কত দিন দেশ শোক করিবে ও সমস্ত ক্ষেত্রের তৃণ শুষ্ক থাকিবে? দেশনিবাসীদের দুষ্টতা প্রযুক্ত পশু ও পক্ষিগণের সংহার হইতেছে; কারণ লোকেরা বলে, সে আমাদের শেষ দশা দেখিবে না।
Cross references
তুমি এই সকল করিয়াছ, আমি নীরব হইয়া রহিয়াছি; তুমি মনে করিয়াছ, আমি তোমারই মতন; আমি তোমাকে ভর্ৎসনা করিব, ও তোমার সাক্ষাতে সমস্তের বিন্যাস করিব।
তিনি ফলবান দেশকে লবণ-প্রান্তর করেন, তথাকার নিবাসীদের কদাচরণ প্রযুক্ত।
পৃথিবী শোকান্বিত ও নিস্তেজ হইল, জগৎ ম্লান ও নিস্তেজ হইল, পৃথিবীস্থ লোকদের উচ্চতমেরা ম্লান হইল।
এই কারণ অভিশাপ পৃথিবীকে গ্রাস করিল, ও তন্নিবাসিগণ দোষী সাব্যস্ত হইল; এই কারণ পৃথিবী-নিবাসীরা দগ্ধ হইল, অল্প লোকই অবশিষ্ট আছে।
আমি দৃষ্টিপাত করিলাম, আর দেখ, মনুষ্যমাত্র নাই, এবং আকাশের সমস্ত পক্ষী পলাইয়া গিয়াছে।
এই জন্য পৃথিবী শোক করিবে, উপরিস্থ আকাশমণ্ডল কৃষ্ণবর্ণ হইবে; কারণ আমি ইহা বলিয়াছি, ইহা মনে স্থির করিয়াছি, এ বিষয়ে অনুশোচনা করি নাই, ইহা হইতে ফিরিব না।
আর ভাববাদিগণ বায়ুবৎ হইবে, তাহাদের মধ্যে বাক্য নাই, তাহাদেরই প্রতি এইরূপ করা যাইবে।’
ভাববাদিগণ মিথ্যা ভাববাণী বলে, আর যাজকগণ তাহাদের বশবর্ত্তী হইয়া কর্ত্তৃত্ব করে; আর আমার প্রজারা এই রীতি ভালবাসে; কিন্তু ইহার পরিণামে তোমরা কি করিবে?
এই জন্য প্রভু সদাপ্রভু এই কথা কহেন, দেখ, এই স্থানের উপরে, মনুষ্য, পশু এবং ক্ষেত্রের বৃক্ষ ও ভূমির ফল, এই সকলের উপরে আমার ক্রোধ ও কোপ ঢালা যাইবে; আর তাহা দাহন করিবে, নিবিয়া যাইবে না।
সদাপ্রভু কহেন, আমি কি তাহাদিগকে এই সকলের প্রতিফল দিব না? আমার প্রাণ কি এই প্রকার জাতির প্রতিশোধ দিবে না?
আমি পর্ব্বতগণের বিষয়ে রোদন ও হাহাকার করিব, প্রান্তরস্থ চরাণিস্থানের বিষয়ে বিলাপ করিব, কেননা সে সকল দগ্ধ ও পথিকবিহীন হইল; পশুপালের রব আর শুনা যায় না, আকাশের পক্ষিগণ ও পশু সকল পলায়ন করিয়াছে, চলিয়া গিয়াছে।
যিহূদা শোক করিতেছে, তাহার নগরদ্বার সকল জীর্ণ হইতেছে, সে সকল মলিন বেশে ভূমিতে বসিয়া আছে; আর যিরূশালেমের আর্ত্তরব ঊর্দ্ধে উঠিতেছে।
কেননা দেশ ব্যভিচারিগণে পরিপূর্ণ; হাঁ, অভিশাপের কারণ দেশ শোক করিতেছ; প্রান্তরস্থ চরাণিস্থান সকল শুষ্ক হইয়াছে; এবং লোকদের ধাবন-পথ মন্দ হইয়াছে, ও তাহাদের পরাক্রম ন্যায়সঙ্গত নয়।
হে মনুষ্য-সন্তান, প্রভু সদাপ্রভু ইস্রায়েল-দেশের বিষয়ে এই কথা কহেন, পরিণাম; দেশের চারি কোণে পরিণাম আসিতেছে।
এই জন্য দেশ শোকাকুল হইবে, এবং মাঠের পশু ও আকাশের পক্ষিশুদ্ধ দেশনিবাসিগণ সকলে ম্লান হইবে, আর সমুদ্রের মৎস্যদেরও সংহার হইবে।
ক্ষেত্র বিনষ্ট, ভূমি শোকান্বিত, কেননা শস্য বিনষ্ট হইয়াছে, নূতন দ্রাক্ষারস শুষ্ক এবং তৈল লুপ্ত হইয়াছে।
পশুগণ কেমন কোঁকাইতেছে! বৃষপাল ব্যাকুল হইতেছে, কেননা তাহাদের চরাণীস্থান নাই; মেষপালও দণ্ডভোগ করিতেছে।
যদিও ডুমুরবৃক্ষ পুষ্পিত হইবে না, দ্রাক্ষালতায় ফল ধরিবে না, জিতবৃক্ষ ফলদানে বঞ্চনা করিবে, ও ক্ষেত্রে খাদ্যদ্রব্য উৎপন্ন হইবে না, খোঁয়াড় হইতে মেষপাল উচ্ছিন্ন হইবে, গোষ্ঠে গোরু থাকিবে না;
কারণ আমরা জানি, সমস্ত সৃষ্টি এখন পর্য্যন্ত একসঙ্গে আর্ত্তস্বর করিতেছে, ও একসঙ্গে ব্যথা খাইতেছে।