এইরূপে সেই পশুর সাক্ষাতে যে সকল চিহ্ন-কার্য্য করিবার ক্ষমতা তাহাকে দত্ত হইয়াছে, তদ্দ্বারা সে পৃথিবীনিবাসীদের ভ্রান্তি জন্মায়; সে পৃথিবীনিবাসীদিগকে বলে, ‘যে পশু খড়গ দ্বারা আহত হইয়াও বাঁচিয়া ছিল, তাহার এক প্রতিমা-নির্ম্মাণ কর।’
Cross references
পরে যিশায়াহ কহিলেন, ডুমুরফলের একটা চাপ আন; আর লোকেরা তাহা লইয়া স্ফোটকের উপরে দিলে তিনি বাঁচিলেন।
অতএব দেখ, আমি তোমার পিতৃলোকদের কাছে তোমাকে সংগ্রহ করিব; তুমি শান্তিতে আপন কবরে সংগৃহীত হইবে, এবং আমি এই স্থানের উপরে যে সকল অমঙ্গল আনিব, তোমার চক্ষু সে সমস্ত দেখিবে না। পরে তাঁহারা আবার রাজাকে এই কথার সমাচার দিলেন।
সদাপ্রভু কহিলেন, কিসে? সে কহিল, আমি গিয়া তাহার সমস্ত ভাববাদীর মুখে মিথ্যাবাদী আত্মা হইব। তখন তিনি কহিলেন, তুমি তাহাকে মুগ্ধ করিবে, কৃতকার্য্যও হইবে; যাও, সেইরূপ কর। অতএব দেখুন,
বল ও বুদ্ধিকৌশল তাঁহার, ভ্রান্ত ও ভ্রামক তাঁহার।
সে ভস্মভোজী, মুগ্ধচিত্ত তাহাকে ভ্রান্ত করিয়াছে, সে আপন প্রাণ উদ্ধার করিতে পারে না, এবং ইহাও বলে না যে, আমার দক্ষিণ হস্তে কি মিথ্যা কথা নাই?
তাহাতে আমি ভিতরে গিয়া দৃষ্টিপাত করিলাম, আর দেখ, সর্ব্বপ্রকার সরীসৃপের ও ঘৃণ্য পশুর আকৃতি, এবং ইস্রায়েল-কুলের সমস্ত পুত্তলি চারিদিকে ভিত্তির গাত্রে চিত্রিত রহিয়াছে;
কোন ভাববাদী যদি প্ররোচিত হইয়া কথা কহে, তবে জানিও, আমিই সদাপ্রভু সেই ভাববাদীকে প্ররোচনা করিয়াছি; আমি তাহার বিরুদ্ধে আপন হস্ত বিস্তার করিয়া আপন প্রজা ইস্রায়েলের মধ্য হইতে তাহাকে উচ্ছিন্ন করিব।
আর আমার সুবর্ণ ও আমার রৌপ্য দ্বারা নির্ম্মিত যে সকল চারু আভরণ আমি তোমাকে দিয়াছিলাম, তুমি তাহা লইয়া পুরুষাকৃতি প্রতিমা নির্ম্মাণ করিয়া তাহাদের সহিত ব্যভিচার করিতে।
আর সেই রাজা স্বেচ্ছানুযায়ী কর্ম্ম করিবে, ও সমস্ত দেবতা অপেক্ষা আপনাকে বড় করিয়া দেখাইবে, ও দর্প করিবে, এবং ঈশ্বরদের ঈশ্বরের বিপরীতে অদ্ভুত কথা কহিবে, আর ক্রোধ সম্পন্ন না হওয়া পর্য্যন্ত কুশলপ্রাপ্ত থাকিবে; কেননা যাহা নিরূপিত, তাহাই করা যাইবে।
যে প্রতিরোধী হইবে ও ‘ঈশ্বর’ নামে আখ্যাত বা পূজ্য সকলের হইতে আপনাকে বড় করিবে, এমন কি, ঈশ্বরের মন্দিরে বসিয়া আপনাকে ঈশ্বর বলিয়া দেখাইবে।
সেই ব্যক্তির আগমন শয়তানের কার্য্যসাধন অনুসারে মিথ্যার সমস্ত পরাক্রম ও নানা চিহ্ন ও অদ্ভুত লক্ষণ সহকারে হইবে,
আর সেই মহানাগ নিক্ষিপ্ত হইল; এ সেই পুরাতন সর্প, যাহাকে দিয়াবল [অপবাদক] এবং শয়তান [বিপক্ষ] বলা যায়, সে সমস্ত নরলোকের ভ্রান্তি জন্মায়; সে পৃথিবীতে নিক্ষিপ্ত হইল, এবং তাহার দূতগণও তাহার সঙ্গে নিক্ষিপ্ত হইল।
