তুমি বহু বীজ বহিয়া ক্ষেত্রে লইয়া যাইবে, কিন্তু অল্প সংগ্রহ করিবে; কেননা পঙ্গপাল তাহা বিনষ্ট করিবে।
Cross references
তাহাতে সমুদয় মিসর দেশের উপরে পঙ্গপাল ব্যাপ্ত হইল; ও মিসরের সমস্ত সীমাতে পঙ্গপাল পড়িল। তাহা অত্যন্ত ভয়ানক হইল, তদ্রূপ পঙ্গপাল পূর্ব্বে কখনও হয় নাই, এবং পরেও কখনও হইবে না। তাহারা সমস্ত ভূমিতল আচ্ছন্ন করিল,
কারণ দশ বিঘা দ্রাক্ষাক্ষেত্রে এক বাৎ দ্রাক্ষারস উৎপন্ন হইবে, ও এক হোমর বীজে এক ঐফা মাত্র শস্য উৎপন্ন হইবে।
শূককীটে যাহা রাখিয়া গিয়াছে, তাহা পঙ্গপালে খাইয়াছে; পঙ্গপালে যাহা রাখিয়া গিয়াছে, তাহা পতঙ্গে খাইয়াছে; পতঙ্গে যাহা রাখিয়া গিয়াছে, তাহা ঘুর্ঘুরিয়াতে খাইয়াছে।
তাহাদের অগ্রে অগ্নি গ্রাস করে, পশ্চাতে বহ্নি-শিখা জ্বলে; তাহাদের অগ্রে দেশ যেন এদনের উদ্যান, তাহাদের পশ্চাতে ধ্বংসিত প্রান্তর, তাহা হইতে রক্ষাপ্রাপ্ত কিছুই নাই।
আর পঙ্গপাল, পতঙ্গ, ঘুর্ঘুরিয়া ও শূককীট— আমি যে নিজ মহাসৈন্য তোমাদের কাছে পাঠাইয়াছি, তাহারা— যে যে বৎসরের শস্যাদি খাইয়াছে, আমি তাহা পরিশোধ করিয়া তোমাদিগকে দিব।
ইহা সদাপ্রভু বলেন। আমি শস্যের শোষ ও ম্লানি দ্বারা তোমাদিগকে আঘাত করিলাম; শূককীট তোমাদের বহুসংখ্য উদ্যান, তোমাদের দ্রাক্ষাক্ষেত্র, তোমাদের ডুমুরবৃক্ষ ও জিতবৃক্ষ খাইয়া ফেলিল; তথাপি তোমরা আমার কাছে ফিরিয়া আসিলে না,
প্রভু সদাপ্রভু আমাকে এইরূপ দেখাইলেন, দেখ, পশ্চাজ্জাত তৃণের অঙ্কুরারম্ভে তিনি পঙ্গপালদিগকে গঠন করিলেন; আর দেখ, রাজার তৃণ কাটিবার পরে সেই তৃণ উৎপন্ন হইতেছিল।
বীজ বুনিয়াও তুমি শস্য কাটিতে পাইবে না, জিতফল পেষণ করিয়াও গাত্রে তৈল লেপন করিতে পাইবে না, এবং দ্রাক্ষা নিষ্পীড়ন করিয়াও দ্রাক্ষারস পান করিতে পাইবে না।
তোমরা অনেক বীজ বপন করিয়াও অল্প সঞ্চয় করিতেছ, আহার করিয়াও তৃপ্ত হইতেছ না, পান করিয়াও আপ্যায়িত হইতেছ না, পরিচ্ছদ পরিয়াও উষ্ণ হইতেছ না, এবং বেতনজীবী লোক ছেঁড়া থলিতে বেতন রাখে।
তোমরা বাহুল্যের অপেক্ষা করিয়াছিলে, আর দেখ, অল্প পাইলে; এবং যাহা গৃহে আনিয়াছিলে, তাহার উপরে আমি ফুঁ দিলাম। বাহিনীগণের সদাপ্রভু কহেন, ইহার কারণ কি? কারণ এই যে, আমার গৃহ উৎসন্ন রহিয়াছে, তথাপি তোমরা প্রত্যেক জন আপন আপন গৃহে দৌড়িয়া যাইতেছ।