আমার হৃদয় দুপ্ দুপ্ করিতেছে, মহাত্রাস আমাকে ভয়গ্রস্ত করিতেছে; আমি যে সন্ধ্যাকাল ভালবাসিয়াছিলাম, তাহা তিনি আমার পক্ষে ভয়ানক করিলেন।
Cross references
তুমি হৃদয়ে যে শঙ্কা করিবে ও চক্ষুতে যে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখিবে, তৎপ্রযুক্ত প্রাতঃকালে বলিবে, হায় হায়, কখন্ সন্ধ্যা হইবে? এবং সন্ধ্যাকালে বলিবে, হায় হায়, কখন্ প্রাতঃকাল হইবে?
পরে অবীগল নাবলের নিকটে আসিল; আর দেখ, রাজভোজের মত তাহার গৃহে ভোজ হইতেছিল, এবং নাবল প্রফুল্লচিত্ত ছিল, সে অতিশয় মত্ত হইয়াছিল; এই জন্য অবীগল রাত্রি প্রভাতের পূর্ব্বে ঐ বিষয়ের অল্প কি অধিক কিছুই তাহাকে কহিল না।
পরে অবশালোম আপন চাকরদিগকে এই আজ্ঞা দিল, দেখিও, দ্রাক্ষারসে অম্নোনের চিত্ত প্রফুল্ল হইলে যখন আমি তোমাদিগকে বলিব, অম্নোনকে মার, তখন তোমরা তাহাকে বধ করিও, ভীত হইও না। আমি কি তোমাদিগকে আজ্ঞা দিই নাই? তোমরা সাহস কর, বীর্য্যবান হও।
তখন আদোনিয়ের সঙ্গী নিমন্ত্রিত লোকেরা সকলে ভীত হইয়া প্রত্যেক জন উঠিয়া আপন আপন পথে চলিয়া গেল।
হামন আরও কহিল, ইষ্টের রাণী আপনার প্রস্তুত ভোজে রাজার সহিত আর কাহাকেও আনান নাই, কেবল আমাকেই আনাইয়া ছিলেন; কল্যও আমি রাজার সহিত তাঁহার কাছে নিমন্ত্রিত আছি।
ইষ্টের কহিলেন, এক জন বিপক্ষ ও শত্রু, সে এই দুষ্ট হামন। তখন হামন রাজার ও রাণীর সাক্ষাতে ত্রাসযুক্ত হইল।
তাহারা আপন আপন শিশুদিগকে মেষপালের ন্যায় বাহিরে চালায়, তাহাদের সন্তানগণ নৃত্য করে।
আমি কহিলাম, আহা! যদি কপোতের ন্যায় আমার পক্ষ হইত, তবে আমি উড়িয়া গিয়া সুস্থির হইতাম;
ধিক্ তাহাদিগকে, যাহারা খুব সকালে উঠে, যেন সুরার অনুধাবন করিতে পারে; যাহারা অনেক রাত্রি বসিয়া থাকে, যাবৎ না দ্রাক্ষারস তাহাদিগকে উত্তপ্ত করে!
‘হায় আমার অন্ত্র! হায় আমার অন্ত্র! আমি হৃদয়ে ব্যথিত; আমার হৃদয় ধুক্ ধুক্ করিতেছে; আমি নীরব থাকিতে পারি না; কেননা হে আমার প্রাণ, তুমি তূরীর রব ও যুদ্ধের সিংহনাদ শুনিয়াছ।
তাহারা উত্তপ্ত হইলে পর আমি তাহাদের ভোজ প্রস্তুত করিব, ও তাহাদিগকে মত্ত করিব; যেন তাহারা উল্লাস করে ও চিরনিদ্রায় নিদ্রিত হয়, আর জাগরিত না হয়, ইহা সদাপ্রভু কহেন।
আর আমি তাহার অধ্যক্ষগণকে, তাহার জ্ঞানবানদিগকে, তাহার দেশাধ্যক্ষগণকে, তাহার শাসনকর্ত্তৃগণকে ও তাহার বীরগণকে মত্ত করিব; তাহাতে তাহারা চিরনিদ্রায় নিদ্রিত হইবে, আর জাগরিত হইবে না, ইহা রাজা বলেন, যাঁহার নাম বাহিনীগণের সদাপ্রভু।
রাজা বেল্শৎসর আপনার সহস্র মহল্লোকের নিমিত্ত মহাভোজ প্রস্তুত করিলেন, এবং সেই সহস্রের সাক্ষাতে দ্রাক্ষারস পান করিলেন।
সেই দণ্ডে মনুষ্য-হস্তের অঙ্গুলি-কলাপ আসিয়া রাজপ্রাসাদের ভিত্তির প্রলেপের উপরে দীপাধারের সম্মুখে লিখিতে লাগিল; এবং যে হস্তাগ্র লিখিতেছিল, তাহা রাজা দেখিলেন।
সেই রাত্রিতে কল্দীয় রাজা বেল্শৎসর হত হন।
কেননা, জড়িত কন্টকের ন্যায় ও মদ্যপানে আর্দ্র হইলেও, তাহারা শুষ্ক খড়ের ন্যায় নিঃশেষে অগ্নি-ভক্ষিত হইবে।
কিন্তু আপনাদের বিষয়ে সাবধান থাকিও, পাছে ভোগপীড়ায় ও মত্ততায় এবং জীবিকার চিন্তায় তোমাদের হৃদয় ভারগ্রস্ত হয়, আর সেই দিন হঠাৎ ফাঁদের ন্যায় তোমাদের উপরে আসিয়া পড়ে;