আমার ঘৃণা হইয়াছে, আমি নিত্য বাঁচিয়া থাকিতে চাহি না; আমাকে ছাড়, কেননা আমার আয়ু নিশ্বাসবৎ।
Cross references
আর রিবিকা ইস্হাককে কহিলেন, এই হিত্তীয়দের কন্যাদের বিষয় আমার প্রাণে ঘৃণা হইতেছে; যদি যাকোবও ইহাদের মত কোন হিত্তীয় কন্যাকে, এতদ্দেশীয় কন্যাদের মধ্যে কোন কন্যাকে বিবাহ করে, তবে প্রাণধারণে আমার কি লাভ?
কিন্তু তিনি আপনি এক দিনের পথ প্রান্তরে অগ্রসর হইয়া এক রোতম বৃক্ষের কাছে গিয়া তাহার তলে বসিলেন, এবং আপনার মৃত্যু প্রার্থনা করিলেন; কহিলেন, এই যথেষ্ট; হে সদাপ্রভু, এখন আমার প্রাণ লও, কেননা আপন পিতৃপুরুষদের হইতে আমি উত্তম নহি।
দুঃখার্ত্তকে কেন দীপ্তি দেওয়া হয়? তিক্তপ্রাণকে কেন জীবন দেওয়া হয়?
হাঁ, ঈশ্বর অনুগ্রহ করিয়া আমাকে চূর্ণ করুন, হস্ত প্রসারণ করিয়া আমাকে কাটিয়া ফেলুন;
আমি সিদ্ধ, আমার প্রাণ মান্য করি না, আপনার জীবনে আমার ঘৃণা লাগে।
আমার প্রাণ জীবনে ক্লান্ত হইয়াছে; আমি আপন দুঃখের কথা মুক্তকণ্ঠে বলিব, আমি প্রাণের তিক্ততায় কথা বলিব।
আমার দিন কি অল্প নয়? অতএব ক্ষান্ত হও, আমাকে ছাড়, ক্ষণকাল সান্ত্বনা লাভ করি,
অন্যত্র দৃষ্টি কর, সে বিরাম প্রাপ্ত হউক, বেতনজীবীর ন্যায় আপন দিন ভোগ করুক।
সত্য, মনুষ্য ছায়ার ন্যায় গমনাগমন করে, সত্য, তাহারা অসারের জন্য ব্যতিব্যস্ত; সে ধনরাশি সঞ্চয় করে, কিন্তু কে তাহা সংগ্রহ করিবে, জানে না।
আমা হইতে তোমার আঘাত অন্তর কর, তোমার হস্তের প্রহারে আমি ক্ষীণ হইলাম।
আমা হইতে দৃষ্টি ফিরাও, যেন প্রফুল্ল হই, যাবৎ প্রয়াণ না করি, ও আর না থাকি।
সামান্য লোকেরা বাষ্পমাত্র, মান্যবান লোকেরা মিথ্যা; তাহাদিগকে তৌল করিলে তাহারা উপরে উঠে; তাহাদের সর্ব্বস্ব বাষ্প অপেক্ষা লঘু।
অতএব তিনি তাহাদের আয়ু অসারতায়, তাহাদের বৎসর সকল বিহ্বলতায়, শেষ করিলেন।
মনুষ্য নিঃশ্বাসের তুল্য, তাহার আয়ু ছায়ার সদৃশ, যাহা চলিয়া যায়।
সুতরাং আমি জীবনে বিরক্ত হইলাম; কেননা সূর্য্যের নীচে কৃত কার্য্য আমার ক্লেশদায়ক বোধ হইল; কারণ সকলই অসার ও বায়ুভক্ষণ মাত্র।
যাহাতে অসারতা বাড়ে, এমন অনেক কথা আছে, তাহাতে মানুষের কি উৎকর্ষ?
অতএব এখন, হে সদাপ্রভু, বিনতি করি, আমা হইতে আমার প্রাণ হরণ কর, কেননা আমার জীবন অপেক্ষা মরণ ভাল।
পরে যখন সূর্য্য উঠিল, ঈশ্বর উষ্ণ পূর্ব্বীয় বায়ু নিরূপণ করিলেন, তাহাতে যোনার মস্তকে এমন রৌদ্র লাগিল যে, তিনি পরিক্লান্ত হইয়া আপন মৃত্যু প্রার্থনা করিয়া কহিলেন, আমার জীবন অপেক্ষা মরণ ভাল।