[সদাপ্রভু] বাচালদিগের চিহ্ন সকল ব্যর্থ করেন, ও মন্ত্রজ্ঞদিগকে উন্মত্ত করেন, তিনি জ্ঞানবানদিগকে হটাইয়া দেন, ও তাহাদের জ্ঞান মূর্খতাস্বরূপ করেন।
Cross references
সেই স্ফোটক প্রযুক্ত মন্ত্রবেত্তারা মোশির সম্মুখে দাঁড়াইতে পারিল না, কারণ মন্ত্রবেত্তাদের ও সমস্ত মিস্রীয়ের গাত্রে স্ফোটক জন্মিল।
নিশ্চয়ই যাকোবে* মায়াশক্তি নাই, ইস্রায়েলে মন্ত্র নাই; এক্ষণে যাকোবের ও ইস্রায়েলের বিষয় বলা যাইবে, ঈশ্বর কি না সাধন করিয়াছেন।
পরে কেহ দায়ূদকে কহিল, অবশালোমের সঙ্গে চক্রান্তকারীদের মধ্যে অহীথোফলও আছে; তখন দায়ূদ কহিলেন, হে সদাপ্রভু, অনুগ্রহ করিয়া অহীথোফলের মন্ত্রণাকে মূর্খতায় পরিণত কর।
ঐ সময়ে অহীথোফল যে মন্ত্রণা দিত, সেই মন্ত্রণা ঈশ্বরের বাক্যে উত্তরপ্রাপ্তির তুল্য ছিল; দায়ূদের ও অবশালোমের, উভয়ের বোধে অহীথোফলের যাবতীয় মন্ত্রণা তাদৃশ ছিল।
আর অহীথোফল যখন দেখিত যে, তাহার মন্ত্রণানুযায়ী কাজ করা হইল না, তখন সে গর্দ্দভ সাজাইল, এবং উঠিয়া নিজ বাটীতে, আপন নগরে গেল, এবং আপন বাটীর বিষয়ে ব্যবস্থা করিয়া আপনি গলায় দড়ি দিয়া মরিল; পরে তাহার পিতার কবরে সে কবর প্রাপ্ত হইল।
আর কনানার পুত্র সিদিকিয় লৌহময় শৃঙ্গযুগল নির্ম্মাণ করিয়া কহিল, সদাপ্রভু এই কথা কহেন, ইহার দ্বারা আপনি অরামের বিনাশ সাধন পর্য্যন্ত গুঁতাইবেন।
সে কহিল, আমি গিয়া তাহার সমস্ত ভাববাদীর মুখে মিথ্যাবাদী আত্মা হইব। তখন তিনি কহিলেন, তুমি তাহাকে মুগ্ধ করিবে, কৃতকার্য্যও হইবে; যাও, সেইরূপ কর।
এইরূপে রাজা মরিয়া গেলেন ও শমরিয়াতে আনীত হইলেন, আর লোকেরা শমরিয়াতে রাজাকে কবর দিল।
আর ভাববাদীরা সকলেই তদ্রূপ ভাবোক্তি প্রচার করিল, কহিল, আপনি রামোৎ-গিলিয়দে যাত্রা করুন, কৃতকার্য্য হউন, কেননা সদাপ্রভু তাহা মহারাজের হস্তে সমর্পণ করিবেন।
সেই দিবস তুমুল যুদ্ধ হইল; আর ইস্রায়েলের রাজা অরামীয়দের সম্মুখে সন্ধ্যাকাল পর্য্যন্ত রথে আপনাকে দণ্ডায়মান রাখিলেন, কিন্তু সূর্য্যাস্তকালে মরিয়া গেলেন।
তিনি ধূর্ত্তদের কল্পনা ব্যর্থ করেন, তাহাদের হস্ত সঙ্কল্প সাধন করিতে পারে না।
তিনি জ্ঞানীদিগকে তাহাদের ধূর্ত্ততায় ধরেন, কুটিলমনাদের মন্ত্রণা আশু বিফল হইয়া পড়ে।
সদাপ্রভু জাতিগণের মন্ত্রণা ব্যর্থ করেন, তিনি লোকবৃন্দের সঙ্কল্প সকল বিফল করেন।
আর মিসরের আত্মা তাহার অন্তরে শূন্য হইয়া যাইবে, এবং আমি তাহার মন্ত্রণা গ্রাস করিব; আর তাহারা প্রতিমা, ভেল্কিকর, ভূতুড়িয়া ও গুণীদের নিকটে অন্বেষণ করিবে।
সোয়নের প্রধানবর্গ নিতান্ত অজ্ঞান; ফরৌণের বিজ্ঞবর মন্ত্রিগণের মন্ত্রণা পশুবৎ হইল; তোমরা কেমন করিয়া ফরৌণকে বলিতে পার, আমি জ্ঞানীদের পুত্র, প্রাচীন রাজাদের সন্তান?
