তিনি প্রজ্ঞার গূঢ় তত্ত্ব তোমাকে জ্ঞাত করুন, কারণ বুদ্ধিকৌশল বহুবিধ; জানিও, ঈশ্বর তোমার অপরাধের অনেকটা ছাড়িয়া দেন।
Cross references
নিগূঢ় বিষয় সকল আমাদের ঈশ্বর সদাপ্রভুর অধিকার; কিন্তু প্রকাশিত বিষয় সকল আমাদের ও যুগে যুগে আমাদের সন্তানদের অধিকার, যেন এই ব্যবস্থার সমস্ত কথা আমরা পালন করিতে পারি।
কিন্তু আমাদের সকল দুষ্ক্রিয়া ও মহাদোষ প্রযুক্ত আমাদের প্রতি এই সমস্ত ঘটিয়াছে; তথাপি, হে আমাদের ঈশ্বর, তুমি আমাদের অপরাধের দণ্ড লঘু করিয়াছ, অধিকন্তু কতক লোক আমাদিগকে রক্ষিত হইতে দিয়াছ;
তিনি চিত্তে জ্ঞানবান ও বলে পরাক্রান্ত; তাঁহার প্রতিরোধ করিয়া কে পার পাইয়াছে?
তোমারই মুখ তোমার অপরাধ ব্যক্ত করে, তুমি ধূর্ত্তদের জিহ্বা মনোনীত করিতেছ।
তুমি কি ঈশ্বরের গূঢ় মন্ত্রণা শুনিয়াছ? সমস্ত প্রজ্ঞা কি আত্মসাৎ করিয়াছ?
ঈশ্বরের সান্ত্বনাবাক্য কি তোমার জ্ঞানে ক্ষুদ্র? তোমার সহিত কোমল আলাপ কি ক্ষুদ্র?
আর তিনি মনুষ্যকে কহিলেন, দেখ, প্রভুর ভয়ই প্রজ্ঞা, দুষ্ক্রিয়া হইতে সরিয়া যাওয়াই সুবিবেচনা।
দেখুন, এ বিষয়ে আপনি যথার্থবাদী নহেন—আমি আপনাকে উত্তর দিই— কেননা মর্ত্ত্য অপেক্ষা ঈশ্বর মহান্।
সদাপ্রভুর গূঢ় মন্ত্রণা তাঁহার ভয়কারীদের অধিকার, তিনি তাহাদিগকে আপন নিয়ম জানাইবেন।
তিনি আমাদের প্রতি আমাদের পাপানুযায়ী ব্যবহার করেন নাই, আমাদের অধর্ম্মানুযায়ী প্রতিফল আমাদিগকে দেন নাই।
অনেক বার তিনি তাহাদিগকে উদ্ধার করিলেন, কিন্তু তাহারা আপনাদের মন্ত্রণায় বিদ্রোহী হইল, ও আপনাদের অপরাধে ক্ষীণ হইয়া পড়িল।
সদাপ্রভুর বিবিধ দয়ার গুণে আমরা নষ্ট হই নাই; কেননা তাঁহার বিবিধ করুণা শেষ হয় নাই।
কিন্তু ঈশ্বর স্বর্গে আছেন, তিনি নিগূঢ় বিষয় প্রকাশ করেন, আর উত্তরকালে যাহা যাহা ঘটিবে, তাহা তিনি মহারাজ নবূখদ্নিৎসরকে জানাইয়াছেন। আপনার স্বপ্ন এবং শয্যার উপরে আপনার মনের দর্শন এই।
রাজা দানিয়েলকে কহিলেন, সত্যই তোমাদের ঈশ্বর দেবগণের ঈশ্বর, রাজাদের প্রভু ও নিগূঢ়তত্ত্বপ্রকাশক, কেননা তুমি এই নিগূঢ়তত্ত্বের বিষয় প্রকাশ করিতে সমর্থ হইয়াছ।
যেন ভাববাদীর দ্বারা কথিত এই বচন পূর্ণ হয়, “আমি দৃষ্টান্ত কথায় আপন মুখ খুলিব, জগতের পত্তনাবধি যাহা যাহা গুপ্ত আছে, সে সকল ব্যক্ত করিব।”
যিনি তোমাদিগকে সুস্থির করিতে সমর্থ—আমার সুসমাচার অনুসারে ও যীশু খ্রীষ্ট-বিষয়ক প্রচার অনুসারে, সেই নিগূঢ়তত্ত্বের প্রকাশ অনুসারে, যাহা অনাদি কাল অবধি অকথিত ছিল,
কিন্তু, যেমন লেখা আছে, “চক্ষু যাহা দেখে নাই, কর্ণ যাহা শুনে নাই, এবং মনুষ্যের হৃদয়াকাশে যাহা উঠে নাই। যাহা ঈশ্বর, যাহারা তাঁহাকে প্রেম করে, তাহাদের জন্য প্রস্তুত করিয়াছেন।”
বিগত পুরুষপরম্পরায় সেই নিগূঢ়তত্ত্ব মনুষ্যসন্তানদিগকে এইরূপে জ্ঞাত করা যায় নাই, যেরূপে এখন আত্মাতে তাঁহার পবিত্র প্রেরিত ও ভাববাদিগণের নিকটে প্রকাশিত হইয়াছে।