষ্ঠিতে পারে? তাঁহার ক্রোধ অগ্নির ন্যায় সেচিত হয়, তাঁহার দ্বারা শৈলগণ ফাটিয়া যায়।
ঈশ্বর তৈমন হইতে আসিতেছেন, পারণ পর্ব্বত হইতে পবিত্রতম আসিতেছেন। সেলা। আকাশমণ্ডল তাঁহার প্রভায় সমাচ্ছন্ন, পৃথিবী তাঁহার প্রশংসায় পরিপূর্ণ।
তখন তিনি উত্তর করিয়া আমাকে কহিলেন, এ সরুব্বাবিলের প্রতি সদাপ্রভুর বাক্য, ‘পরাক্রম দ্বারা নয়, বল দ্বারাও নয়, কিন্তু আমার আত্মা দ্বারা,’ ইহা বাহিনীগণের সদাপ্রভু বলেন।
তখন তোমরা আমার পর্ব্বতগণের উপত্যকা দিয়া পলায়ন করিবে; কেননা পর্ব্বতগণের সেই উপত্যকা আৎসল পর্য্যন্ত যাইবে; হাঁ, তোমরা পলায়ন করিবে, যেমন যিহূদা-রাজ উষিয়ের সময়ে ভূমিকম্পের সম্মুখ হইতে পলায়ন করিয়াছিলে; আর আমার ঈশ্বর সদাপ্রভু আসিবেন, তোমার সঙ্গে পবিত্রগণ সকলেই আসিবেন।
[1] ছয় দিন পরে যীশু পিতর, যাকোব ও তাঁহার ভ্রাতা যোহনকে সঙ্গে করিয়া বিরলে এক উচ্চ পর্ব্বতে লইয়া গেলেন।
কারণ জাতির বিপক্ষে জাতি ও রাজ্যের বিপক্ষে রাজ্য উঠিবে, এবং স্থানে স্থানে দুর্ভিক্ষ ও ভূমিকম্প হইবে।
আর দেখ, মন্দিরের তিরস্করিণী উপর হইতে নীচ পর্য্যন্ত চিরিয়া দুইখান হইল, ভূমিকম্প হইল, ও শৈল সকল বিদীর্ণ হইল,
আর দেখ, মহা-ভূমিকম্প হইল; কেননা প্রভুর এক দূত স্বর্গ হইতে নামিয়া আসিয়া সেই পাথরখানা সরাইয়া দিলেন, এবং তাহার উপরে বসিলেন।
কারণ তোমরা সেই স্পৃশ্য ও অগ্নিতে প্রজ্বলিত পর্ব্বত, কৃষ্ণবর্ণ মেঘ, অন্ধকার, ঝড়, তূরীর ধ্বনি ও বাক্যের শব্দ এই সকলের নিকট উপস্থিত হও নাই।
তৎকালে তাঁহার রব পৃথিবীকে কম্পান্বিত করিয়াছিল; কিন্তু এখন তিনি এই প্রতিজ্ঞা করিয়াছেন, “আমি আর একবার কেবল পৃথিবীকে নয়, আকাশমণ্ডলকেও কম্পান্বিত করিব।”
ফলতঃ তিনি পিতা ঈশ্বর হইতে সমাদর ও গৌরব পাইয়াছিলেন, সেই মহিমাযুক্ত প্রতাপ কর্ত্তৃক তাঁহার কাছে এই বাণী উপনীত হইয়াছিল, “ইনিই আমার পুত্র, আমার প্রিয়তম, ইহাঁতেই আমি প্রীত।”
পরে ঈশ্বরের স্বর্গস্থ মন্দিরের দ্বার মুক্ত হইল, তাহাতে তাঁহার মন্দিরের মধ্যে তাঁহার নিয়ম-সিন্দুক দেখা গেল, এবং বিদ্যুৎ ও রব ও মেঘধ্বনি ও ভূমিকম্প ও মহাশিলাবৃষ্টি হইল।
‘হইয়াছে’। আর বিদ্যুৎ ও শব্দ ও মেঘধ্বনি হইল, এবং এক মহাভূমিকম্প হইল, পৃথিবীতে মনুষ্যের উৎপত্তিকাল অবধি যেমন কখনও হয় নাই, এমন প্রচণ্ড মহাভূমিকম্প হইল।
পরে আমি “এক বৃহৎ শ্বেতবর্ণ সিংহাসন ও যিনি তাহার উপরে বসিয়া আছেন,” তাঁহাকে দেখিতে পাইলাম; তাঁহার সম্মুখ হইতে পৃথিবী ও আকাশ পলায়ন করিল; “তাহাদের নিমিত্ত আর স্থান পাওয়া গেল না”।