ইহাও বিষম অনিষ্ট; সে যেমন আইসে, সর্ব্বতোভাবে তেমনি যায়; অতএব বায়ুর নিমিত্ত পরিশ্রম করিলে পর তাহার কি ফল দেখিবে?
Cross references
সরিয়া যাইও না, গেলে সেই সকল অবস্তুর অনুগামী হইবে, যাহারা অবস্তু বলিয়া উপকার ও উদ্ধার করিতে পারে না।
যে নিজ পরিবারের কন্টক, সে বায়ু অধিকার করে; আর অজ্ঞান বিজ্ঞচিত্তের দাস হয়।
মনুষ্য সূর্য্যের নীচে যে পরিশ্রমে পরিশ্রান্ত হয়, তাহার সেই সমস্ত পরিশ্রমে তাহার কি ফল দেখিতে পায়?
ইহাও অসার ও বড় মন্দ। তবে সূর্য্যের নীচে মনুষ্য যে সকল পরিশ্রমে ও হৃদয়ের উদ্বেগে পরিশ্রান্ত হয়, তাহাতে তাহার কি ফল দর্শে?
সূর্য্যের নীচে আমি এই বিষম অনিষ্ট দেখিয়াছি যে, ধনস্বামীর অনিষ্টের জন্যই ধন রক্ষিত হয়;
আমরা গর্ভিণী হইয়াছি, আমরা ব্যথা খাইয়াছি, যেন বায়ু প্রসব করিয়াছি; আমাদের দ্বারা দেশে পরিত্রাণ সিদ্ধ হয় নাই, জগন্নিবাসীরা ভূমিষ্ঠ হয় নাই।
যাজকেরা বলে নাই, ‘সদাপ্রভু কোথায়?’ এবং যাহারা ব্যবস্থা হাতে করে, তাহারা আমাকে জানে নাই, পালকেরা আমার বিরুদ্ধে অধর্ম্মাচরণ করিয়াছে, ভাববাদিগণ বাল [দেবের] নাম লইয়া ভাববাণী বলিয়াছে, এবং এমন পদার্থের পশ্চাদগামী হইয়াছে, যাহাতে উপকার নাই।
কেননা তাহারা বায়ুরূপ বীজ বপন করে, ঝঞ্ঝারূপ শস্য কাটিবে; তাহার ক্ষেত্রে শস্য নাই; চারা শস্য দিবে না; শস্য দিলেও বিদেশিগণ তাহা গ্রাস করিবে।
বস্তুতঃ মনুষ্য যদি সমুদয় জগৎ লাভ করিয়া আপন প্রাণ খোয়ায়, তবে তাহার কি লাভ হইবে?
নশ্বর ভক্ষ্যের নিমিত্ত শ্রম করিও না, কিন্তু সেই ভক্ষ্যের জন্য শ্রম কর, যাহা অনন্ত জীবন পর্য্যন্ত থাকে, যাহা মনুষ্যপুত্র তোমাদিগকে দিবেন, কেননা পিতা —ঈশ্বর—তাঁহাকেই মুদ্রাঙ্কিত করিয়াছেন।