ক্ষুধিত লোককে তোমার খাদ্য বন্টন করা, তাড়িত দুঃখীদিগকে গৃহে আশ্রয় দেওয়া, ইহা কি নয়? উলঙ্গকে দেখিলে তাহাকে বস্ত্র দান করা, তোমার নিজ মাংস হইতে আপনার গা না ঢাকা, ইহা কি নয়?
Cross references
আর চক্ষু তুলিয়া দৃষ্টি করিলেন, আর দেখ, তিনটী পুরুষ সম্মুখে দণ্ডায়মান। দেখিবামাত্র তিনি তাম্বুদ্বার হইতে তাঁহাদের নিকট দৌড়িয়া গিয়া ভূমিতে প্রণিপাত করিয়া কহিলেন,
হে আমার প্রভুরা, দেখুন, বিনয় করি, আপনাদের এই দাসের গৃহে পদার্পণ করিয়া রাত্রি বাস করুন ও পা ধুউন; পরে প্রত্যূষে উঠিয়া স্বযাত্রায় অগ্রসর হইবেন। তাঁহারা কহিলেন, না, আমরা চকেই রাত্রি যাপন করিব।
তখন লোট বাহিরে গিয়া, যাহারা তাঁহার কন্যাদিগকে বিবাহ করিয়াছিল, আপনার সেই জামাতাদিগকে কহিলেন, উঠ, এ স্থান হইতে বাহির হও, কেননা সদাপ্রভু এই নগর উচ্ছিন্ন করিবেন। কিন্তু তাঁহার জামাতারা তাঁহাকে উপহাসকারী বলিয়া জ্ঞান করিল।
নিবেদন করি, তোমরা শিখিমের সমস্ত গৃহস্থের কর্ণগোচরে এই কথা বল, তোমাদের পক্ষে ভাল কি? তোমাদের উপরে যিরুব্বালের সমুদয় পুত্রের অর্থাৎ সত্তর জনের কর্ত্তৃত্ব ভাল, না এক জনের কর্ত্তৃত্ব ভাল? আর ইহাও স্মরণ কর, আমি তোমাদের অস্থি ও তোমাদের মাংস।
বৃদ্ধ কহিলেন, তোমার শান্তি হউক, তোমার যাহা কিছু প্রয়োজনীয়, তাহার ভার আমার উপরে থাকুক; তুমি কোন ক্রমে এই চকে রাত্রি যাপন করিও না।
পরে উপরি উক্ত নাম বিশিষ্ট পুরুষেরা উঠিয়া বন্দিদিগকে লইয়া লুটিত বস্তু দ্বারা, তাহাদের মধ্যে যাহারা উলঙ্গ ছিল, সকলকে পরিচ্ছন্ন করিলেন, তাহাদের গাত্রে বস্ত্র ও পায়ে পাদুকা দিলেন, তাহাদিগকে ভোজন পান করাইলেন, তাহাদের গাত্রে তৈল মর্দ্দন করাইলেন, এবং অসমর্থ সকলকে গর্দ্দভে চড়াইয়া খর্জ্জুরপুর যিরীহোতে তাহাদের ভ্রাতাদের নিকটে তাহাদিগকে লইয়া গেলেন; পরে আপনারা শমরিয়াতে ফিরিয়া গেলেন।
কিন্তু আমাদের মাংস আমাদের ভ্রাতাদের মাংসের সমান, আমাদের সন্তানগণ তাহাদের সন্তানদের সমান; তথাপি দেখুন, আমরা আপন আপন পুত্র কন্যাগণকে দাসত্বে আনিতেছি, আমাদের কন্যাদের মধ্যে কেহ কেহ ত দাসীর অবস্থায় পড়িয়াছে; আমাদের কিছু সঙ্গতি নাই; এবং আমাদের ভূমি ও দ্রাক্ষাক্ষেত্র সকল অন্য লোকদের হইয়াছে।
তুমি পরিশ্রান্তকে পান করিতে জল দিতে না, ক্ষুধিতকে আহার দিতে অস্বীকার করিতে।
(বস্তুতঃ আমার বাল্যাবধি সে যেমন পিতার কাছে, তেমনি আমার কাছে মানুষ হইত, আজন্মকাল আমি বিধবার উপকার করিয়াছি;)
যখন আমি কাহাকেও বস্ত্রাভাবে মৃতকল্প দেখিয়াছি, দীনহীনকে উলঙ্গ দেখিয়াছি,
সে বিতরণ করিয়াছে, দরিদ্রদিগকে দান করিয়াছে, তাহার ধার্ম্মিকতা নিত্যস্থায়ী; তাহার শৃঙ্গ গৌরবে উন্নত হইবে।
দয়ালু আপন প্রাণের উপকার করে; কিন্তু নির্দ্দয় আপন মাংসের কন্টক।
সুনয়ন ব্যক্তি আশীর্ব্বাদযুক্ত হইবে; কারণ সে দীনহীন লোককে আপন খাদ্যের অংশ দেয়।
তোমার শত্রু যদি ক্ষুধিত হয়, তাহাকে অন্ন ভোজন করাও; যদি সে পিপাসিত হয়, তাহাকে জল পান করাও;
যে দরিদ্রকে দান করে, তাহার অভাব ঘটে না, কিন্তু যে চক্ষু মুদে, সে অনেক অভিশাপ পাইবে।
তুমি জলের উপরে আপন ভক্ষ্য ছড়াইয়া দেও, কেননা অনেক দিনের পরে তাহা পাইবে।
মন্ত্রণা দেও, বিচার কর, মধ্যাহ্নকালে আপনার ছায়াকে রাত্রিকালের ন্যায় কর, বহিষ্কৃত লোকদিগকে লুকাইয়া রাখ, পলাতককে প্রকাশ করিও না।
