জ্ঞানবানের মস্তকেই চক্ষু থাকে; কিন্তু হীনবুদ্ধি অন্ধকারে ভ্রমণ করে; তথাপি আমি জানিলাম যে, সকলেরই এক দশা ঘটে।
Cross references
তাহা স্বর্ণ ও প্রচুর কাঞ্চন অপেক্ষা বাঞ্ছনীয়, মধু ও মৌচাকের রস হইতেও সুস্বাদু।
কারণ সে দেখে যে, জ্ঞানবানেরা মরে, হীনবুদ্ধি ও পশুবৎ লোক নির্ব্বিশেষে বিনষ্ট হয়, তাহারা অন্যদের জন্য আপনাদের ধন রাখিয়া যায়।
তাহাদের আন্তরিক ভাব এই, তাহাদের বাটী চিরস্থায়ী, তাহাদের বাসস্থান পুরুষানুক্রমে থাকিবে, তাহারা স্ব স্ব নামানুসারে ভূমির নাম রাখে।
নিজ পথ বুঝিয়া লওয়া সতর্কের প্রজ্ঞা, কিন্তু হীনবুদ্ধিদের অজ্ঞানতা ছলমাত্র।
বুদ্ধিমানের সম্মুখেই প্রজ্ঞা থাকে; কিন্তু হীনবুদ্ধির দৃষ্টি পৃথিবীর অন্তে যায়।
কেননা মনুষ্য-সন্তানদের প্রতি যাহা ঘটে, তাহা পশুর প্রতিও ঘটে, সকলেরই প্রতি একরূপ ঘটনা ঘটে; এ যেমন মরে, সে তেমনি মরে; এবং তাহাদের সকলেরই নিঃশ্বাস এক; পশু হইতে মানুষের কিছু প্রাধান্য নাই, কেননা সকলই অসার।
সে যদ্যপি দ্বিসহস্র বৎসর জীবিত থাকে, এবং কিছু মঙ্গল ভোগ না করে, [তবে কি?] সকলই কি এক স্থানে যায় না?
বস্তুতঃ হীনবুদ্ধি অপেক্ষা জ্ঞানবানের কি উৎকর্ষ? আর জীবিতদের সাক্ষাতে চলিতে জানে এমন দুঃখী লোকেরই বা কি উৎকর্ষ?
ভোজের গৃহে যাওয়া অপেক্ষা বিলাপ-গৃহে যাওয়া ভাল, কেননা তাহা সকল মনুষ্যের শেষগতি, এবং জীবিত লোক তাহাতে মনোনিবেশ করিবে।
জ্ঞানবানের তুল্য কে? কে বাক্যের ভাবার্থ জানে? মানুষের প্রজ্ঞা তাহার মুখ উজ্জ্বল করে, এবং তাহার মুখের কঠিনতা পরিবর্ত্তন হয়।
বস্তুতঃ আমি এই সমস্ত বিষয় অনুসন্ধান করিবার জন্য এই সমস্ত বিষয়ে মনোনিবেশ করিলাম; ধার্ম্মিক ও জ্ঞানবান লোকেরা এবং তাহাদের কার্য্য সকল ঈশ্বরের হস্তগত; প্রেম কি ঘৃণা, তাহা মনুষ্য জানে না; সমস্তই তাহাদের সম্মুখে।
সকলের প্রতি নির্ব্বিশেষে সকলই ঘটে; ধার্ম্মিক কি দুষ্ট, এবং ভাল ও শুচি কি অশুচি, এবং যজ্ঞকারী কি অযজ্ঞকারী, সকলের প্রতি একরূপ ঘটনা হয়; ভাল যেমন, পাপীও তেমনি, এবং শপথকারী যেমন, শপথে ভয়কারীও তেমনি।
সূর্য্যের নীচে যত কার্য্য করা যায়, তাহার মধ্যে ইহা দুঃখের বিষয় যে, সকলের প্রতি একরূপ ঘটনা হয়; অধিকন্তু মনুষ্য-সন্তানদের অন্তঃকরণ দুষ্টতায় পরিপূর্ণ, এবং যাবজ্জীবন ক্ষিপ্ততা তাহাদের হৃদয়মধ্যে থাকে, পরে তাহারা মৃতদের নিকটে যায়। কারণ কে অব্যাহতি পায়?
আমি ফিরিলাম, ও সূর্য্যের নীচে দেখিলাম যে, দ্রুতগামীদের দ্রুতগমন, কি বীরদের যুদ্ধ, কি জ্ঞানবানদের অন্ন, কি বুদ্ধিমানদের ধন, কি বিজ্ঞদেরই অনুগ্রহলাভ হয়, এমন নয়, কিন্তু সকলের প্রতি কাল ও দৈব ঘটে।
তখন আমি কহিলাম, পরাক্রম হইতে প্রজ্ঞা উত্তম, তথাপি দরিদ্রের প্রজ্ঞাকে তুচ্ছ করা হয়, ও তাহার কথা কেহ শুনে না।
জ্ঞানবানের হৃদয় তাহার দক্ষিণে, কিন্তু হীনবুদ্ধির হৃদয় তাহার বামে থাকে।
কিন্তু যে আপন ভ্রাতাকে ঘৃণা করে, সে অন্ধকারে আছে, এবং অন্ধকারে চলে, আর কোথায় যায় তাহা জানে না, কারণ অন্ধকার তাহার চক্ষু অন্ধ করিয়াছে।