পরে ঈশ্বর কহিলেন, রাত্রি হইতে দিবসকে বিভিন্ন করণার্থে আকাশমণ্ডলের বিতানে জ্যোতির্গণ হউক; সে সমস্ত চিহ্নের জন্য, ঋতুর জন্য এবং দিবসের ও বৎসরের জন্য হউক;
Cross references
যাবৎ পৃথিবী থাকিবে তাবৎ শস্য বপনের ও শস্য ছেদনের সময়, এবং শীত ও উত্তাপ, এবং গ্রীষ্মকাল ও হেমন্তকাল, এবং দিবা ও রাত্রি, এই সকলের নিবৃত্তি হইবে না।
অামি মেঘে আপন ধনু স্থাপন করি, তাহাই পৃথিবীর সহিত আমার নিয়মের চিহ্ন হইবে।
আর আকাশের প্রতি চক্ষু তুলিয়া সূর্য্য, চন্দ্র ও তারা, আকাশের সমস্ত বাহিনী দেখিলে, তোমার ঈশ্বর সদাপ্রভু যাহাদিগকে সমস্ত আকাশমণ্ডলের নীচে স্থিত সমস্ত জাতির জন্য বন্টন করিয়াছেন, পাছে ভ্রান্ত হইয়া তাহাদের কাছে প্রণিপাত কর ও তাহাদের সেবা কর।
তাহার সান্ধ্য নক্ষত্র সকল অন্ধকার হউক, সে যেন দীপ্তির অপেক্ষায় থাকিলেও দীপ্তি না পায়, সে যেন ঊষার চক্ষের পাতা দেখিতে না পায়।
তাঁহার সৈন্যদল কি গণনা করা যায়? তাঁহার দীপ্তি কাহার উপরে না উঠে?
দেখ, তাঁহার দৃষ্টিতে চন্দ্রও নিস্তেজ, তারাগণও নির্ম্মল নহে;
তুমি কি আজন্মকাল কখন প্রভাতকে আজ্ঞা দিয়াছ, অরুণকে তাহার উদয়-স্থান জানাইয়াছ;
তুমি কি মৃত্তিকা নক্ষত্রের হার গাঁথিতে পার? মৃগশীর্ষের কটিবন্ধ কি খুলিতে পার?
আমি তোমার অঙ্গুলি-নির্ম্মিত আকাশমণ্ডল, তোমার স্থাপিত চন্দ্র ও তারকামালা নিরীক্ষণ করি,
[বলি], মর্ত্ত্য কি যে, তুমি তাহাকে স্মরণ কর? মনুষ্য-সন্তান বা কি যে, তাহার তত্ত্বাবধান কর?
আকাশমণ্ডল ঈশ্বরের গৌরব বর্ণনা করে, বিতান তাঁহার হস্তকৃত কর্ম্ম জ্ঞাপন করে।
দিবস তোমার, রাত্রিও তোমার; তুমিই জ্যোতিষ্ক ও সূর্য্য রচনা করিয়াছ।
বাজাও তূরী অমাবস্যায়, বাজাও পূর্ণিমায়, আমাদের উৎসব দিনে।
তিনি ঋতুর জন্য চন্দ্র নির্ম্মাণ করিয়াছেন, সূর্য্য আপন অস্তগমনের সময় জানে।
অদ্যাপি তোমার শাসনানুসারে সকলই স্থির রহিয়াছে, কেননা সমস্তই তোমার দাস।
যিনি বৃহৎ জ্যোতির্গণ নির্ম্মাণ করিয়াছেন; —তাঁহার দয়া অনন্তকালস্থায়ী—
হে সূর্য্য ও চন্দ্র, তাঁহার প্রশংসা কর; হে দীপ্তিময় সমস্ত তারা, তাঁহার প্রশংসা কর।
তিনি চিরকালের জন্য তাহাদিগকে স্থাপন করিয়াছেন, তিনি এক বিধি দিয়াছেন, কেহ তাহা উল্লঙ্ঘন করিবে না।
ঊর্দ্ধদিকে চক্ষু তুলিয়া দেখ, ঐ সকলের সৃষ্টি কে করিয়াছে? তিনি বাহিনীর ন্যায় সংখ্যানুসারে তাহাদিগকে বাহির করিয়া আনেন, সকলের নাম ধরিয়া তাহাদিগকে আহ্বান করেন; তাঁহার সামর্থ্যের আধিক্য ও শক্তির প্রাবল্য প্রযুক্ত তাহাদের একটাও অনুপস্থিত থাকে না।
সদাপ্রভু এই কথা কহেন, তোমরা জাতিগণের ব্যবহার শিখিও না, আকাশের নানা চিহ্ন হইতে ভীত হইও না; বাস্তবিক জাতিগণই তাহা হইতে ভীত হয়।
যিনি দিনমানে জ্যোতির জন্য সূর্য্যকে, এবং রাত্রিকালে জ্যোতির জন্য চন্দ্রের ও নক্ষত্রগণের বিধিকলাপ দেন, যিনি সমুদ্রকে ব্যস্ত করিলে তাহার তরঙ্গ কল্লোলধ্বনি করে, সেই সদাপ্রভু এই কথা কহেন;
