আর ইস্রায়েল-সন্তানেরা তাঁহাদিগকে কহিল, হায়, হায়, আমরা মিসর দেশে সদাপ্রভুর হস্তে কেন মরি নাই? তখন মাংসের হাঁড়ীর কাছে বসিতাম, তৃপ্তি পর্য্যন্ত রুটী ভোজন করিতাম; তোমরা ত এই সমস্ত সমাজকে ক্ষুধায় মারিয়া ফেলিতে আমাদিগকে বাহির করিয়া এই প্রান্তরে আনিয়াছ।
Cross references
অনেক দিন পরে মিসর-রাজের মৃত্যু হইল, এবং ইস্রায়েল-সন্তানগণ দাস্যকর্ম্ম প্রযুক্ত কাতরোক্তি ও ক্রন্দন করিল, এবং দাস্যকর্ম্ম জন্য তাহাদের আর্ত্তনাদ ঈশ্বরের নিকটে উঠিল।
তাহারা তাঁহাদিগকে কহিল, সদাপ্রভু তোমাদের প্রতি দৃষ্টি করিয়া বিচার করুন, কেননা তোমরা ফরৌণের দৃষ্টিতে ও তাঁহার দাসগণের দৃষ্টিতে আমাদিগকে দুর্গন্ধস্বরূপ করিয়া আমাদের প্রাণনাশার্থে তাহাদের হস্তে খড়গ দিয়াছ।
আর তাহারা মোশিকে কহিল, মিসরে কবর নাই বলিয়া তুমি কি আমাদিগকে লইয়া আসিলে, যেন আমরা প্রান্তরে মরিয়া যাই? তুমি আমাদের সহিত এ কেমন ব্যবহার করিলে? কেন আমাদিগকে মিসর হইতে বাহির করিলে?
তখন লোকেরা সেই স্থানে জলপিপাসায় ব্যাকুল হইল, আর মোশির বিরুদ্ধে বচসা করিয়া কহিল, তুমি আমাদিগকে এবং আমাদের সন্তানগণকে ও পশুগণকে তৃষ্ণা দ্বারা বধ করিতে মিসর হইতে কেন আনিলে?
আর তাহাদের মধ্যবর্ত্তী মিশ্রিত লোকেরা লোভাক্রান্ত হইয়া উঠিল; আর ইস্রায়েল-সন্তানগণও পুনর্ব্বার রোদন করিয়া কহিল, কে আমাদিগকে ভক্ষণার্থে মাংস দিবে?
আমরা মিসর দেশে বিনামূল্যে যে যে মাছ খাইতাম, তাহা এবং সশা, খরবুজ, পরু, পলাণ্ডু ও লশুন মনে পড়িতেছে।
তুমি যদি আমার প্রতি এরূপ ব্যবহার কর, তবে বিনয় করি, আমি তোমার দৃষ্টিতে যদি অনুগ্রহ পাইয়া থাকি, আমাকে একবারে বধ কর; আমি যেন আমার দুর্গতি না দেখি।
সম্পূর্ণ এক মাস পর্য্যন্ত, যাবৎ তাহা তোমাদের নাসিকা হইতে নির্গত না হয় ও তোমাদের ঘৃণিত না হয়, তাবৎ খাইবে; কেননা তোমরা আপনাদের মধ্যবর্ত্তী সদাপ্রভুকে অগ্রাহ্য করিয়াছ, এবং তাঁহার সম্মুখে রোদন করিয়া এই কথা বলিয়াছ, ‘আমরা কেন মিসর হইতে বাহির হইয়া আসিয়াছি?’
আর ইস্রায়েল-সন্তানগণ সকলে মোশির বিপরীতে ও হারোণের বিপরীতে বচসা করিল, ও সমস্ত মণ্ডলী তাঁহাদিগকে কহিল, হায় হায়, আমরা কেন মিসর দেশে মরি নাই;
ইহা কি ক্ষুদ্র বিষয় যে, তুমি আমাদিগকে প্রান্তরে মারিবার জন্য দুগ্ধমধুপ্রবাহী দেশ হইতে আনিয়াছ? তুমি কি আমাদের উপরে সর্ব্বতোভাবে কর্ত্তৃত্বও করিবে?
তথাপি পর দিনে ইস্রায়েল-সন্তানগণের সমস্ত মণ্ডলী মোশির ও হারোণের প্রতিকূলে বচসা করিয়া কহিল, তোমরাই সদাপ্রভুর প্রজাদিগকে বধ করিলে।
আর তাহারা মোশির সহিত বিবাদ করিয়া কহিল, হায়, আমাদের ভ্রাতৃগণ যখন সদাপ্রভুর সম্মুখে মরিয়া গেল, তখন কেন আমাদের মৃত্যু হইল না?
আর তোমরা আমাদের ও আমাদের পশুদের মৃত্যুর জন্য সদাপ্রভুর সমাজকে কেন এই প্রান্তরে আনিলে?
