তখন ঈশ্বর শলোমনকে কহিলেন, ইহাই তোমার মনে উদয় হইয়াছে; তুমি ঐশ্বর্য্য, সম্পত্তি, গৌরব কিম্বা বৈরীদের প্রাণ যাচ্ঞা কর নাই, দীর্ঘায়ুও যাচ্ঞা কর নাই; কিন্তু আমি আমার যে প্রজাদের উপরে তোমাকে রাজা করিয়াছি, তুমি তাহাদের বিচার করিবার জন্য আপনার নিমিত্ত বুদ্ধি ও জ্ঞান যাচ্ঞা করিয়াছ।
Cross references
কিন্তু সদাপ্রভু শমূয়েলকে কহিলেন, তুমি উহার মূখশ্রীর বা কায়িক দীর্ঘতার প্রতি দৃষ্টি করিও না; কারণ আমি উহাকে অগ্রাহ্য করিলাম। কেননা মনুষ্য যাহা দেখে, তাহা কিছু নয়; যেহেতু মনুষ্য প্রত্যক্ষ বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি করে, কিন্তু সদাপ্রভু অন্তঃকরণের প্রতি দৃষ্টি করেন।
আর ঈশ্বর তাঁহাকে কহিলেন, তুমি এই বিষয় যাচ্ঞা করিয়াছ, আপনার জন্য দীর্ঘায়ু যাচ্ঞা কর নাই, আপনার জন্য ঐশ্বর্য্য যাচ্ঞা কর নাই; এবং আপন শত্রুগণের প্রাণ যাচ্ঞা কর নাই; কিন্তু বিচার শ্রবণার্থে আপনার জন্য বুদ্ধি যাচ্ঞা করিয়াছ; এই কারণ দেখ, আমি তোমার বাক্যানুসারেই করিলাম।
রাজা বিচারের এই নিষ্পত্তি করিলেন, তাহা শুনিয়া সমস্ত ইস্রায়েল রাজা হইতে ভীত হইল; কেননা তাহারা দেখিতে পাইল, বিচার করণার্থে তাঁহার অন্তরে ঈশ্বরদত্ত জ্ঞান আছে।
কিন্তু সদাপ্রভু আমার পিতা দায়ূদকে কহিলেন, আমার নামের উদ্দেশে এক গৃহ নির্ম্মাণ করিতে তোমার মানস হইয়াছে; তোমার এইরূপ মনস্থ করা ভালই বটে।
আর ঈশ্বর শলোমনের চিত্তে যে জ্ঞান দিয়াছিলেন, তাঁহার সেই জ্ঞানের উক্তি শুনিবার জন্য সর্ব্বদেশীয় লোক তাঁহার সহিত সাক্ষাৎ করিতে চেষ্টা করিত।
তখন দায়ূদ রাজা চরণে ভর দিয়া দাঁড়াইয়া কহিলেন, হে আমার ভ্রাতৃগণ ও আমার প্রজাগণ, আমার কথা শুন; সদাপ্রভুর নিয়ম-সিন্দুকের জন্য ও আমাদের ঈশ্বরের পাদপীঠের জন্য এক বিশ্রাম-গৃহ নির্ম্মাণ করিতে আমার মনোরথ হইয়াছিল; এবং আমি নির্ম্মাণার্থ আয়োজনও করিয়াছিলাম।
আর আমি জানি, হে আমার ঈশ্বর, তুমি অন্তঃকরণের পরীক্ষা করিয়া থাক, ও তুমি সরলতায় প্রসন্ন; আমি আপন অন্তঃকরণের সরলতায় ইচ্ছাপূর্ব্বক এই সকল দ্রব্য দিলাম, এবং এখন এই স্থানে সমাগত তোমার প্রজাদিগকেও আনন্দ সহকারে তোমার উদ্দেশে ইচ্ছাপূর্ব্বক দান করিতে দেখিলাম।
আমা দ্বারা রাজগণ রাজত্ব করেন, মন্ত্রিগণ ধর্ম্মব্যবস্থা স্থাপন করেন।
নিজ পথ বুঝিয়া লওয়া সতর্কের প্রজ্ঞা, কিন্তু হীনবুদ্ধিদের অজ্ঞানতা ছলমাত্র।
কেননা সে অন্তরে যেমন ভাবে, নিজেও তেমনি; সে তোমাকে বলে, তুমি ভোজন পান কর, কিন্তু তাহার চিত্ত তোমার সহবর্ত্তী নয়।
সেই ভূমি থাকিতে কি তোমারই ছিল না? এবং বিক্রীত হইলে পর কি উহা তোমার নিজ অধিকারে ছিল না? তবে এমন বিষয় তোমার হৃদয়ে কেন ধারণ করিলে? তুমি মনুষ্যদের কাছে মিথ্যা কথা কহিলে, এমন নয়, ঈশ্বরেরই কাছে কহিলে।
কেননা ঈশ্বরের বাক্য জীবন্ত ও কার্য্যসাধক, এবং সমস্ত দ্বিধার খড়্গ অপেক্ষা তীক্ষ্ণ, এবং প্রাণ ও আত্মা, গ্রন্থি ও মজ্জা, এই সকলের বিভেদ পর্য্যন্ত মর্ম্মবেধী, এবং হৃদয়ের চিন্তা ও বিবেচনার সূক্ষ্ম বিচারক;
তোমাদের মধ্যে জ্ঞানবান্ ও বুদ্ধিমান্ কে? সে সদাচরণ দ্বারা জ্ঞানের মৃদুতায় নিজ ক্রিয়া দেখাইয়া দিউক।
কিন্তু যে জ্ঞান উপর হইতে আইসে, তাহা প্রথমে শুচি, পরে শান্তিপ্রিয়, ক্ষান্ত, সহজে অনুনীত, দয়া ও উত্তম উত্তম ফলে পরিপূর্ণ, ভেদাভেদবিহীন ও নিষ্কপট।