আর যদি ক্ষুধিত লোককে তোমার প্রাণের ইষ্ট ভক্ষ্য দেও, ও দুঃখার্ত্ত প্রাণীকে আপ্যায়িত কর, তবে অন্ধকারে তোমার দীপ্তি উদিত হইবে, ও তোমার তিমির মধ্যাহ্নের সমান হইবে।
এবং কাহারও প্রতি দৌরাত্ম্য করে নাই, ঋণীকে বন্ধক ফিরাইয়া দিয়াছে, কাহারও দ্রব্য বলপূর্ব্বক অপহরণ করে নাই, ক্ষুধিত লোককে অন্ন দিয়াছে, ও উলঙ্গকে বস্ত্র পরাইয়াছে, সুদের লোভে ঋণ দেয় নাই,
কাহারও প্রতি দৌরাত্ম্য করে নাই, বন্ধক দ্রব্য রাখে নাই, কাহারও দ্রব্য বলপূর্ব্বক অপহরণ করে নাই, কিন্তু ক্ষুধিত লোককে অন্ন দিয়াছে ও উলঙ্গকে বস্ত্র পরাইয়াছে,
অতএব, হে রাজন্, আপনি আমার পরামর্শ গ্রাহ্য করুন; আপনি ধার্ম্মিকতা দ্বারা আপন পাপ সকল, ও দুঃখীদের প্রতি কৃপা প্রদর্শন দ্বারা আপন অপরাধ সকল মুছিয়া ফেলুন; হয় ত আপনার শান্তিকাল বৃদ্ধি পাইবে।
কেননা আমি ক্ষুধিত হইয়াছিলাম, আর তোমরা আমাকে আহার দিয়াছিলে; পিপাসিত হইয়াছিলাম, আর আমাকে পান করাইয়াছিলে; অতিথি হইয়াছিলাম, আর আমাকে আশ্রয় দিয়াছিলে;
তিনি উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, যাহার দুইটী আঙ্রাখা আছে, সে, যাহার নাই, তাহাকে একটী দিউক; আর যাহার কাছে খাদ্য দ্রব্য আছে, সেও তদ্রূপ করুক।
তিনি তাহাকে কহিলেন, ব্যবস্থায় কি লেখা আছে? কিরূপ পাঠ করিতেছ?
বরং ভিতরে যাহা যাহা আছে, তাহা দান কর, আর দেখ, তোমাদের পক্ষে সকলই শুচি।
তখন সক্কেয় দাঁড়াইয়া প্রভুকে কহিল, প্রভু, দেখুন, আমার সম্পত্তির অর্দ্ধেক আমি দরিদ্রদিগকে দান করি; আর যদি অন্যয়পূর্ব্বক কাহারও কিছু হরণ করিয়া থাকি, তাহার চতুর্গুণ ফিরাইয়া দিই।
তিনি ও তাঁহার পরিবার বাপ্তাইজিত হইলে পর তিনি বিনতি করিয়া কহিলেন, আপনারা যদি আমাকে প্রভুতে বিশ্বাসিনী বলিয়া বিবেচনা করিয়া থাকেন, তবে আমার গৃহে আসিয়া অবস্থিতি করুন। আর তিনি আমাদিগকে সাধ্যসাধনা করিয়া লইয়া গেলেন।
পরে সে তাঁহাদিগকে উপরে গৃহমধ্যে লইয়া গিয়া তাঁহাদের সম্মুখে আহারীয় দ্রব্য রাখিল; এবং সমস্ত পরিবারের সহিত ঈশ্বরে বিশ্বাস করাতে অতিশয় আহ্লাদিত হইল।
পবিত্রগণের অভাবের সহভাগী হও, অতিথি-সেবায় রত হও।
বরং “তোমার শত্রু যদি ক্ষুধিত হয়, তাহাকে ভোজন করাও; যদি সে পিপাসিত হয়, তাহাকে পান করাও; কেননা তাহা করিলে তুমি তাহার মস্তকে জ্বলন্ত অঙ্গারের রাশি করিয়া রাখিবে।”
কিন্তু আমি বলি এই, যে অল্প পরিমাণে বীজ বুনে, সে অল্প পরিমাণে শস্যও কাটিবে; আর যে ব্যক্তি আশীর্ব্বাদের সহিত বীজ বুনে, সে আশীর্ব্বাদের সহিত শস্যও কাটিবে।
এবং যাহার পক্ষে নানা সৎকর্ম্মের প্রমাণ পাওয়া যায়; অর্থাৎ যদি সে সন্তানদের লালন পালন করিয়া থাকে, যদি অতিথিসেবা করিয়া থাকে, যদি পবিত্রদিগের পা ধুইয়া থাকে, যদি ক্লিষ্টদিগের উপকার করিয়া থাকে, যদি সমস্ত সৎকর্ম্মের অনুসরণ করিয়া থাকে।
কেননা তোমার প্রেমে আমি অনেক আনন্দ ও আশ্বাস পাইয়াছি, কারণ, হে ভ্রাতা, তোমার দ্বারা পবিত্রগণের প্রাণ জুড়াইয়াছে।
তোমরা অতিথিসেবা ভুলিয়া যাইও না; কেননা তদ্দ্বারা কেহ কেহ না জানিয়া দূতগণেরও আতিথ্য করিয়াছেন।
কোন ভ্রাতা কিম্বা ভগিনী বস্ত্রহীন
কিন্তু যাহার সাংসারিক জীবনোপায় আছে, সে আপন ভ্রাতাকে দীনহীন দেখিলে যদি তাহার প্রতি আপন করুণা রোধ করে, তবে ঈশ্বরের প্রেম কেমন করিয়া তাহার অন্তরে থাকে?