তিনি পৃথিবীর প্রতি দৃষ্টিপাত করিলে তাহা কাঁপে; তিনি পর্ব্বতরাজিকে স্পর্শ করিলে তাহারা ধূমায়মান হয়।
Cross references
তখন সমস্ত সীনয় পর্ব্বত ধূমময় ছিল; কেননা সদাপ্রভু অগ্নিসহ তাহার উপরে নামিয়া আসিলেন, আর ভাটীর ধূমের ন্যায় তাহা হইতে ধূম উঠিতে লাগিল, এবং সমস্ত পর্ব্বত অতিশয় কাঁপিতে লাগিল।
আমাদের ঈশ্বর আসিবেন, নীরব থাকিবেন না; তাঁহার অগ্রে অগ্নি গ্রাস করিবে, তাঁহার চারিদিকে অত্যন্ত ঝড় বহিবে।
হে ঈশ্বর, জলসমূহ তোমাকে দেখিল; জলসমূহ তোমাকে দেখিল, কম্পিত হইল, জলধি সকলও বিচলিত হইল।
সমুদ্রের মধ্যে তোমার পথ ছিল, বহু জলরাশির মধ্যে তোমার মার্গ ছিল, তোমার পদচিহ্ন জানা গেল না।
তাঁহার বিদ্যুৎ জগৎকে দেদীপ্যমান করিল; পৃথিবী তাহা দেখিল, কম্পান্বিত হইল।
পৃথিবী! তুমি কম্পিত হও, প্রভুর সাক্ষাতে, যাকোবের ঈশ্বরের সাক্ষাতে।
হে সদাপ্রভু, তোমার আকাশমণ্ডল নোয়াইয়া নামিয়া আইস; পর্ব্বতগণকে স্পর্শ কর, তাহারা ধূমাইবে।
আহা, তুমি আকাশমণ্ডল বিদীর্ণ করিয়া নামিয়া আইস, পর্ব্বতগণ তোমার সাক্ষাতে কম্পিত হউক;
‘আমি পৃথিবীতে দৃষ্টিপাত করিলাম, আর দেখ তাহা ঘোর ও শূন্য ছিল; আমি আকাশমণ্ডলে [দৃষ্টিপাত করিলাম] তাহার দীপ্তি ছিল না।
সদাপ্রভু কহেন, তোমরা কি আমাকে ভয় করিবে না? আমার সাক্ষাতে কি কম্পমান হইবে না? আমি ত বালুকা দ্বারা সমুদ্রের সীমা নিত্যস্থায়ী বিধিক্রমে স্থির করিয়াছি; সে তাহা উল্লঙ্ঘন করিতে পারে না; তাহার তরঙ্গ আস্ফালন করিলেও কৃতার্থ হয় না, কল্লোলধ্বনি করিলেও সীমা অতিক্রম করিতে পারে না।
ইহার নিমিত্ত কি দেশ কাঁপিবে না? তন্নিবাসী সকলে কি শোকান্বিত হইবে না? সমুদয় দেশ নীল নদীর ন্যায় স্ফীত হইয়া উঠিবে, মিস্রীয় নদীর ন্যায় ঢেউ খেলিয়া আবার নামিয়া যাইবে।
তাঁহার ভয়ে পর্ব্বতগণ কাঁপে, উপপর্ব্বতগণ গলিয়া যায়, এবং তাঁহার সম্মুখ হইতে পৃথিবী, জগৎ ও তন্নিবাসী সকলে উঠিয়া যায়।
তাঁহার অগ্রে অগ্রে মহামারী চলে, তাঁহার পদচিহ্ন দিয়া জ্বলদঙ্গার গমন করে।
তিনি দাঁড়াইয়া পৃথিবীকে পরিমাণ করিলেন, তিনি দৃক্পাত করিয়া জাতিগণকে ত্রাসতাড়িত করিলেন; সনাতন পর্ব্বত সকল খণ্ডবিখণ্ড হইল, চিরন্তন গিরিমালা নত হইল; অনাদিকাল অবধি তাঁহার গতি।
পর্ব্বতগণ তোমাকে দেখিয়া কাঁপিয়া উঠিল, প্রচণ্ড জলরাশি বহিয়া গেল, বারিধি আপন রব উদীর্ণ করিল, আপন হস্তদ্বয় উচ্চে উঠাইল।