আর লোকেরা ঈশ্বরের প্রতিকূলে ও মোশির প্রতিকূলে কহিতে লাগিল, তোমরা কেন আমাদিগকে মিসর হইতে বাহির করিয়া আনিলে, যেন আমরা প্রান্তরে মরিয়া যাই? রুটীও নাই, জলও নাই; আর আমাদের প্রাণ এই লঘু ভক্ষ্য ঘৃণা করে।
তিনি তোমাকে নত করিলেন, ও তোমাকে ক্ষুধিত করিয়া তোমার অজ্ঞাত ও তোমার পিতৃপুরুষদের অজ্ঞাত মান্না দিয়া প্রতিপালন করিলেন; যেন তিনি তোমাকে জানাইতে পারেন যে, মনুষ্য কেবল রুটীতে বাঁচে না, কিন্তু সদাপ্রভুর মুখ হইতে যাহা যাহা নির্গত হয়, তাহাতেই মনুষ্য বাঁচে।
তুমি হৃদয়ে যে শঙ্কা করিবে ও চক্ষুতে যে ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখিবে, তৎপ্রযুক্ত প্রাতঃকালে বলিবে, হায় হায়, কখন্ সন্ধ্যা হইবে? এবং সন্ধ্যাকালে বলিবে, হায় হায়, কখন্ প্রাতঃকাল হইবে?
আর যিহোশূয় কহিলেন, হায় হায়, হে প্রভু সদাপ্রভু, বিনাশার্থে ইমোরীয়দের হস্তে আমাদিগকে সমর্পণ করিবার জন্য তুমি কেন এই লোকদিগকে যর্দ্দন পার করিয়া আনিলে? হায় হায়, আমরা কেন সন্তুষ্ট হইয়া যর্দ্দনের ওপারে থাকি নাই!
তখন রাজা অধৈর্য্য হইয়া নগর-দ্বারের ছাদের উপরিস্থ কুঠরীতে উঠিয়া রোদন করিতে লাগিলেন; এবং গমন করিতে করিতে কহিলেন, হায়! আমার পুত্র অবশালোম! আমার পুত্র, আমার পুত্র অবশালোম! কেন তোমার পরিবর্ত্তে আমি মরি নাই? হায় অবশালোম! আমার পুত্র! আমার পুত্র!
তৎপরে ইয়োব মুখ খুলিয়া আপনার জন্মদিনকে শাপ দিতে লাগিলেন।
কেননা সে মম জননীর জঠরের কবাট বদ্ধ করে নাই আমার চক্ষু হইতে কষ্ট গুপ্ত রাখে নাই।
দুঃখার্ত্তকে কেন দীপ্তি দেওয়া হয়? তিক্তপ্রাণকে কেন জীবন দেওয়া হয়?
আর তাহারা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে কথা কহিল, বলিল, ঈশ্বর কি প্রান্তরে মেজ সাজাইয়া দিতে পারেন?
তাহারা ক্ষুধিত ও তৃষ্ণার্ত্ত হইল, তাহাদের প্রাণ অন্তরে মুর্চ্ছাপন্ন হইল।
সেই সদাপ্রভু কোথায়, যিনি মিসর দেশ হইতে আমাদিগকে বাহির করিয়া আনিয়াছিলেন, যিনি প্রান্তরের মধ্য দিয়া, মরুভূমি ও গর্ত্তময় ভূমি দিয়া, জলবিহীনতার ও মৃত্যুচ্ছায়ার ভূমি দিয়া পথিকবিহীন ও নিবাসী-বর্জ্জিত ভূমি দিয়া, আমাদিগকে লইয়া আসিয়াছিলেন?
আমি যে দিন জন্মিয়াছিলাম, সেই দিন শাপগ্রস্ত হউক; আমার মাতা যে দিন আমাকে প্রসব করিয়াছিলেন, সেই দিন আশীর্ব্বাদ বিহীন হউক।
ক্ষুধাতে নিহত লোক অপেক্ষা বরং খড়্গে নিহত লোক ধন্য, কেননা ইহারা ক্ষেত্রের শস্যের অভাবে যেন শূলে বিদ্ধ হইয়া ক্ষয় পাইতেছে।
পরে যখন সূর্য্য উঠিল, ঈশ্বর উষ্ণ পূর্ব্বীয় বায়ু নিরূপণ করিলেন, তাহাতে যোনার মস্তকে এমন রৌদ্র লাগিল যে, তিনি পরিক্লান্ত হইয়া আপন মৃত্যু প্রার্থনা করিয়া কহিলেন, আমার জীবন অপেক্ষা মরণ ভাল।
পৌল কহিলেন, ঈশ্বরের কাছে এই প্রার্থনা করিতেছি, অল্পে হউক কি অধিকে হউক, কেবল আপনি নন, কিন্তু অন্য যত লোক অদ্য আমার কথা শুনিতেছেন, সকলেই যেন এই বন্ধন ছাড়া আমি যেমন, তেমনি হন।
এখন ধনবান্ হইয়াছ! আমাদের ছাড়া রাজত্ব পাইয়াছ! আর রাজত্ব পাইলে ভালই হইত, তোমাদের সহিত আমরাও রাজত্ব পাইতাম।
আমার ইচ্ছা, যেন একটু নির্ব্বুদ্ধিতার বিষয়ে তোমরা আমার প্রতি সহিষ্ণুতা কর; তোমরা আমার প্রতি সহিষ্ণুতা করিতেছই ত।