ভ্রাতারা ও পিতারা, আমি এক্ষণে আপনাদের কাছে আত্মপক্ষ সমর্থন করিতেছি, শ্রবণ করুন।
Cross references
আর লোকে যখন তোমাদিগকে সমাজ-গৃহে এবং শাসনকর্ত্তাদের ও কর্ত্তৃপক্ষদের সম্মুখে লইয়া যাইবে, তখন কিরূপে কি উত্তর দিবে, অথবা কি বলিবে, সে বিষয়ে ভাবিত হইও না;
অতএব মনে মনে স্থির করিও যে, কি উত্তর দিতে হইবে, তাহার নিমিত্ত অগ্রে চিন্তা করিবে না।
হে ভ্রাতারা ও পিতারা, শুনুন। আমাদের পিতা অব্রাহাম হারণে বসতি করিবার পূর্ব্বে যে সময়ে মিসপতামিয়ায় ছিলেন, তৎকালে প্রতাপের ঈশ্বর তাঁহাকে দর্শন দিয়াছিলেন, আর বলিয়াছিলেন,
হে ভ্রাতৃগণ, অব্রাহাম-বংশের সন্তানগণ, ও তোমরা যত লোক ঈশ্বরকে ভয় কর, আমাদেরই নিকট এই পরিত্রাণের বাক্য প্রেরিত হইয়াছে।
তখন যিহূদীরা আলেক্সান্দারকে সম্মুখে উপস্থিত করায় লোকেরা জনতার মধ্য হইতে তাহাকে বাহির করিল; তাহাতে আলেক্সান্দার হস্ত দ্বারা ইঙ্গিত করিয়া লোকসমূহের কাছে পক্ষসমর্থন করিতে উদ্যত হইল।
আর পৌল মহাসভার দিকে একদৃষ্টে চাহিয়া কহিলেন, হে ভ্রাতৃগণ, অদ্য পর্য্যন্ত আমি সর্ব্ববিষয়ে সৎসংবেদে ঈশ্বরের প্রজারূপে আচরণ করিয়া আসিতেছি।
কিন্তু পৌল যখন বুঝিতে পারিলেন যে, তাহাদের একাংশ সদ্দূকী ও একাংশ ফরীশী, তখন মহাসভার মধ্যে উচ্চৈঃস্বরে কহিলেন, হে ভ্রাতৃগণ, আমি ফরীশী এবং ফরীশীদের সন্তান; মৃতদের প্রত্যাশা ও পুনরুত্থান সম্বন্ধে আমার বিচার হইতেছে।
পরে দেশাধ্যক্ষ পৌলকে কথা বলিবার জন্য ইঙ্গিত করিলে তিনি এই উত্তর করিলেন, আপনি অনেক বৎসর অবধি এই জাতির বিচার করিয়া আসিতেছেন, ইহা জানাতে আমি স্বচ্ছন্দে আত্মপক্ষ সমর্থন করিতেছি।
এদিকে পৌল আপনার পক্ষ সমর্থন করিয়া বলিলেন, যিহূদীদের ব্যবস্থার বিরুদ্ধে, ধর্ম্মধামের বিরুদ্ধে, কিম্বা কৈসরের বিরুদ্ধে আমি কোন অপরাধ করি নাই।
আমি তাহাদিগকে এই উত্তর দিয়াছিলাম, যাহার নামে দোষারোপ হয়, সে যাবৎ দোষারোপকারীদের সহিত সম্মুখাসম্মুখি না হয়, এবং আরোপিত দোষ সম্বন্ধে আত্মপক্ষ সমর্থনের অবসর না পায়, তাবৎ কোন ব্যক্তিকে সমর্পণ করা রোমীয়দের প্রথা নয়।
পরে আগ্রিপ্প পৌলকে কহিলেন, তোমার পক্ষে যাহা বলিবার আছে, তোমাকে বলিতে অনুমতি দেওয়া যাইতেছে। তখন পৌল হস্ত বিস্তার করিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করিতে লাগিলেন—
এইরূপে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করিতেছেন, এমন সময়ে ফীষ্ট উচ্চ রবে কহিলেন, পৌল, তুমি পাগল; বহু বিদ্যাভ্যাস তোমাকে পাগল করিয়া তুলিতেছে।
আর তিন দিনের পর তিনি যিহূদীদের প্রধান প্রধান লোককে ডাকাইয়া একত্র করিলেন; এবং তাঁহারা সমাগত হইলে তিনি তাঁহাদিগকে বলিলেন, হে ভ্রাতৃগণ, আমি যদিও স্বজাতীয়দের কিম্বা পৈতৃক রীতিনীতির বিরুদ্ধে কিছুই করি নাই, তথাপি যিরূশালেম হইতে প্রেরিত বন্দিরূপে রোমীয়দের হস্তে সমর্পিত হইয়াছিলাম।
যেহেতুক তাহারা ব্যবস্থার কার্য্য আপন আপন হৃদয়ে লিখিত বলিয়া দেখায়, তাহাদের সংবেদও সঙ্গে সঙ্গে সাক্ষ্য দেয়, এবং তাহাদের নানা বিতর্ক পরস্পর হয় তাহাদিগকে দোষী করে, না হয় তাহাদের পক্ষ সমর্থন করে—
যাহারা আমার পরীক্ষা করে, তাহাদের কাছে আমার উত্তর এই।
কারণ দেখ, এই বিষয়টী, অর্থাৎ ঈশ্বরের মতানুযায়ী যে মনোদুঃখ তোমাদের হইয়াছে, তাহা তোমাদের পক্ষে কত যত্ন সাধন করিয়াছে! আর কেমন দোষপ্রক্ষালন, আর কেমন বিরক্তি, আর কেমন ভয়, আর কেমন অনুরাগ, আর কেমন উদ্যোগ, আর কেমন প্রতীকার! সর্ব্ববিষয়ে তোমরা আপনাদিগকে ঐ ব্যাপারে শুদ্ধ দেখাইয়াছ।
এ যাবৎ তোমরা মনে করিতেছ যে, আমরা তোমাদেরই নিকটে দোষ কাটাইবার কথা কহিতেছি। আমরা ঈশ্বরেরই সাক্ষাতে খ্রীষ্টে কথা কহিতেছি; আর, প্রিয়তমেরা, সকলই তোমাদিগকে গাঁথিয়া তুলিবার নিমিত্ত কহিতেছি।
আর তোমাদের সকলের বিষয়ে আমার এই ভাব রাখা ন্যায্য; কেননা আমি তোমাদিগকে হৃদয়ের মধ্যে রাখি; যেহেতুক আমার বন্ধন সম্বন্ধে এবং সুসমাচারের পক্ষসমর্থনে ও প্রতিপাদন সম্বন্ধে তোমরা সকলে আমার সহিত অনুগ্রহের সহভাগী হইয়াছ।
কিন্তু উহারা প্রতিযোগিতা বশতঃ খ্রীষ্টকে প্রচার করিতেছে, বিশুদ্ধ ভাবে নয়, আমার বন্ধন ক্লেশযুক্ত করিবে মনে করিতেছে।
আমার প্রথম বার আত্মপক্ষসমর্থন কালে কেহ আমার পক্ষে উপস্থিত হইল না; সকলে আমাকে পরিত্যাগ করিল; ইহা তাহাদের প্রতি গণিত না হউক।
যে কেহ তোমাদের অন্তরস্থ প্রত্যাশার হেতু জিজ্ঞাসা করে, তাহাকে উত্তর দিতে সর্ব্বদা প্রস্তুত থাক। কিন্তু মৃদুতা ও ভয় সহকারে উত্তর দিও,