সদাপ্রভু কহেন, তোমরা যদি দিবস সম্বন্ধীয় আমার নিয়ম কিম্বা রাত্রি সম্বন্ধীয় আমার নিয়ম এরূপ ভঙ্গ করিতে পার যে, যথাসময়ে দিবস কি রাত্রি না হয়,
সদাপ্রভু এই কথা কহেন, যদি দিবস ও রাত্রি সম্বন্ধীয় আমার নিয়ম না থাকে, যদি আমি আকাশের ও পৃথিবীর বিধি সকল নিরূপণ না করিয়া থাকি,
তোমাকে নির্ব্বাণ করিবার সময়ে আমি আকাশ আচ্ছাদন করিব, তাহার নক্ষত্র সকল কৃষ্ণবর্ণ করিব; আমি সূর্য্যকে মেঘাচ্ছন্ন করিব, ও চন্দ্র জ্যোৎস্না দিবে না।
প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, অন্তঃপ্রাঙ্গণের পূর্ব্বাভিমুখ দ্বার কার্য্যের ছয় দিন বদ্ধ থাকিবে, কিন্তু বিশ্রামদিনে খোলা হইবে, এবং অমাবস্যার দিনেও খোলা হইবে।
আর অমাবস্যার দিনে একটী নির্দ্দোষ গোবৎস, এবং ছয়টী মেষশাবক ও একটী মেষ, ইহারাও নির্দ্দোষ হইবে।
তাহাদের সম্মুখে পৃথিবী কাঁপে, আকাশমণ্ডল কম্পমান হয়, চন্দ্র ও সূর্য্য অন্ধকারময় হয়, নক্ষত্রগণ আপন আপন তেজ গুটাইয়া লয়।
আর আমি আকাশে ও পৃথিবীতে অদ্ভুদ লক্ষণ দেখাইব,— রক্ত, অগ্নি ও ধূমস্তম্ভ দেখাইব।
সূর্য্য ও চন্দ্র অন্ধকার হইতেছে, নক্ষত্রগণ আপন আপন তেজ গুটাইয়া লইতেছে।
[তাঁহার অন্বেষণ কর,] যিনি কৃত্তিকা ও মৃগশীর্ষ নির্ম্মাণ করিয়াছেন, যিনি মৃত্যুচ্ছায়াকে প্রভাতে পরিণত করেন, যিনি দিনকে রাত্রির ন্যায় অন্ধকারময় করেন, যিনি সমুদ্রের জলসমূহকে আহ্বান করিয়া স্থলের উপর দিয়া বহান; তাঁহার নাম সদাপ্রভু।
প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, সেই দিন আমি মধ্যাহ্নকালে সূর্য্যকে অস্তগত করিব, এবং দীপ্তির দিনে দেশকে অন্ধকারময় করিব।
যিহূদীদের যে রাজা জন্মিয়াছেন, তিনি কোথায়? কারণ আমরা পূর্ব্বদেশে তাঁহার তারা দেখিয়াছি, ও তাঁহাকে প্রণাম করিতে আসিয়াছি।
কিন্তু তিনি উত্তর করিয়া তাহাদিগকে কহিলেন, সন্ধ্যা হইলে তোমরা বলিয়া থাক, পরিষ্কার দিন হইবে, কারণ আকাশ লাল হইয়াছে।
আর সেই সময়ের ক্লেশের পরেই “সূর্য্য অন্ধকার হইবে, চন্দ্র জ্যোৎস্না দিবে না, আকাশ হইতে তারাগণের পতন হইবে ও আকাশমণ্ডলের পরাক্রম সকল বিচলিত হইবে”।
আর সেই সময়ে, সেই ক্লেশের পরে, সূর্য্য অন্ধকার হইবে, চন্দ্র জ্যোৎস্না দিবে না,
আর সূর্য্যে, চন্দ্রে ও নক্ষত্রগণে নানা চিহ্ন প্রকাশ পাইবে, এবং পৃথিবীতে জাতিগণের ক্লেশ হইবে, তাহারা সমুদ্রের ও তরঙ্গের গর্জ্জনে উদ্বিগ্ন হইবে।
সূর্য্যের আলো রহিল না, আর মন্দিরের তিরস্করিণী মাঝামাঝি চিরিয়া গেল।
আমি উপরে আকাশে নানা অদ্ভুত লক্ষণ এবং নীচে পৃথিবীতে নানা চিহ্ন রক্ত, অগ্নি ও ধূম-বাষ্প দেখাইব।
পরে আমি দেখিলাম, তিনি যখন ষষ্ঠ মুদ্রা খুলিলেন, তখন মহাভূমিকম্প হইল; এবং সূর্য্য লোমজাত কম্বলের ন্যায় কৃষ্ণবর্ণ ও পূর্ণচন্দ্র রক্তের ন্যায় হইল;
পরে চতুর্থ দূত তূরী বাজাইলেন, আর সূর্য্যের তৃতীয় অংশ ও চন্দ্রের তৃতীয় অংশ ও তারাগণের তৃতীয় অংশ আহত হইল, যেন প্রত্যেকের তৃতীয় অংশ অন্ধকারময় হয়, এবং দিবসের তৃতীয় ভাগ আলোকরহিত হয়, আর রাত্রিও তদ্রূপ হয়।