তোমরা এই সত্তর বৎসর কাল পঞ্চম ও সপ্তম মাসে যখন উপবাস ও বিলাপ করিয়াছ, তখন তাহা কি আমার, আমারই উদ্দেশে করিয়াছ?
Cross references
পরে বাবিল-রাজ গদলিয়কে শাসনকর্ত্তা করিয়াছেন, এই কথা শুনিয়া সেনাপতিগণ ও তাঁহাদের লোকেরা, অর্থাৎ নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল, কারেয়ের পুত্র যোহানন, নটোফাতীয় তন্হূমতের পুত্র সরায়, ও মাখাথীয়ের পুত্র যাসনিয় এবং তাঁহাদের লোকেরা মিস্পাতে গদলিয়ের নিকটে আসিলেন।
কিন্তু সপ্তম মাসে রাজবংশজাত ইলীশামার পৌত্র নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল ও তাঁহার সঙ্গী দশ জন আসিলেন, আর গদলিয়কে এবং যে যিহূদীরা ও কল্দীয়েরা তাঁহার সহিত মিস্পাতে ছিল, তাহাদিগকে আঘাত করিয়া বধ করিলেন।
সদাপ্রভু কহিতেছেন, তোমাদের বলিদানবাহুল্যে আমার প্রয়োজন কি? মেষের, হোমবলিতে ও পুষ্ট পশুর মেদে আমার আর রুচি নাই; বৃষের কি মেষের, কি ছাগের রক্তে আমার কিছু সন্তোষ নাই।
[আর বলে,] ‘আমরা উপবাস করিয়াছি, তুমি কেন দৃষ্টি কর না? আমরা আপন আপন প্রাণকে দুঃখ দিয়াছি, তুমি কেন তাহা জান না?’ দেখ, তোমাদের উপবাস-দিনে তোমরা সুখের চেষ্টা ও আপন আপন কর্ম্মচারীদের প্রতি দৌরাত্ম্য করিয়া থাক;
দেখ, তোমরা বিবাদ ও কলহের জন্য, এবং দুষ্টতার মুষ্টি দ্বারা আঘাত করিবার জন্য উপবাস করিয়া থাক; অদ্যকার ন্যায় উপবাস করিলে তোমরা ঊর্দ্ধলোকে আপনাদের রব শুনাইতে পারিবে না।
তাহাতে এই সমগ্র দেশ উৎসন্ন স্থান ও বিস্ময়ের বিষয় হইবে; এবং এই জাতিগণ সত্তর বৎসর বাবিল-রাজের দাসত্ব করিবে।
ইলীশামার পৌত্র নথনিয়ের পুত্র ইশ্মায়েল রাজার প্রধান কর্ম্মচারীদের মধ্যে গণিত রাজবংশীয় ছিল; সপ্তম মাসে সে দশ জন পুরুষকে সঙ্গে লইয়া মিস্পাতে অহীকামের পুত্র গদলিয়ের নিকটে আসিল; আর তাহারা মিস্পাতে একত্র ভোজন করিল।
তখন সদাপ্রভুর দূত কহিলেন, হে বাহিনীগণের সদাপ্রভু, তুমি এই সত্তর বৎসর যাহাদের উপরে ক্রোধাবিষ্ট রহিয়াছ, সেই যিরূশালেমের প্রতি, ও যিহূদার নগর সকলের প্রতি করুণা করিতে কতকাল বিলম্ব করিবে?
বাহিনীগণের সদাপ্রভুর গৃহের যাজকদিগকে এবং ভাববাদিগণকে জিজ্ঞাসা করিতে পাঠাইল যে, আমি এত বৎসর যেরূপ করিতেছি, তদ্রূপ পঞ্চম মাসে আপনাকে পৃথক্ করিয়া কি বিলাপ করিব?
আর যখন ভোজন কর ও পান কর, তখন কি আপনারাই ভোজন ও আপনারাই পান কর না?
বাহিনীগণের সদাপ্রভু এই কথা কহেন, চতুর্থ, পঞ্চম, সপ্তম ও দশম মাসের যে সকল উপবাস, সে সকল যিহূদা-কুলের জন্য আনন্দ, আমোদ এবং মঙ্গলোৎসব হইয়া উঠিবে; অতএব তোমরা সত্য ও শান্তি ভালবাসিও।
তদ্রূপ তোমাদের দীপ্তি মনুষ্যদের সাক্ষাতে উজ্জ্বল হউক, যেন তাহারা তোমাদের সৎক্রিয়া দেখিয়া তোমাদের স্বর্গস্থ পিতার গৌরব করে।
অতএব তুমি যখন দান কর, তখন তোমার সম্মুখে তূরী বাজাইও না, যেমন কপটীরা লোকের কাছে গৌরব পাইবার জন্য সমাজ-গৃহে ও পথে করিয়া থাকে; আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তাহারা আপনাদের পুরস্কার পাইয়াছে।
আর তোমরা যখন প্রার্থনা কর, তখন কপটীদের ন্যায় হইও না; কারণ তাহারা সমাজ-গৃহে ও পথের কোণে দাঁড়াইয়া লোক-দেখান প্রার্থনা করিতে ভাল বাসে; আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তাহারা আপনাদের পুরস্কার পাইয়াছে।
আর তোমরা যখন উপবাস কর, তখন কপটীদের ন্যায় বিষণ্ণ-বদন হইও না; কেননা তাহারা লোককে উপবাস দেখাইবার নিমিত্ত আপনাদের মুখ মলিন করে; আমি তোমাদিগকে সত্য বলিতেছি, তাহারা আপনাদের পুরস্কার পাইয়াছে।
তাহারা লোককে দেখাইবার জন্যই তাহাদের সমস্ত কর্ম্ম করে; কেননা তাহারা আপনাদের কবচ প্রশস্ত করে, এবং বস্ত্রের থোপ বড় করে,
দিন যে মানে, সে প্রভুর উদ্দেশেই মানে; আর যে ভোজন করে, সে প্রভুর উদ্দেশেই ভোজন করে, কেননা সে ঈশ্বরের ধন্যবাদ করে; এবং যে ভোজন করে না, সেও প্রভুর উদ্দেশেই ভোজন করে না, এবং ঈশ্বরের ধন্যবাদ করে।
কারণ ঈশ্বরের রাজ্য ভোজন পান নয়, কিন্তু ধার্ম্মিকতা, শান্তি এবং পবিত্র আত্মাতে আনন্দ।
অতএব তোমরা ভোজন, কি পান, কি যাহা কিছু কর, সকলই ঈশ্বরের গৌরবার্থে কর।
আর তিনি সকলের জন্য মরিলেন, যেন, যাহারা জীবিত আছে, তাহারা আর আপনাদের উদ্দেশে নয়, কিন্তু তাঁহারই উদ্দেশে জীবন ধারণ করে, যিনি তাহাদের জন্য মরিয়াছিলেন, ও উত্থাপিত হইলেন।
যাহা কিছু কর, প্রাণের সহিত কার্য্য কর, মনুষ্যের কর্ম্ম নয়, কিন্তু প্রভুরই কর্ম্ম বলিয়া কর;