—তাহাতে অব্রাম লোটকে কহিলেন, বিনয় করি, তোমাতে ও আমাতে এবং তোমার পশুপালকগণে ও আমার পশুপালকগণে বিবাদ না হউক; কেননা আমরা পরস্পর জ্ঞাতি।
Cross references
তেরহের বংশ-বৃত্তান্ত এই। তেরহ অব্রাম, নাহোর ও হারণের জন্ম দিলেন।
অব্রাম যখন শুনিলেন, তাঁহার জ্ঞাতি ধৃত হইয়াছেন, তখন তিনি আপন গৃহজাত তিন শত আঠার জন অভ্যস্ত দাসকে লইয়া দান পর্য্যন্ত ধাবমান হইয়া গেলেন।
এইরূপে তিনি আপন ভ্রাতাদিগকে বিদায় করিলে তাঁহারা প্রস্থান করিলেন; তিনি তাঁহাদিগকে বলিয়া দিলেন, পথে বিবাদ করিও না।
পরে দ্বিতীয় দিন তিনি বাহিরে গেলেন, আর দেখ, দুই জন ইব্রীয় পরস্পর বিবাদ করিতেছে; তিনি দোষী ব্যক্তিকে কহিলেন, তোমার ভাইকে কেন মারিতেছ?
পরে এবদের পুত্র গাল আপন ভ্রাতৃগণকে সঙ্গে লইয়া শিখিমে আসিল; আর শিখিমের গৃহস্থেরা তাহাকে বিশ্বাস করিল।
দেখ, ইহা কেমন উত্তম ও কেমন মনোহর যে, ভ্রাতারা একসঙ্গে ঐক্যে বাস করে!
কোমল উত্তর ক্রোধ নিবারণ করে, কিন্তু কটুবাক্য কোপ উত্তেজিত করে।
যে ব্যক্তি ক্রোধী, সে বিবাদ উত্তেজিত করে; কিন্তু যে ক্রোধে ধীর, সে বিবাদ ক্ষান্ত করে।
বিবাদ হইতে নিবৃত্ত হওয়া মনুষ্যের গৌরব, কিন্তু মূর্খমাত্রেই বিবাদ করিবে।
ধন্য যাহারা মিলন করিয়া দেয়, কারণ তাহারা ঈশ্বরের পুত্র বলিয়া আখ্যাত হইবে।
আর পর দিবস তাহারা যখন মারামারি করিতেছিল, তখন তিনি তাহাদের কাছে দেখা দিয়া মিলন করাইয়া দিবার চেষ্টা করিলেন, কহিলেন, ওহে, তোমরা পরস্পর ভ্রাতা, এক জন অন্যের প্রতি অন্যায় করিতেছ কেন?
ভ্রাতৃপ্রেমে পরস্পর স্নেহশীল হও; সমাদরে এক জন অন্যকে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান কর।
কিন্তু ভ্রাতার সহিত ভ্রাতা বিচার-স্থানে বিবাদ করে, তাহা আবার অবিশ্বাসীদের কাছে।
সম্পূর্ণ নম্রতা ও মৃদুতা সহকারে, দীর্ঘসহিষ্ণুতা সহকারে চল; প্রেমে পরস্পর ক্ষমাশীল হও,
তোমরা বচসা ও তর্কবিতর্ক বিনা সমস্ত কার্য্য কর,
আর ভ্রাতৃপ্রেম সম্বন্ধে তোমাদিগকে কিছু লেখা অনাবশ্যক, কারণ তোমরা আপনারা পরস্পর প্রেম করিবার জন্য ঈশ্বরের কাছে শিক্ষা পাইয়াছ;
সকলের সহিত শান্তির অনুধাবন কর, এবং যাহা ব্যতিরেকে কেহই প্রভুর দর্শন পাইবে না, সেই পবিত্রতার অনুধাবন কর; সাবধান হইয়া দেখ, পাছে কেহ ঈশ্বরের অনুগ্রহ হইতে বঞ্চিত হয়;
ভ্রাতৃপ্রেম স্থির থাকুক।
কিন্তু যে জ্ঞান উপর হইতে আইসে, তাহা প্রথমে শুচি, পরে শান্তিপ্রিয়, ক্ষান্ত, সহজে অনুনীত, দয়া ও উত্তম উত্তম ফলে পরিপূর্ণ, ভেদাভেদবিহীন ও নিষ্কপট।
তোমরা সত্যের আজ্ঞাবহতায় অকল্পিত ভ্রাতৃপ্রেমের নিমিত্ত আপন আপন প্রাণকে বিশুদ্ধ করিয়াছ বলিয়া অন্তঃকরণে পরস্পর একাগ্র ভাবে প্রেম কর;
সকলকে সমাদর কর, ভ্রাতৃসমাজকে প্রেম কর, ঈশ্বরকে ভয় কর, রাজাকে সমাদর কর।
অবশেষে বলি, তোমরা সকলে সমমনা, পরদুঃখে দুঃখিত, ভ্রাতৃপ্রেমিক; স্নেহবান্ ও নম্রমনা হও।
সর্ব্বাপেক্ষা পরস্পর একাগ্র ভাবে প্রেম কর; কেননা “প্রেম পাপরাশি আচ্ছাদন করে ।”
ও ভক্তিতে ভ্রাতৃস্নেহ, ও ভ্রাতৃস্নেহে প্রেম যোগাও।
যে বলে, আমি জ্যোতিতে আছি, আর আপন ভ্রাতাকে ঘৃণা করে, সে এখনও অন্ধকারে রহিয়াছে।
আমরা জানি যে, মৃত্যু হইতে জীবনে উত্তীর্ণ হইয়াছি, কারণ ভ্রাতৃগণকে প্রেম করি; যে কেহ প্রেম না করে, সে মৃত্যু মধ্যে থাকে।
প্রিয়তমেরা, আইস, আমরা পরস্পর প্রেম করি; কারণ প্রেম ঈশ্বরের; এবং যে কেহ প্রেম করে, সে ঈশ্বর হইতে জাত এবং ঈশ্বরকে জানে।
যদি কেহ বলে, আমি ঈশ্বরকে প্রেম করি, আর আপন ভ্রাতাকে ঘৃণা করে, সে মিথ্যাবাদী; কেননা যাহাকে দেখিয়াছে, আপনার সেই ভ্রাতাকে যে প্রেম না করে, সে যাঁহাকে দেখে নাই, সেই ঈশ্বরকে প্রেম করিতে পারে না।