কেননা সে রাজা হইবার জন্য কারাগার হইতে নির্গত হইয়াছিল; এমন কি, তাহার রাজ্যেও সে দীনাবস্থায় জন্মিয়াছিল।
Cross references
তখন ফরৌণ যোষেফকে ডাকিয়া পাঠাইলে লোকেরা কারাকূপ হইতে তাঁহাকে শীঘ্র আনিল। পরে তিনি ক্ষৌরী হইয়া অন্য বস্ত্র পরিধান করিয়া ফরৌণের নিকটে উপস্থিত হইলেন।
অতএব এখন ফরৌণ এক জন সুবুদ্ধি ও জ্ঞানবান্ পুরুষের চেষ্টা করিয়া তাঁহাকে মিসর দেশের উপরে নিযুক্ত করুন।
ফরৌণ যোষেফকে আরও কহিলেন, দেখ, আমি তোমাকে সমস্ত মিসর দেশের উপরে নিযুক্ত করিলাম।
আর তাঁহাকে আপনার দ্বিতীয় রথে আরোহণ করাইলেন এবং লোকেরা তাঁহার অগ্রে অগ্রে ‘হাঁটু পাত, হাঁটু পাত’ বলিয়া ঘোষণা করিল। এইরূপে তিনি সমস্ত মিসর দেশের অধ্যক্ষপদে নিযুক্ত হইলেন।
তিনি ধূলি হইতে দীনহীনকে তুলেন, সারের ঢিবি হইতে দরিদ্রকে উঠান, কুলীনদের সঙ্গে বসাইয়া দেন, প্রতাপ-সিংহাসনের অধিকারী করেন। কেননা পৃথিবীর স্তম্ভ সকল সদাপ্রভুর; তিনি সেই সকলের উপরে জগৎ স্থাপন করিয়াছেন।
তিনি সদাপ্রভুর গৃহের ধন ও রাজবাটীর ধন লইয়া গেলেন; তিনি সমস্তই লইয়া গেলেন, আর শলোমনের নির্ম্মিত স্বর্ণময় ঢাল সকলও লইয়া গেলেন।
যিহোয়াহস তেইশ বৎসর বয়সে রাজত্ব করিতে আরম্ভ করেন, এবং যিরূশালেমে তিন মাস রাজত্ব করেন; তাঁহার মাতার নাম হমূটল, তিনি লিব্না-নিবাসী যিরমিয়ের কন্যা।
তাঁহার সময়ে বাবিল-রাজ নবূখদ্নিৎসর আসিলেন; যিহোয়াকীম তিন বৎসর যাবৎ তাঁহার দাস ছিলেন, পরে তিনি ফিরিলেন, ও তাঁহার বিদ্রোহী হইলেন।
পরে যিহোয়াকীম আপন পিতৃলোকদের সহিত নিদ্রাগত হইলেন, এবং তাঁহার পুত্র যিহোয়াখীন তাঁহার পদে রাজা হইলেন।
পরে যিহূদা-রাজ যিহোয়াখীন, তাঁহার মাতা, দাসগণ, প্রধানবর্গ ও কর্ম্মচারিগণ বাবিল-রাজের নিকটে বাহিরে গেলেন; আর বাবিল-রাজ আপন রাজত্বের অষ্টম বৎসরে তাঁহাকে ধরিলেন।
তাহারা সিদিকিয়ের সাক্ষাতেই তাঁহার পুত্রগণকে বধ করিল, এবং সিদিকিয়ের চক্ষু উৎপাটন করিল ও তাঁহাকে শৃঙ্খলে বদ্ধ করিয়া বাবিলে লইয়া গেল।
পরে যিহূদা-রাজ যিহোয়াখীনের বন্দিত্বের সাঁইত্রিশ বৎসরে, দ্বাদশ মাসে, মাসের সাতাশ দিবসে, বাবিল-রাজ ইবিল-মরোদক যে বৎসরে রাজত্ব করিতে আরম্ভ করেন, সেই বৎসরে তিনি যিহূদা-রাজ যিহোয়াখীনের মস্তক কারাগার হইতে উঠাইলেন।
তিনি নীচ লোকদিগকে উচ্চ করেন, শোকার্ত্তেরা ত্রাণ দ্বারা উন্নত হয়।
তিনি ধূলি হইতে দীনহীনকে তুলেন, সারের ঢিবি হইতে দরিদ্রকে উঠান;
যিনি আমাদের নাসিকায় বায়ুস্বরূপ, সদাপ্রভুর অভিষিক্ত, তিনি তাহাদের গর্ত্তে ধৃত হইলেন, যাঁহার বিষয়ে বলিয়াছিলাম, আমরা তাঁহার ছায়ায় জাতিগণের মধ্যে জীবন যাপন করিব।
রাজার মুখ হইতে এই বাক্য নির্গত হইতে না হইতে এই আকাশবাণী হইল, হে রাজন্ নবূখদ্নিৎসর! তোমাকে বলা হইতেছে, তোমার রাজত্ব তোমা হইতে গেল।