আমার দিন হেলিয়া পড়া ছায়ার সদৃশ, আমি তৃণের ন্যায় শুষ্ক হইতেছি।
Cross references
সে পুষ্পের ন্যায় প্রস্ফুটিত হইয়া ম্লান হয়, সে ছায়ার ন্যায় চলিয়া যায়, স্থির থাকে না;
তিনি চারিদিকে আমাকে ভগ্ন করিয়াছেন, আমি গেলাম; তিনি বৃক্ষের ন্যায় আমার আশ্বাস উন্মূলন করিয়াছেন।
দেখ, তুমি আমার আয়ু কতিপয় মুষ্টি পরিমিত করিয়াছ, আমার জীবনকাল তোমার দৃষ্টিতে অবস্তবৎ; সত্য, প্রত্যেক মনুষ্য স্থিরীকৃত হইলেও নিতান্ত অসার। সেলা।
কেননা আমার দিন সকল ধূমে লীন হইয়াছে, আমার অস্থি সকল জ্বলন্ত কাষ্ঠবৎ তপ্ত হইয়াছে;
আমি হেলিয়া পড়া ছায়ার ন্যায় অতীত হইতেছি, পঙ্গপালের ন্যায় ইতস্ততঃ চালিত হইতেছি।
মনুষ্য নিঃশ্বাসের তুল্য, তাহার আয়ু ছায়ার সদৃশ, যাহা চলিয়া যায়।
বস্তুতঃ জীবনকালে মনুষ্যের মঙ্গল কি, তাহা কে জানে? তাহার অসার জীবনকাল ত সে ছায়ার ন্যায় যাপন করে; আর মনুষ্যের পরে সূর্য্যের নীচে কি ঘটিবে, তাহা তাহাকে কে জানাইতে পারে?
এক জনের রব, সে বলিতেছে, ‘ঘোষণা কর,’ এক জন কহিল, ‘কি ঘোষণা করিব?’ ‘মর্ত্ত্যমাত্র তৃণস্বরূপ, তাহার সমস্ত কান্তি ক্ষেত্রস্থ পুষ্পের তুল্য।
আমি সেই ব্যক্তি, যে তাঁহার ক্রোধের দণ্ডঘটিত দুঃখ দেখিয়াছে।
আর ধনবান্ আপন অবনতির শ্লাঘা করুক, কেননা সে তৃণপুষ্পের ন্যায় বিগত হইবে।
তোমরা ত কল্যকার তত্ত্ব জান না; তোমাদের জীবন কি প্রকার? তোমরা ত বাষ্পস্বরূপ, যাহা ক্ষণেক দৃশ্য থাকে, পরে অন্তর্হিত হয়।
কেননা “মর্ত্ত্যমাত্র তৃণের তুল্য, ও তাহার সমস্ত কান্তি তৃণপুষ্পের তুল্য; তৃণ শুষ্ক হইয়া গেল, এবং পুষ্প ঝরিয়া পড়িল,