অতএব দেখ, আমি এই জাতির সহিত পুনর্ব্বার আশ্চর্য্য ব্যবহার, এমন কি, আশ্চর্য্য ও চমৎকার ব্যবহার করিব; এবং তাহাদের জ্ঞানবানদের জ্ঞান বিনষ্ট, ও বিবেচক লোকেদর বিবেচনা অন্তর্হিত হইবে।
যে বিবিধ ইন্দ্রজালে ও মায়াবিত্বের বাহুল্যে তুমি বাল্যকালাবধি শ্রম করিয়া আসিতেছ, এখন সেই সকল লইয়া দাঁড়াও; দেখি, যদি উপকার পাও, দেখি, যদি ভয় দেখাইতে পার।
তুমি আপনার অনেক মন্ত্রণায় ক্লান্ত হইয়াছ; তবে জ্যোতিষীরা, নক্ষত্রদর্শীরা, মাসদৈবজ্ঞেরা উঠিয়া দাঁড়াউক, তোমার প্রতি যাহা যাহা ঘটিবে, তাহা হইতে তোমাকে নিস্তার করুক।
আর তোমাদের কর্ত্তব্য এই, তোমাদের যে ভাববাদী, মন্ত্রজ্ঞ, স্বপ্নদর্শক, গণক, ও মায়াবী সকল তোমাদিগকে বলে, তোমরা বাবিল-রাজের দাস হইবে না, তাহাদের কথায় কর্ণপাত করিও না;
যে ভাববাদী শান্তির ভাববাণী বলে, সেই ভাববাদীর বাক্য সফল হইলেই জানা যায় যে, সদাপ্রভু সত্যই সেই ভাববাদীকে প্রেরণ করিয়াছেন।
পরে হনানিয় ভাববাদী সেই বৎসরের সপ্তম মাসে প্রাণত্যাগ করিল।
ইদোমের বিষয়। বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা কহেন, তৈমনে কি আর প্রজ্ঞা নাই? বুদ্ধিমানদের মধ্যে কি মন্ত্রণার লোপ হইয়াছে? তাহাদের জ্ঞান কি অন্তর্হিত হইয়াছে?
বাচালদিগের উপরে খড়্গ রহিয়াছে, তাহারা হতবুদ্ধি হইবে; তাহার বীরগণের উপরে খড়্গ রহিয়াছে, তাহারা উদ্বিগ্ন হইবে।
আর আমি তাহার অধ্যক্ষগণকে, তাহার জ্ঞানবানদিগকে, তাহার দেশাধ্যক্ষগণকে, তাহার শাসনকর্ত্তৃগণকে ও তাহার বীরগণকে মত্ত করিব; তাহাতে তাহারা চিরনিদ্রায় নিদ্রিত হইবে, আর জাগরিত হইবে না, ইহা রাজা বলেন, যাঁহার নাম বাহিনীগণের সদাপ্রভু।
আর জ্ঞান ও বুদ্ধি-সংক্রান্ত যে কোন কথা রাজা তাঁহাদিগকে জিজ্ঞাসা করিলেন, তদ্বিষয়ে তাঁহার সমগ্র রাজ্যস্থ সমুদয় মন্ত্রবেত্তা ও গণক হইতে তাঁহাদিগকে দশগুণ অধিক বিজ্ঞ দেখিতে পাইলেন।
কল্দীয়েরা রাজার সম্মুখে উত্তর করিয়া বলিল, মহারাজের স্বপ্নকথা জানাইতে পারে, পৃথিবীতে এমন মনুষ্য কেহ নাই; বাস্তবিক মহান্ কি পরাক্রান্ত কোন রাজা কখন কোন মন্ত্রবেত্তাকে কি গণককে কি কল্দীয়কে এমন কথা জিজ্ঞাসা করেন নাই।
পরে মন্ত্রবেত্তা, গণক, কল্দীয় ও জ্যোতির্ব্বেত্তারা আমার কাছে আসিলে আমি তাহাদের কাছে সেই স্বপ্ন বলিলাম; কিন্তু তাহারা আমাকে তাহার তাৎপর্য্য বলিতে পারিল না।
তখন রাজার মুখ বিবর্ণ হইল, তিনি ভাবনাতে বিহ্বল হইলেন; তাঁহার কটিদেশের গ্রন্থি শিথিল হইয়া পড়িল, এবং তাঁহার জানুতে জানু ঠেকিতে লাগিল।
কেননা ঠাকুরগণ অসারতার কথা বলিয়াছে, মন্ত্রপাঠকেরা মিথ্যা দর্শন পাইয়াছে, ও মিথ্যা স্বপ্নের কথা বলিয়াছে; তাহারা বৃথাই সান্ত্বনা দেয়; এই কারণ লোকেরা মেষপালের ন্যায় চলিয়া যায় ও দুঃখ পায়, কেননা পালক নাই।
জ্ঞানবান্ কোথায়? অধ্যাপক কোথায়? এই যুগের বাদানুবাদকারী কোথায়? ঈশ্বর কি জগতের জ্ঞানকে মূর্খতায় পরিণত করেন নাই?
যেহেতুক এই জগতের যে জ্ঞান, তাহা ঈশ্বরের নিকটে মূর্খতা। কারণ লেখা আছে, “তিনি জ্ঞানবান্দিগকে তাহাদের ধূর্ত্ততায় ধরেন।”