আমার মস্তকের উপর দিয়া জল বহিল; আমি কহিলাম, আমি উচ্ছিন্ন হইয়াছি।
Cross references
আমার আয়ু গত, আমার অভিপ্রায় সকল ভগ্ন, আমার মনোরথ সকল ভগ্ন হইয়াছে।
অন্ধকার হইয়াছে, তুমি দেখিতে পাইতেছ না, জলের বন্যা তোমাকে আচ্ছন্ন করিয়াছে।
আমি মৃত্যুর রজ্জুতে পরিবেষ্টিত ছিলাম, পাষণ্ডতার বন্যাতে আশঙ্কিত ছিলাম।
আমি অধৈর্য্য হেতু বলিয়াছিলাম, আমি তোমার নয়নগোচর হইতে বিচ্ছিন্ন, কিন্তু তোমার উদ্দেশে আর্ত্তনাদ করিলে তুমি আমার বিনতির রব শ্রবণ করিলে।
হে ঈশ্বর, আমাকে পরিত্রাণ কর, কেননা আমার প্রাণ পর্য্যন্ত জল উঠিয়াছে।
জলের বন্যা আমার উপর ছাপিয়া না উঠুক, অগাধ জল আমাকে গ্রাস না করুক; আমার উপরে কূপ আপন মুখ বদ্ধ না করুক।
তখন জল আমাদিগকে প্লাবিত করিত, স্রোত আমাদের প্রাণের উপর দিয়া বহিত;
আমি বলিলাম, আমার আয়ুর মধ্যাহ্নে আমি পাতালের পুরদ্বারে প্রবেশ করিব, আমার বৎসরশ্রেণীর অবশিষ্টাংশে বঞ্চিত হইলাম।
তিনি উপদ্রব ও বিচার দ্বারা অপনীত হইলেন; তৎকালীয়দের মধ্যে কে ইহা আলোচনা করিল যে, তিনি জীবিতদের দেশ হইতে উচ্ছিন্ন হইলেন? আমার জাতির অধর্ম্ম প্রযুক্তই তাঁহার উপরে আঘাত পড়িল।
আমি কহিলাম, আমার বল ও সদাপ্রভুতে আমার প্রত্যাশা নষ্ট হইয়াছে।
পরে তিনি আমাকে কহিলেন, হে মনুষ্য-সন্তান, এই সকল অস্থি সমস্ত ইস্রায়েল-কুল; দেখ, তাহারা বলিতেছে, আমাদের অস্থি সকল শুষ্ক হইয়া গিয়াছে, এবং আমাদের আশ্বাস নষ্ট হইয়াছে; আমরা একেবারে উচ্ছিন্ন হইলাম।
তুমি আমাকে অগাধ জলে, সমুদ্র-গর্ভে, নিক্ষেপ করিলে, আর স্রোত আমাকে বেষ্টন করিল, তোমার সকল ঢেউ, তোমার সকল তরঙ্গ, আমার উপর দিয়া গেল।
আমি কহিলাম, আমি তোমার নয়নগোচর হইতে দূরীভূত, তথাপি পুনরায় তোমার পবিত্র মন্দিরের দিকে দৃষ্টিপাত করিব।
জলরাশি আমাকে ঘেরিল, প্রাণ পর্য্যন্ত উঠিল, জলধি আমাকে বেষ্টন করিল, মৃণাল আমার মস্তকে জড়াইল।
কেননা যে কেহ যাচ্ঞা করে, সে গ্রহণ করে, এবং যে অন্বেষণ করে, সে পায়; আর যে দ্বারে আঘাত করে, তাহার জন্য খুলিয়া দেওয়া যাইবে।
কারণ, হে ভ্রাতৃগণ, এশিয়ায় আমাদের যে ক্লেশ ঘটিয়াছিল, তোমরা যে সে বিষয় অজ্ঞাত থাক, ইহা আমাদের ইচ্ছা নয়; ফলতঃ আত্যন্তিক দুঃখভারে আমরা শক্তির অতিরিক্তরূপে ভারগ্রস্ত হইয়া পড়িয়াছিলাম; এমন কি, জীবনের আশাও ছাড়িয়া দিয়াছিলাম;