আর, হে আমার ভ্রাতৃগণ, আমি আপনিও তোমাদের বিষয়ে নিশ্চয় বুঝিতেছি যে, তোমরা আপনারা মঙ্গলভাবে পূর্ণ, সমুদয় জ্ঞানে পরিপূর্ণ, পরস্পরকে চেতনাপ্রদানেও সমর্থ।
Cross references
কেননা তাঁহাতেই তোমরা সর্ব্ববিষয়ে, সর্ব্ববিধ বাক্যে ও সর্ব্ববিধ জ্ঞানে ধনবান্ হইয়াছ,
আর প্রতিমার কাছে উৎসৃষ্ট বলির বিষয়;—আমরা জানি যে, আমাদের সকলের জ্ঞান আছে। জ্ঞান গর্ব্বিত করে, কিন্তু প্রেমই গাঁথিয়া তুলে।
তবে কিনা সকলের এ জ্ঞান নাই; কিন্তু কতক লোক অদ্যাপি প্রতিমার সংস্রবে থাকায় প্রতিমার কাছে উৎসৃষ্ট বলি জ্ঞানেই বলি ভোজন করে; এবং তাহাদের সংবেদ দুর্ব্বল বলিয়া কলুষিত হয়।
কারণ, তোমার ত জ্ঞান আছে, তোমাকে যদি কেহ দেবালয়ে ভোজনে বসিতে দেখে, তবে সে দুর্ব্বল লোক বলিয়া তাহার সংবেদ কি প্রতিমার কাছে উৎসৃষ্ট বলি ভোজন করিতে সাহস পাইবে না?
কারণ এক জনকে সেই আত্মা দ্বারা প্রজ্ঞার বাক্য দত্ত হয়, আর এক জনকে সেই আত্মানুসারে জ্ঞানের বাক্য,
আর যদি ভাববাণী প্রাপ্ত হই, এ সমস্ত নিগূঢ়তত্ত্বে ও সমস্ত জ্ঞানে পারদর্শী হই, এবং যদি আমার সম্পূর্ণ বিশ্বাস থাকে যাহাতে আমি পর্ব্বত স্থানান্তর করিতে পারি, কিন্তু আমার প্রেম না থাকে, তবে আমি কিছুই নহি।
—কেননা সর্ব্বপ্রকার মঙ্গলভাবে, ধার্ম্মিকতায় ও সত্যে দীপ্তির ফল হয়—
আর তোমাদের সকলের বিষয়ে আমার এই ভাব রাখা ন্যায্য; কেননা আমি তোমাদিগকে হৃদয়ের মধ্যে রাখি; যেহেতুক আমার বন্ধন সম্বন্ধে এবং সুসমাচারের পক্ষসমর্থনে ও প্রতিপাদন সম্বন্ধে তোমরা সকলে আমার সহিত অনুগ্রহের সহভাগী হইয়াছ।
যেন ধার্ম্মিকতার সেই ফলে পূর্ণ হও, যাহা যীশু খ্রীষ্ট দ্বারা পাওয়া যায়, এইরূপে যেন ঈশ্বরের গৌরব ও প্রশংসা হয়।
আত্মাতে তোমাদের প্রেমের বিষয়ও তিনি আমাদিগকে জ্ঞাত করিয়াছেন।
খ্রীষ্টের বাক্য প্রচুররূপে তোমাদের অন্তরে বাস করুক; তোমরা সমস্ত বিজ্ঞতায় গীত, স্ত্রোত্র ও আত্মিক সঙ্কীর্ত্তন দ্বারা পরস্পর শিক্ষা ও চেতনা দান কর; অনুগ্রহে আপন আপন হৃদয়ে ঈশ্বরের উদ্দেশে গান কর।
অতএব যেমন তোমরা করিয়াও থাক, তেমনি তোমরা পরস্পরকে আশ্বাস দেও, এবং এক জন অন্যকে গাঁথিয়া তুল।
আপনাদের মধ্যে ঐক্য রাখ। আর, হে ভ্রাতৃগণ, আমরা তোমাদিগকে বিনয় করিতেছি, যাহারা অনিয়মিতরূপে চলে, তাহাদিগকে চেতনা দেও, ক্ষীণসাহসদিগকে সান্ত্বনা কর, দুর্ব্বলদিগের সাহায্য কর, সকলের প্রতি দীর্ঘসহিষ্ণু হও।
তোমার অন্তরস্থ অকল্পিত বিশ্বাসের কথা স্মরণ করিতেছি, যাহা অগ্রে তোমার মাতামহী লোয়ীর ও তোমার মাতা উনীকীর অন্তরে বাস করিত, এবং আমার নিশ্চয় বোধ হয়, তোমার অন্তরেও বাস করিতেছে।
সেইরূপে প্রাচীনাদিগকে বল, যেন তাঁহারা আচার ব্যবহারে ভয়শীলা হন, অপবাদিকা কি বহুমদ্যের দাসী না হন, সুশিক্ষাদায়িনী হন;
তোমার আজ্ঞাবহতায় দৃঢ় বিশ্বাস আছে বলিয়া তোমাকে লিখিলাম; যাহা বলিলাম, তুমি তদপেক্ষাও অধিক করিবে, ইহা জানি।
বস্তুতঃ এত কালের মধ্যে শিক্ষক হওয়া তোমাদের উচিত ছিল, কিন্তু কেহ যে তোমাদিগকে ঈশ্বরীয় বচনকলাপের আদিম কথার অক্ষরমালা শিক্ষা দেয়, ইহা তোমাদের পক্ষে পুনর্ব্বার আবশ্যক হইয়াছে; এবং তোমরা এমন লোক হইয়া পড়িয়াছ, যাহাদের দুগ্ধে প্রয়োজন, কঠিন খাদ্যে নয়।
কিন্তু, প্রিয়তমেরা, যদ্যপি আমরা এইরূপ বলিতেছি, তথাপি তোমাদের বিষয়ে এমন দৃঢ় প্রত্যয় করিতেছি যে, তোমাদের অবস্থা ইহা অপেক্ষা ভাল এবং পরিত্রাণসহযুক্ত।
এবং আইস, আমরা পরস্পর মনোযোগ করি, যেন প্রেম ও সৎক্রিয়ার সম্বন্ধে পরস্পকে উদ্দীপিত করিয়া তুলিতে পারি;
আর ইহারই জন্য তোমরা সম্পূর্ণ যত্ন প্রয়োগ করিয়া আপনাদের বিশ্বাসে
এই কারণ আমি তোমাদিগকে এই সকল সর্ব্বদা স্মরণ করাইয়া দিতে প্রস্তুত থাকিব; যদিও তোমরা এ সকল জান, এবং বর্ত্তমান সত্যে সুস্থিরও আছ।
তোমরা সত্য জান না বলিয়া যে আমি তোমাদিগকে লিখিলাম, তাহা নয়; বরং সত্য জান, এবং কোন মিথ্যা কথা সত্য হইতে হয় না বলিয়া লিখিলাম।
কিন্তু, প্রিয়তমেরা, তোমরা আপনাদের পরম পবিত্র বিশ্বাসের উপরে আপনাদিগকে গাঁথিয়া তুলিতে তুলিতে, পবিত্র আত্মাতে প্রার্থনা করিতে করিতে,