পরে দেখিলাম, তাহার ঐ সকল মস্তকের মধ্যে একটা মস্তক যেন মৃত্যুজনক আঘাতে আহত হইয়াছিল, আর তাহার সেই মৃত্যুজনক আঘাতের প্রতীকার করা হইল; আর সমুদয় পৃথিবী চমৎকার জ্ঞান করিয়া সেই পশুর পশ্চাৎ চলিল।
তাহাতে পৃথিবী-নিবাসীদের সমস্ত লোক তাহার ভজনা করিবে, যাহাদের নাম জগৎপত্তনের সময়াবধি হত মেষশাবকের জীবন পুস্তকে লিখিত নাই।
পরে আমি আর এক পশুকে দেখিলাম, সে স্থল হইতে উঠিল, এবং মেষশাবকের ন্যায় তাহার দুই শৃঙ্গ ছিল, আর সে নাগের ন্যায় কথা কহিত।
আর তাহাকে এই ক্ষমতা দত্ত হইল যে, সে ঐ পশুর প্রতিমার মধ্যে নিশ্বাস প্রদান করে, যেন ঐ পশুর প্রতিমা কথা কহিতে পারে, ও এমন করিতে পারে যে, যত লোক সেই পশুর প্রতিমার ভজনা না করিবে, তাহাদিগকে বধ করা হয়।
পরে তৃতীয় এক দূত উহাঁদের পশ্চাৎ আসিলেন, তিনি উচ্চ রবে কহিলেন, যদি কেহ সেই পশু ও তাহার প্রতিমূর্ত্তির ভজনা করে, আর নিজ ললাটে কি হস্তে ছাব ধারণ করে,
তাহাদের যাতনার ধূম যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে উঠে”; যাহারা সেই পশু ও তাহার প্রতিমূর্ত্তির ভজনা করে, এবং যে কেহ তাহার নামের ছাব ধারণ করে, তাহারা দিবাতে কি রাত্রিতে কখনও বিশ্রাম পায় না।
আর আমি দেখিলাম, যেন অগ্নিমিশ্রিত কাচময় সমুদ্র; এবং যাহারা সেই পশু ও তাহার প্রতিমা ও তাহার নামের সংখ্যার উপরে বিজয়ী হইয়াছে, তাহারা ঐ কাচময় সমুদ্রের তীরে দাঁড়াইয়া আছে, তাহাদের হস্তে ঈশ্বরের বীণা।
পরে প্রথম দূত গিয়া পৃথিবীর উপরে আপন বাটি ঢালিলেন, তাহাতে সেই পশুর ছাববিশিষ্ট ও তাহার প্রতিমার ভজনাকারী মনুষ্যদের গাত্রে ব্যথাজনক দুষ্ট ক্ষত জন্মিল।
এবং প্রদীপের শিখা আর কখনও তোমার মধ্যে জ্বলিবে না; এবং বর কন্যার রব আর কখনও তোমার মধ্যে শুনা যাইবে না; কারণ তোমার বণিকেরা পৃথিবীর মহল্লোক ছিল, কারণ তোমার মায়াতে সমস্ত জাতি ভ্রান্ত হইত।
তাহাতে সেই পশু ধরা পড়িল, এবং যে ভাক্ত ভাববাদী তাহার সাক্ষাতে চিহ্ন-কার্য্য করিয়া পশুর ছাবধারী ও তাহার প্রতিমার ভজনাকারীদের ভ্রান্তি জন্মাইত, সেও তাহার সঙ্গে ধরা পড়িল; তাহারা উভয়ে জীবন্তই প্রজ্বলিত গন্ধকময় অগ্নিহ্রদে নিক্ষিপ্ত হইল।
আর তাহাকে অগাধলোকের মধ্যে ফেলিয়া দিয়া সেই স্থানের মুখ বদ্ধ করিয়া মুদ্রাঙ্কিত করিলেন; যেন ঐ সহস্র বৎসর সম্পূর্ণ না হইলে সে জাতিবৃন্দকে আর ভ্রান্ত করিতে না পারে; তৎপরে অল্প কালের নিমিত্ত তাহাকে মুক্ত হইতে হইবে।
আর তাহাদের ভ্রান্তিজনক দিয়াবল “অগ্নি ও গন্ধকের” হ্রদে নিক্ষিপ্ত হইল, যেখানে ঐ পশু ও ভাক্ত ভাববাদীও আছে; আর তাহারা যুগপর্য্যায়ের যুগে যুগে দিবারাত্র যন্ত্রণা ভোগ করিবে।